
ড. শহীদুল আলম বিলেতে রসায়ন পড়েছেন এবং পড়িয়েছেন। লোকটা একদিন কেমন করে যেন হয়ে গেলেন পুরোদস্তুর ফোটুরে। তারপর হলেন সংগঠক। দৃক, পাঠশালা, ছবিমেলা এসব তারই কীর্তি। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফোটো কন্টেস্টের নিয়মিত বিচারক তিনি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকার উপদেষ্টা পরিষদের সভ্যও তিনি। এই বিশাল পরিচিতি ও খ্যাতির মানুষটাকে আমি চিন্তাম মেঝমামার কল্যাণে। ছোটবেলায় বাংলাদেশ ফোটোগ্রাফিক সোসাইটি থেকে প্রাইজ দেওয়া হয়েছিল আমাকে। ড. শহীদুল আলম তখন ছিলেন সভাপতি।
পিএসপিজের ফোরাম থেকে জানলাম শনিবার (১৬ইমে, ২০০৯) ভদ্রলোক টক দেবেন সেন্ট্রাল মার্কেটের অ্যানেক্সে। Asia-Europe Emerging Photographers’ Forum (ASEF) এর উদ্যোগে কেএল এ শুরু হয়েছে লম্বা অনুষ্ঠানমালা। তারই অংশ হিসেবে এই বক্তৃতাপর্ব, যার শিরোনাম, “The Use of Digital Medium in Journalism and Documentary Photography Today”। রিপির সাথে আগেভাগে হাজির হয়েছি। ভদ্রলোকের বিষয়ে মালেশিয়ানদের ব্যাপক আগ্রহ (আমার গর্বে তো ছাতি ফুলে ছাতা হয়ে যায় যায়!)। হঠাত্ দেখি সবুজ পানজাবী আর সাদা পায়জামা পড়ে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন ঘরে। আমি কিছুটা হামলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "চিনতে পারছেন?" । স্লাইড নিয়ে কিছুটা বিপাকে ছিলেন, বললেন, "একটু পরে কথা বলি?"। আমি খানিকটা দমে গিয়ে বসে পড়লাম। কিছু পরে দেখি নিজেই এসে হাজির, "কোথায় যেন পরিচয়?" । সেই আমি আর এই আমি তফাত্ প্রায় আড়াই ফুট। ওনার চেনার প্রশ্নই আসে না। মামার কথা বলায় সূত্র মেলানো গেল।
ভালো বক্তা ও উপস্থাপক এই মানুষটি। বিলিতি উচ্চারনে ছবি, শব্দ, গল্পে বলে গেলেন। বললেন, ছবি কিভাবে সত্যকে ধারন কিংবা বর্জন করে, কিভাবে প্রযুক্তি ছবির মূল্যায়ন ও গুরুত্বকে বদলে দিচ্ছে, কিভাবে প্রযুক্তি আমাদের কাছে আনছে, ঘুচিয়ে দিচ্ছে ব্যবধান ইত্যাদি ইত্যাদি। টক-টা যতো না ভালো লেগেছে তার চেয়ে বেশী ভালো লেগেছে দেশের মানুষকে দেখে। ক্লিনার/জ্যানিটর ছাড়াও যে বাংলাদেশী আছে, সেটা সবাই দেখুক!!

বক্তৃতা শেষে আব্দার জুড়ে দিলাম। সোমবার সময় দেবেন বলেছেন। বেশী কথা হল না, কারনে আমাকে টানজুং সেপাতে দৌড়াতে হয়েছে, রাতে বিবিকিউ পার্টি ছিল বলে।
পুনশ্চঃ সেমিনারটার কোস্পনসর ছিল নিকন আর আমি গেছি ক্যাননের টিশার্ট পড়ে। আয়োজকরা বিশেষ ভদ্র ছিলেন, না হলে ডলা দিলে আশ্চর্যের কিছু ছিল না.. ;)
----

Dr. Shahidul Alam presenting on “The Use of Digital Medium in Journalism and Documentary Photography Today” at the Asia-Europe Emerging Photographers’ Forum (ASEF) which is co-sponsored by Nikon (Malaysia)
May 16, 2009 @ Central Market Annex, KL, Malaysia
এখানে পড়ে আরাম পেলাম না।
ReplyDeleteক্যাননের টি সার্ট পড়লে দোষ কী?
ReplyDelete