Wednesday, December 3, 2008

ওব্রিগাদো সাও পাওলো - ০১

ভিসা চেয়েছিলাম সাতদিনের, শেষ পর্যন্ত পেলাম একমাসের, এবং মাল্টিপল এন্ট্রি! ট্র্যাভেল এজেন্টের রানার হা করে তাকিয়ে থাকে, জানতে চায় কোথাও ভুল হয়নি তো। না, ভুল হবার কথা না। ভিক্টর হারমেলের কল্যাণে জেফারসন সাহেব আর ঝামেলা করেননি, সাও পাওলো হিয়ার আই কাম!

সাও পাওলো যাবার দুটো পথ, একটা জোহান্সবার্গ হয়ে, আরেকটা দুবাই হয়ে। এমিরাতস্ এর প্রেমে মশগুল ছিলাম এককালে। ঊনচল্লিশ হাজার রি্ঙ্গিত খরচ করে তাই তাদের টিকিটই কাটা হল শেষমেষ..

প্লেনে উঠে হতাশ হতে হল, বাজে প্লেন, সীট ১৮০ ডিগ্রী বাঁকে না পুরো, খাবার যাতা। সাত ঘন্টা কিভাবে পার করবো ভাবতে ভাবতে মুভি লিস্টে চোখ আটকে গেল, ব্রিক লেন! বইটার নাম শুনেছি অনেক, পড়া আর হয়নি। সিনেমা দেখার সুযোগটা পেয়ে বুড়ো বিমানটাকে ক্ষমা করে দিলাম। সিনেমাটা যে খুব আহামরি তা ঠিক না, কিন্তু কাহিনীটা স্পর্শ করে, গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে কেমন করে জানি আমি-তুমি-আমরা ঢুকে যায়। দুঃখ পাওয়ায় আনন্দ আছে, তাকে বহন করাতে নেই। হাত বাড়াই ওয়াইনের গেলাশে.. হতভাগ্য মানুষ শেষে আশ্রয় খোঁজে বিস্বাদ তরলে..

দুবাইতে নেমে দেখলাম চেনা বিমানবন্দরটা বদলে গেছে আমূল। ব্যাগ টানতে টানতে গানচোঙওয়াই আর আমি ঢুকি বিজনেস ক্লাস লাউন্জে। বিজনেম ক্লাস লাউন্জ এর কথা চিন্তা করলে মনে যতোটুকু শান্তিবোধ হয়, আমরা ঠিক ততোখানিই অশান্তির মধ্যে পড়ে গেলাম। বিশাল ছাউনি, কিন্তু হাতে গোনা শৌচাগার। হিসি করতে গেলেও দীর্ঘলাইন, মহাযন্ত্রনা! আর এই যন্ত্রনা সইতে হবে আরো পাঁচ ঘন্টা! সময় কাটাতে ক্যামেরার দোকানে ঢুঁ মারতে যাই। শখ ছিল একটা লেন্স কিনবো, লোকবলে দুবাই-এ সব সস্তা। লোকের কথা সত্য নয়। কি আর করা! লাউন্জের এককোনায় ৬টা এক্সবক্স৩৬০ বসিয়ে একটা গেমিং জোনের মতো তৈরি করেছে। এটা আগে ছিলনা। সময় কাটাতে ক্রিস (গানচোঙওয়াই) আর আমি দুজনে বসে পড়ি গেমপ্যাড নিয়ে..

সাও পাওলোর বিমান যখন এলো তখন অবসাদে শরীর ভেঙ্গে পড়ে প্রায়। বিমান পঁয়ত্রিশ হাজার ফুটে না উঠলে সীট বাঁকানোর নিয়ম নেই। কষ্ট করে বসে থাকি। ঘোড়ামুখী বিমানবালাদের দেখে কতো আর যন্ত্রনা ভোলা যায়! পনের ঘন্টার জার্নি, একটু ঘুমাই, তারপর উঠি, টয়লেটে যাই, দাড়ি কাটি, দাঁত মাজি.. কিন্তু সময় আর যায় না। শেষ বিমানের ভিডিও দেখা শুরু করি। আমার ধারনা ছিল বিমান সৈকত ছুঁয়ে যায়, অন্তত ক্যানাডায় সেভাবেই যেতে দেখেছি। এবার দেখলাম সোজা আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছে। পৌছাতে তখনও ঘন্টা দুয়েক বাকি..

আমার বিশেষ ভয় ছিল কাস্টমস নিয়ে। ল্যাপটপ কিনেছি মুড়িওয়ালার জন্য।সাথে অফিসের একটা। ওয়েবসাইটে বলেছে এরা বিদেশী জিনিসে দুমদাম ট্যাক্স ধরে ফেলে। আমি ভালো মিথ্যা বলতে পারি না, কাস্টমস আটকালে কেলেঙকারী হয়ে যাবে। দুরুদুরু বুকে ইমিগ্রেশনের কিউতে দাড়াই। একটা লক্ষীচেহারা যুবক সীল মারছে। আমাকে দেখে বলে, স্পীক পর্তুগীজ?, মাথা ঝাকাই। যুবক মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে দুম করে সীল মেরে দেয় সবুজ পাসপোর্ট। এই প্রথম কেউ ভুরু কুঁচকে তাকায় না আমার দিকে..

অদ্ভুত আনন্দে আমি পা রাখি লাতিন আমেরিকার এই বিশাল দেশটাতে...

(চলবে)

Wednesday, November 12, 2008

সোনা বালি নীল জল... রেদাং! রেদাং!

মালেশিয়ায় এসে অনেক নেশায় পেয়ে বসেছে, কিন্তু যেটা ধরার একদমই কথা ছিল না শেষে সেটাই জেঁকে ধরলো। সাঁতার পারি না, তার উপরে ছোটবেলায় Jaws দেখে পানিতে নামার প্রতি কঠিনরকম ফোবিয়া তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ঝামেলাটা বাঁধালো ইন্দ্রনীল, তিওমানে গিয়ে সে আধা ন্যাংটা হয়ে মুখে স্নোরকেল কামড়ে, পায়ে ফ্লিপার পড়ে পুটি মাছের মতো নীল পানি দাবড়ে বেড়াতে শুরু করলো। ঠাঠা রোদে মুখ বাঁকা করে যখন বসে আছি তখন সে জিজ্ঞেস করলো, একটা টেরাই দেব নাকি?

সম্ভবত গরমের কারনেই রাজি হয়ে গেলাম, তারপর মনে হল সাঁতার তো পারি না। নৌকাওয়ালা দাঁত বের করে জানালো লাইফভেস্ট পড়ে স্নোরকেলিং করা আরো সহজ।

কোমর পর্যন্ত ডুবতেই শরীর ঠান্ডা হয়ে এলো, এক হাতে শক্ত করে সেফটি লাইন ধরা আরেক হাতে লোহার সিড়ির হ্যান্ডেল। পুরো ডুবতে সাহস হয়না, মাথার মধ্যে ঘুরছে পাখনা তুলে ছুটে আসার হাঙরের ছবি! তারপর কি মনে করে নেমেই পড়লাম। যা হবার তাই, নাকে মুখে পানি ঢুকে একাকার, স্নোরকেলিং করা খুব কঠিন না, কিন্তু হিসাব নিকাশ ভুলে গেলে প্রচুর লোনাজল গিলতে হয়!!!

তারপর... হু.. আধাঘন্টা পড়ে দেখা গেল, আমি ব্যাঙের মতো হাতপা ছড়িয়ে ফটিকস্বচ্ছ সাগরজলে ভেসে আছি! জীবনে অনেকদিন পর সেবার ভয়ংকর রকম অবাক হলাম! জলের দুনিয়ায় এতো রঙ!!! এতো বৈচিত্র্য!! সেই থেকে শুরু..

পায়ার দ্বীপে যখন গেলাম, ততোদিনে ভয়ডর সবগেছে, এবং সেবারই হাঙর ছানাদের বেশ কাছ থেকে দেখা হল! লোকজনকে ঘাড় দুলিয়ে গল্প করি, সবাই মনোযোগ দিয়ে শোনে, তারপর জানতে চায় পায়ার দ্বীপ কি রেদাং থেকেও সুন্দর কিনা। রেদাং রেদাং শুনতে শুনতে শেষে বিরক্ত হয়ে গেলাম।

মালেশিয়ার শ্রেষ্ঠ ডাইভিং পয়েন্টগুলো পড়েছে পূর্ব মালেশিয়াতে। সিপাদান আর লায়াঙ লায়াঙ দ্বীপের স্বচ্ছপানি আর জীববৈচিত্র্যের সুনাম দুনিয়াব্যপী। আর যারা ওদিকে যেতে পারেন না তাদের প্রিয় তালিকায় থাকে রেদাং, তিওমান আর পেরেন্থিয়ান দ্বীপ। তিওমানে আগেই গেছি। রেদাং আর যাওয়া হয়নি, তাতে যতোনা আক্ষেপ ছিল তার চেয়ে বেশী বিরক্তি যোগ হল লোকজন কচকচানি শুনে!

এখানে লঙ উইকএন্ডে কেউ ঘরে থাকেনা, ওসব সময় হোটেল পাওয়া বিশেষ কঠিন হয়ে পড়ে। মারদেকার ছুটিতে এসব জেনেও এম্নি এম্নি ফোন করা শুরু করলাম এবং দুরাশার পাছায় কষে থাতি মেরে আমি কেমন করে যেন রেদাং প্লাঙ্গি রিসোর্টে একটা রুম পেয়ে গেলাম। মাশীদ কেবল মিটিং থেকে ফিরছিল, বললাম রাত্তিতে রেদাং যাচ্ছি, রেডি হও।

"রাত্তিরে রেদাং যাচ্ছি" বলাটা যতো সহজ কাজটা ততোটাই কঠিন। কেএল থেকে সাড়ে ছয়শো কিলো পাড়ি দিয়ে যেতে হবে ত্রেঙ্গানু রাজ্যে, সেখান থেকে ফেরিতে চল্লিশ মিনিট পারি দিলে নীলজলসোনাবালির দ্বীপ! মেরাং এ পৌছাতে হবে সাতটায়। তার অর্থ হল আমাকে টানা ৬ ঘন্টা ড্রাইভ করতে হবে এবং সেটা নরমাল স্পীডলিমিটের উপরে। কাজটা ভয়াবহ কঠিন হতো যদি না পাহাঙ রাজ্যে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে না বানাতো। ১৪০-এ আমার প্রোটন স্যাভি ঠিক ঠিক ৬টায় পৌছে গেল মেরাং জেটিতে। এখানে জিপিএসের ম্যাপগুলো ভালো, না হলে ভালো ঠ্যালায় পড়ার সুযোগ থেকেই যায়।

গাড়ি থেকে নেমে দেখে দুহাত ঝিমঝিম করছে। পেটেও ক্ষুধা। মালেশিয়ার সবচে' নিরাপদ খাবার হল নাসি লেমাক। সাদা ভাত, সাথে শুকনা মরিচ, টমেটো, পেয়াজের ঝাল-মিস্টি ঝোল, তাতে ছড়িয়ে দেওয়া কড়া করে ভাজা অ্যানচোভি আর চীনেবাদাম, সঙ্গে আধাটা সেদ্ধ ডিম, কপাল ভালো হলে এক টুকরো ভাজা মুরগি - এটা এদের জাতীয় খাবার সম্ভবত, আর ভাতের প্রতি ব্যপক ভালোবাসার কারনে ফেভারিট! বহুদিন পর ভোরবেলা নাসি লেমাক আর চা দিয়ে নাস্তা করতে ভালো লাগলো, আহা! কতো দিন সকালে উঠে ঢাকার মতো চা খাওয়া হয়না! (মাশীদ অবশ্য এখন প্রতিরাতে এককাপ বানিয়ে দেয়, মেয়েটার বড়ই মমতা!)

চা-নাস্তা করে দাঁড়ালাম ফেরীর অপেক্ষায়। সাথে দুটো ক্যামেরা, আমার দাঁড়ানোর ভঙ্গিই আলাদা সেই উত্তাপে! হঠাৎ মাশীদের খোঁচা, "ওইটা কি?" নৌকার নীচে সেই প্রথম আমাদের বাচ্চা অক্টোপাস দর্শন!! এর আগে তিওমান গিয়ে উরুক্কু মাছ দেখে বাকহারা হয়েছিলাম, এবার অবাক হওয়া আটপেয়ে এই জীবটাকে দেখে!

ফেরীতে রেদাং পৌছাতে এগারোটা বেজে গেল। একদম সেই ছবির মতো নীলার মতো হালকা নীল জল, আর সোনালী সৈকত, তারমাঝে ছোটবড় সবুজ পাহাড়ের রাজত্ব!

দুইরাত তিনদিনের প্যাকেজ, জনপ্রতি সাড়ে চারশো রিঙ্গিত। "রেদাঙ প্লাঙ্গি" মোটেও সুবিধার রিসোর্ট না, চলেটাইপ ঘর, বিচ্ছিরি খাবার আর সাদামাটা আয়োজন (যারা রেদাঙ যাবেন তারা চেষ্টা করবেন লাগুনা রিসোর্টে যেতে, লাগুনা হল "সেইরকম" জায়গা!) । তবে একটা জিনিসের জন্য আমি এদের সাতখুন মাফ করে দিলাম, নেমেই দেখি আন্ডারওয়াটার ক্যামের ভাড়া দিচ্ছে, ৫০ রিঙ্গিতে ১৫০ ছবি তোলার ব্যবস্থা করা! আমাকে আর পায় কে!

মালপত্র রেখে যখন হালকা হবো ভাবছি তখন লোকজন ডাকাডাকি শুরু করলো, ১ম স্নোরকেলিং ট্রিপ শুরু হবে একটু পড়েই! মাস্ক আর স্নোরকেল পেলাম, কিন্তু ফ্লিপার মিসিং! খোলা সাগরে ফ্লিপার ছাড়া নড়াচড়া করা মহা ঝামেলার। গিয়ে শুনি রেদাঙ দ্বীপে ফ্লিপার পরে সাঁতারানো নিষেধ!

পানিতে নেমে কিছুটা আশাহত হতে হল, প্রবালগুলো ভাঙ্গা, মাছের বৈচিত্র্য কম। খুব বেশী টুরিস্ট আশার ফল! পুলাও পায়ারে গুনে গুনে লোক নেয় প্রতিদিন, তাই সৌন্দর্য এখনও অক্ষত। টাকার লোভে রেদাঙ এর বেহাল দশা! ফ্লিপার ছাড়া সাঁতারাতে অনেক বেশী কষ্ট করতে হচ্ছিল, পানিতে স্রোত ভালোই, একটু বেশী সতর্ক হয়েই থাকতে হয়। যখন পানি থেকে বোটে উঠলাম তখন দু'হাত ব্যথায় অবশ!

দুপুরে রিসোর্টে বুফে লাঞ্চের কথা। খাবার দেখে মেজাজ খারাপ, তার উপরে চীনেরা মাগনা পেয়ে খাবার প্রায় সব শেষ করে দিয়েছে। বেশী খাওয়া আর হল না, কারন দুটোর সময় ২য় স্নোরকেলিং ট্রিপ আছে।

মাশীদের মাস্ক পরে পানিতে মাছ দেখার আগ্রহ কোনকালেই ছিল না, সে থেকে গেল দ্বীপে। আমাদের আনা হল পাথর ঘেরা একটা জায়গায়, বেশ সুন্দর, নানা রকম প্রবালে ভরা। গভীর আগ্রহে তাই পানিতে নেমে গেলাম। এবং তারপরই বিপত্তি। প্রচন্ড ভয়ে আমরা হাতপা ঠান্ডা হয়ে গেল। মুখ দিয়ে কেমন করে শ্বাস নিতে হয় ভুলে গেলাম, লোনা পানি পেটে-চোখে গিয়ে একাকার। না, হাঙর না। এ জিনিস আরও ভয়াবহ...

জেলীফিশ! ডজনে ডজনে চারপাশ জুড়ে। ছাগলগুলো জানায়নি এটা জেলীফিশ সিজন!

হাতে পায়ে কাটা ছেড়া থাকলে হাঙর কেন, পিচকি মাছও হিংস্র হয়ে কামড়াতে আসে। এম্নিতে তারা ঝামেলায় যায় না। অন্যদিকে জেলীফিশের ঘিলু নাই। সেই উদভ্রান্তের মতো পানিতে ভেসে বেড়ায়। তার কাছ থেকে দূরে থাকার দায়িত্ব আপনার, তার গুতো খাবার ভাবনা নেই। আর একবার যদি গায়ে লাগে, তখন নাকি ভয়ংকর ভাবে জ্বলেপুড়ে যাবার অনুভূতি হয়। মিনিট পনেরো সময় লাগলো পরিস্থিতে স্বাভাবিক হতে। একটু করে ছবি তুলি, তারপর কিছুক্ষন নজরদারী করি মামারা কোথায়। দু'পা খোলা, ঘষা লাগলে মহা গ্যাঞ্জাম! লোক বলে জেলীফিশ ছুঁয়ে দিলে সেরা ঔষধ হিসি করে দেওয়া। কিন্তু কেউ পানির মধ্যে নিজের পায়ের উপর হিসি করার তরিকাটা বলেনি। টোটকা ঔষধের এই সমস্যা!

School of Needle Fish (Redang Island)
সুঁইমাছের দল

Found Nemo Finally! (Redang Island)
নিমোকে শেষে খুঁজেই পেলাম

Jelly Fish  (Redang Island)
বদমাশ জেলীফিশ!

School of Damsel Fish (Redang Island)
মাছের সাথে আড্ডা

Fish Paradiso!  (Redang Island)
মৎস্যমেলা

Hi There  (Redang Island)
মোলাকাৎ!

দ্বীপে ফেরার পর আমার চোখ গাঁজারুদের মতো লাল। ঠিক করলাম ডিনার করবো ভালো কোথাও। একটু হাটতেই সামনে পড়ল লাগুনা রিসোর্ট। সৈকতে চমৎকার বার দেখে মার্গারিটা খাবার সুযোগ ছাড়লাম না। রাতে সেখানেও গিটার বাজিয়ে গান শোনালো লোকজন। সুস্বাদু একটা গার্লিক স্টেক গিলে, গান শুনলাম কিছুক্ষন। তারপর অনেকটা সময় নিয়ে ডেকচেয়ারে শুয়ে বাতাস খেতে খেতে তারা গুনলাম দুজনে। এরকম জায়গায় দল বেঁধে গেলে খুব জমে ওঠে, বিশেষতঃ সৈকতে শুয়ে পানপর্ব চালানোর চেয়ে ভালো কি আর হতে পারে...

রাত একটার দিকে রুমের দিকে হাটা দিলাম। হাটতে হচ্ছিল সাবধানে, সৈকত জুড়ে মরা জেলীফিশ, রাতবিরেতে পা দিয়ে অঘটন ঘটনার কি দরকার!

রেদাঙ এ এর পরে আরো একটা দিন ছিলাম। আরো চমৎকার একটা স্নোরকেলিং পয়েন্টে নিয়ে গিয়েছিল ওরা। খারাপ ছিল না। কিন্তু মাছের বৈচিত্র্যহীনতায় হতাশ হতে হয়েছে। পায়ার দ্বীপ আর সাবা-র টুংকু আবদুল রাজাক মেরিন পার্কের মতো মুগ্ধ হওয়া গেল না এবার। মনে হল রেদাঙ তার সৌন্দর্য হারিয়ে একটা ওভাররেটেড অবস্থানে বসে আছে। টাকা থাকলে সিপাদানে যেতাম। কিন্তু যা খরচা হবে তাতে একটা DSLR কিনে ফেলা যায়! তাই প্ল্যান বাদ দিতে হল।

সময় হলে আবার একবার তিওমানে দ্বীপে যাব। যারা উৎসাহী তারা মাথায় রাখবেন এখানে দ্বীপগুলোতে যাবার সেরা সময় মার্চ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ। বাকিটা সময় মনসুন পিরিয়ড বলে দ্বীপগুলোতে টুরিস্টদের যেতে দেওয়া হয়না।

এই দেশটায় থাকার সময় দিন দিন ফুরিয়ে আসছে, কতো কিছুই না দেখা থেকে গেল...!

Sunday, October 19, 2008

এলোমেলো কথা - অক্টোবার ১৯, ২০০৮

ভদ্রলোকের নামটা অনেক কষ্ট করেও মনে করতে পারলাম না। ঢাকার মহামালদার এক পাবলিকের আইটি ম্যাগাজিন করার খায়েস হয়েছিল। বছর খানেক পর সেই পত্রিকা যখন ধরা খায় খায় তখন এক ধান্দাল যুবকের কল্যানে আমি কারিগরি সম্পাদকের চাকরীটা পাই। আর ভদ্রলোক যোগ দেন নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে।

একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে একটা বাংলা ফাইভ ধরানোর তাল করছি, ভদ্রলোক গলা যথা সম্ভব নামিয়ে বললেন, "করিম ভাই (এটা আসল নাম নয়) নাকি জামাত করতেন?"
আমি হালকা ধাক্কা খাই, গুজবটা আমারো শোনা, কিন্তু বিশ্বাস করার মতো হিন্ট পাইনি তখনও। সেই গুজব যখন ঝানু সাংবাদিকের মুখেও শুনতে হয় তখন একটু চিন্তাই হয়।
"উনাকে ছাগলা দাড়ি সহ মজলিশে সভা করছেন চিন্তা করতে আমার কিন্তু একটু কষ্ট হয়...", আমি বলি।

এর পরে প্রায়ই ভদ্রলোকের সাথে কথা হতো, রাজনীতি, ধর্ম, সমাজ এবং জনৈক করিম ভাইকে নিয়ে। অনেক কথার ফাঁকে ভদ্রলোক খুব শান্ত ভঙ্গিতে আমাকে একদিন বললেন, "দেশটা ইরান হয়ে যাবে", তারপর আরও শান্ত ভঙ্গিতে "পাঠকের চিঠি" লেখা চালিয়ে যেতে লাগলেন (পত্রিকায় পাঠকেরা কোন চিঠি দিতো না বলে আমরাই বসে বসে চিঠি পয়দা করতাম)। ঠিক মনে নেই এটা শোনার পর আমি কি বলেছিলাম সেইদিন। মাস খানেক পর চাকরী ছেড়ে দিলাম। কিন্তু ভিতর থেকে প্রায়ই কে যেন শান্তগলায় বলে উঠতো, "দেশটা ইরান হয়ে যাবে"।

এরপর আরো পানি গড়ায়, আরো বসন্ত যায় আর আমি লোকজনকে পেলেই জিজ্ঞাসা করি, "দেশটা কি ইরান হয়ে যাবে?", কেউই আমাকে দুই পয়সার পাত্তা দেননি, চেনা উত্তর ছিল, "মৌলবাদীদের নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নাই"..

আজ ছয় বছর পরেও কথাগুলো কানে বাজে। এই আশংকার আদৌ কি কোন সম্ভাবনা আছে? মৌলবাদীরা কি এতোই শক্তপোক্তভাবে শেকড় গাড়তে পারে?

তারপর..

টের পাই এদের কি দরকার যদি এই দেশে ভ্রষ্ট আর বিভ্রান্ত একটা প্রজন্ম তৈরি হয় যারা বিয়ার হাতে ধর্মানুভূতির বিতন্ডায় ঝাঁপ দেবে...!

এদের কি দরকার যদি আমার দোতলার হাজি সাহেব হজ্জ্ব থেকে ফিরে ট্যাক্স ফাঁকি দেবার ধান্দা নিয়ে বসেন?

এদের কি দরকার যদি সেরা বিদ্যাপীঠের প্রবীন শিক্ষক ছানিকাটা চোখে জমজমের পানি দিয়ে ইনফেকশনে পড়েন?

এদের কি দরকার যখন আমার অশ্লীল-হিন্দী-নাচ-দেখা বন্ধুটা বউকে পর্দা করতে বলে?

এদের কি দরকার যখন খাটি "বাংলা নাম" রাখাটা কেমন হিন্দুয়ানী শোনায়?

আমরা সবাই যদি অন্ধকারে ঝাঁপ দেবার খেলায় জমায়েত হতে থাকি, তাহলে কি আর ধর্মবিপ্লব লাগে?

তাই ঠান্ডা মাথায় বসে থাকা অভ্যাস করি
কবে অপরাজেয় বাংলার মাথা কাটা যায়,
কবে স্মৃতিসৌধ গুড়িয়ে দিয়ে
জাতীয় মিনার হয়,
কবেই বা "পাখি সব করে রব" বদলে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান তরিকায় "ফজর হইল, মোরগ ডাকিল" লেখা হয় শিশুপাঠে..
আমি বসে আছি, শান্ত ভঙ্গিতে শুনবার জন্য এই খবরগুলো..

আমি খুব জানি, একদিন সবই গা-সহা হয়ে যাবে,
চাট্টান দিল নিয়ে আমাদের সন্তানেরা পূর্বপুরুষের কৃতকর্মের জন্য একফোঁটাও অনুশোচনা করতে বসবে না..
আহা, বোধহীণ হতে পারলেই কতোই না শান্তি!..

----------------------

১৯শে অক্টোবার, ২০০৮
কেএল ফোটোগ্রাফি ফেস্টিভ্যাল ২০০৮

আলোকচিত্রী ভিক্টর চিন দেখাচ্ছিলেন থাইল্যান্ডের Ayutthaya নগরীতে, বর্মীদের হাতে মাথা কাটা যাবার পর টিকে থাকা বুদ্ধমুর্তিগুলো...

Thursday, September 25, 2008

তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা...

আমি কিন্তু জানতাম আপনার সিনেমাটা আর দেখা হবে না, আর আপনি জানতেন সূর্যটা আরো লাল হয়ে ঢলে পড়ছে পশ্চিমে।

তারপরও আমরা সবাই আশা করেছিলাম সেপ্টেম্বারের সোনামাখা রোদ্দুরভরা একটা সকালে আপনি আবার কিবোর্ডে হাত দেবেন। জিটকের ধূসর গোল্লাটা কলাপাতা সবুজ হয়ে বলতে থাকবে "গল্পদাদু" ফিরে এসেছে।

আপনি ফিরে আসেননি। আমরা কেউ ব্যানার করি, কেউ দিশেহারা হয়ে বসে থাকি, কেউ বুকভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে শার্টের হাতায় চোখ মুছি। আর আপনার বড় হয়ে যাওয়া অভিমানী মেয়েটা হয়তো বাবার মতোই ভীষন অভিমান নিয়ে অশ্রুসংবরন করতে চেষ্টা করে।

বড় বিচিত্র উদ্দ্যেশ্য নিয়ে আমরা পৃথিবীতে আসি। সারাজীবন ধরে বুনট বাঁধনে সবাইকে বেঁধে তারপর একদিন, এক নিমেষে সেই বাঁধন কেটেই হারিয়ে যাই না-ফিরে আসার জগতে।

আজ আপনিও হারিয়ে গেলেন,
আমাদের সবাইকে ছুঁয়ে দিয়ে আপনি হারিয়ে গেলেন
হারিয়ে গেলেন, হারিয়ে গেলেন
একদম হারিয়ে গেলেন..

-------------
পুনশ্চঃ মুহম্মদ জুবায়ের প্রায় বছর পাঁচেক আগে জেনেছিলেন তার একটি ফুসফুস অকেজো হয়ে গেছে, আরেকটির অবস্থাও দুর্বল। এই কথাগুলো কাউকে জানতে দেননি তিনি।

Monday, September 1, 2008

Hola গল্পদাদু...

০]
"Hola গল্পদাদু"
"Comostas!.. কি খবর?"
"খবর আর কি.. যেমন ছিল তেমন, রেদাং দ্বীপে গেছিলাম বউকে নিয়ে, খোলা সাগরে লাল-নীল মাছ দেখে আসলাম...এই সব..."
"ভালোই তো.."
"না ভালো না, আপনি সিনেমাটা দ্যাখেন নাই এখনও, আই ক্যান বেট হান্ড্রেড বাক্‌স। আপনি আমার কথা রাখেননি..
আমি কিন্তু কথা শুনলাম, আমি কিন্তু কথা শুনলাম
আমি কথা শোনার ছেলে না,
ঘ্যাড়তাড়ামিতে আপনার সাথে আর কে এমন পাল্লা দিতে পারে বলেন?

তারপরেও লিখলাম (যদিও আমার মোটেও লেখার কথা না, মোটেও লেখার কথা না), সেপ্টেম্বরের কোন এক সকালে আপনি খুঁজে খুঁজে এই লেখাটা পড়বেন। আমি খুব আশা করে আছি আমার ছেলেমানুষী দেখে আপনি খানিকটা হেসে কিছু একটা লিখে যাবেন।
আপনি অবশ্যই কিছু একটা লিখে যাবেন..
অবশ্যই কিছু একটা লিখে যাবেন..

[-১]
"কি খবর গল্পদাদু? সিনেমাটা তো আর দেখলেন না :("
"দেখার সময় কোই বল? একটু শরীর খারাপ"
"কি হল আবার?"
"কিছু না, ভালো হলেই সেরে যাবে.."
"কি ভালো হলে কি সেরে যাবে? হয়েছে কি?"
"কিছু না, টাইপ করতে কষ্ট হচ্ছে, পরে কথা বলি?"
"ওকে..."

[-২]
"একটা সিনেমা দেখে ফেলেন"
"কি সিনেমা?"
"দ্য বাকেট লিস্ট.. এই যে ট্রেইলরের লিংক..."
"আচ্ছা আনিয়ে নেব একসময়.."
"উহু, আপনে আর দেখবেন! আপনি সিনেমা দ্যাখা টাইপ মানুষ না.."
"তা ঠিক, সিনেমায় আমার বরাবরই অনাগ্রহ"
"এইটা দেখতেই হবে.. দেখতেই হবে!"
"আচ্ছা এই ছবিটা দ্যাখাতে চাইছ কেন হঠাৎ? শানে নুযুলটা কি?"
"কোন শানে নুযুল নাই। খুব দেখতে ইচ্ছা করছে এরকম একটা সিনেমা দেখলে বড় লেখকেরা কেমন রিঅ্যাক্ট করে.."
"হেহে, আমি তো ওই দলে পড়ি না..."
"এইরে শুরু হল আবার!.. দেখবেন কিন্তু..."

[-৩]
...
"তুমি তো আমার হাঁটুর বয়েসী.."
"আমি যদি আপনার হাঁটুর বয়েসী হই তাহলে তো আপনার জিরাফ হবার কথা.. হেহেহে আপনি কি জিরাফ?"

[-৪]
"আপনাকে আমার বড় ভয় করে.."
"কেন? আমি কি বাঘ না ভাল্লুক.."
"কি জানি! এমনি এমনিই ভয় লাগে.."
"আপনার ফোন নাম্বারটা দ্যান, কল করছি"
...
"অরূপ নাকি?"
"হু.. আরে কি সৌভাগ্য! গল্পদাদু যে!"

[১]
সেপ্টেম্বরের কোন একটা ঝলমলে দিনে আমি গুগলটকে আবার লিখবো "কি খবর গল্পদাদু..?"
একটু পরে ছোট্ট উইন্ডোটার শিরোনাম পাল্টে যাবে,
আমি গভীর আগ্রহে পড়বো, mz1971 is typing..

Thursday, July 17, 2008

বিডিনিউজ২৪.কমে আমার বক্তব্য প্রসঙ্গে

(বাইরে জরুরী কাজে আছি বলে সংক্ষেপে লিখছি)
কালকে অমি রহমান পিয়াল ফোন করে জানতে চান কি ঘটনা। তাকে বলেছি ফারুক ওয়াসিফ এবং আর যারা বাংলাদেশে আছেন তারা ভালো বলতে পারবেন কেননা আমরা কিছুই অফিসিয়ালী জানিনা। যেটুকু নিশ্চিতভাবে জানি তা হল, আমাদের প্রান্তে সমস্যা নেই কোন।

BDNEWS24.com এর রিপোর্টে বলা হয়েছে

উদ্ধৃতি
সচলায়তনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অরূপ কামাল টেলিফোনে মালয়েশিয়া থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সাম্প্রতিক একটি লেখা প্রকাশের পর বাংলাদেশে ব্লগটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"

এই প্রসঙ্গে আমার প্রকৃত বক্তব্য ছিল, আমরা জানি না আদৌ ব্যান করা হয়েছে কিনা কিংবা কি কারনে করা হয়েছে। যদি সত্যিই ব্যান করা হয় তাহলে হয়তো এক সপ্তাহের লেখালেখি দেখলে বোঝা যেতে পারে।

উদ্ধৃত বাক্যটি তাই ঠিক নয়, এবং তাতে অহেতুক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

এখনও পর্যন্ত আমার বক্তব্য একটাই এবং সেটা সুস্পষ্ট, তা হল আমাদের প্রান্তে প্রযুক্তিগত সমস্যা নেই। প্রকৃত ঘটনা জানতে চাইলে বাংলাদেশে বসে যাচাই করতে হবে। সচলায়তনকে যদি আদৌ ব্যান করা হয় তবে তা হবে দুঃখজনক। আমি খুব আশা নিয়ে বসে আছি এই আশংকা সত্য হবে না...

এই অশান্ত দিনে এখন শুধু আশাগুলোই আমাদের সম্বল...

Sunday, July 13, 2008

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ'লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ'লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ'লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।
রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের
সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর
ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল
কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা;
এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা
নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে
অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ'লে যাবে,
কিশোরীরা চ'লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক'রে চ'লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

হুমায়ুন আজাদ

নোটঃ এই কবিতাটা স্টিকি করে রাখবো আমি।
এইটা মুখস্থ করে ফেলার সময় গায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে আজ..



১ | মাহবুব লীলেন | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:১১

...



২ | স্নিগ্ধা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:২৪

অরূপ - ব্যানারের ছবি, উক্তি আর এই কবিতা, সবগুলোর জন্য - ধন্যবাদ!!!



৩ | মুহম্মদ জুবায়ের | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:৩১

কেউ একজন বলেছিলেন, একজন রাজাকার চিরকালই রাজাকার, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা না-ও থাকতে পারেন। এর চেয়ে নির্মম সত্যভাষণ আর হয় না। রাজাকারদের ঐ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম দেখা গেলো যাদের এখন আর মুক্তিযোদ্ধা বলা সম্ভব নয়। হয়তো এদেরই কারণে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বিভ্রান্ত হয়ে সভায় এলেন এবং সত্য উচ্চারণ করে লাঞ্ছিত হলেন। ধিক, শতধিক রাজাকারদের।

তবে আমার ধারণা, শারীরিক উপস্থিতির দিক থেকে রাজাকাররা যতো ক্ষতিকর তার চেয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত করছে আমাদের তথাকথিত মধ্যপন্থীদের রাজাকার মনোবৃত্তি, যা ৭১-এ একটা গণ্ডগোল হয়েছিলো, এখন আর পুরনো কথা বলে কী হবে ধরনের অবস্থান নিতে পছন্দ করে।

আগুন জ্বলার সময় অনেক আগেই হয়েছে। অপেক্ষা হয়তো একটা স্ফুলিঙ্গের, যা দাবানল হয়ে উঠবে।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!



৪ | সিরাজ [অতিথি] | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:৩১

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যে মোটামুটি সবসময়ই ছিল না তার প্রমান কি?



৫ | মুহম্মদ জুবায়ের | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:০৮

প্রথম আলো-তে গতকাল ছাপা হওয়া সংবাদের একটা পিডিএফ এখানে তুলে রাখছি, কারণ কয়েকদিন পরই আর্কাইভেও এটা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরই মধ্যে সঙ্গে ছাপা হওয়া ছবিটা পাওয়া গেলো না।

আর আমার পূর্ববর্তী মন্তব্যে চিরকালের রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে প্রকৃত উদ্ধৃতিটি এরকম:

একবার রাজাকার মানে চিরকাল রাজাকার; কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা মানে চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা নয়।

- হুমায়ূন আজাদ

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!


৬


৫.১ | অরূপ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:১৪

প্রথম আলো ১২ই জুলাই
--------------------------------
‘জামায়াতের এ সমস্ত নেতারা পিস কমিটির (শান্তি কমিটি) সদস্য ছিল। যারা রাজাকার, আলবদর ছিল তারা গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। এখনই তাদের বিচার করতে হবে। আমার বিবেচনায়, তাদের এখনই ফাঁসি দিতে হবে।...’

তাঁর বক্তব্য শেষ হয়নি। সাংবাদিকেরা তাঁর নামটিও জানার সুযোগ পাননি। এর আগেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে থেকে বর্ষীয়ান এ মুক্তিযোদ্ধাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন তাঁর পিঠে লাথি বসিয়ে দেয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’-এর প্রতিনিধি সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতের উদ্যোগে গড়া সংগঠনটির গতকালের সম্মেলনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। তাদের হাতেই লাঞ্ছিত হন ওই মুক্তিযোদ্ধা। তারা একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক সাজেদ রোমেলকেও প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রবের কাছে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনা ও সাংবাদিককে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি দাবি করেন, এমন কিছু হতেই পারে না। নির্যাতনের ছবি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধারণ করা আছে জানালে তিনি মুহুর্তেই সুর পাল্টে বলেন, ‘এসব সাবোটাজ (অন্তর্ঘাতমূলক কাজ)। আমাদের সংগঠনের লোকেরা এসব করতে পারে না।’

সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। জামায়াত-সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠানে আসার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসবের কিছুই তিনি জানেন না।

তবে আলোচনা অনুষ্ঠানে জে আর মোদাচ্ছির বলেছেন, এখন স্বাধীনতার চেতনার নাম দিয়ে জাতিকে বিভাজন না করে সুন্দর দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে হবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান বলেন, গত ২৬ মার্চ ভারতীয় জেনারেলকে এনে স্বাধীনতার চেতনার অবমাননা করা হয়েছে।

বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এখন সময়ের দাবি।

উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান বলেন, কতিপয় সেক্টর কমান্ডার জাতিকে বিভ্রান্ত করে দেশবাসীকে অপমানিত করার জন্য কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হুমকি দিয়েছেন। সম্মেলনে কয়েকজন বক্তা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের শাস্তি দাবি করেছেন।

ঢাকার বাইরে থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা এসব বক্তব্য শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন। পাবনা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলো মোটেও ভালো লাগেনি। এ কারণে আমি অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে এসেছি। এসব অসহনীয় বক্তব্য। এরা বলে, সেক্টর কমান্ডারদের বিচার হতে হবে। এরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেছে। কিন্তু আমরা তো আওয়ামী লীগের ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।’
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন তৈরি ও জাতীয় সম্মেলন করাকে ভন্ডামি আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, যারা যুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে গণহত্যা, লুন্ঠন ও ধর্ষণে সহায়তা করেছে, এখন তারা মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করছে। তারা দেশের সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করছে। এদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই থাকতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সভ্য দেশে বাস করছি, এখানে এসব অসভ্যতা চলতে পারে না। এদের ব্যাপারে কী করা যায় আমরা শিগগিরই বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীও বলেছেন, ‘ওরা যা-ই বলুক না কেন, মানুষের কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই। মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।’

গত ২৬ জানুয়ারি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ গঠন করা হয়। প্রথমে এ/১১ শ্যামলী হাউজিং, আদাবরে একটি বাড়িতে ও পরের মাসে ১১৬/২ নয়াপল্টনে (জামান কনস্ট্রাকশন ভবনের দোতলায়) জামায়াতের পল্টন থানা শাখার সাবেক আমির এ টি এম সিরাজুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানকার পল্টন মানবশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের একটি কক্ষ সাবলেট (ভাড়াটের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া) নিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এ টি এম সিরাজুল হক ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করলে এ সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ফোরাম যে দলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনছে, এগুলোর অন্যতম হচ্ছে জামায়াত। ফোরামের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার মানসে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ নামে এ সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২২ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ও ২৬ মার্চ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ায় সেক্টর কমান্ডারদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। গতকালের সম্মেলনেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।
পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকালের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক রেজোয়ান সিদ্দিকী, নিউ নেশন-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর প্রমুখ।

৭


৫.১.১ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:১৬

ই-টিভির নিউজ:

৫.১.১.১ | মুহম্মদ জুবায়ের | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৩৮

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই টুপিওয়ালারা কোথায় ছিলো, কী করেছে আমাদের জানা আছে। নারায়ে তাকবিরের জায়গা ছিলো না মুক্তিযুদ্ধে, যুদ্ধের পরে তাদের মাথায় টুপি দেখা যায়নি, এমনকি তাদের অনেকে বহুকাল সূর্যের আলো দেখেনি। যে মুক্তিযোদ্ধাকে আজ তারা প্রকাশ্যে লাথি মারার সাহস পায়, ৭২-এ সেই মুক্তিযোদ্ধার ছায়ার আশেপাশে আসার সাহস বা সাধ্য তাদের ছিলো না। আজ সে কথা হয়তো রূপকথা। ছবিটা উল্টে গেছে, তারা কোথায় এসে পৌঁছে গেলো!

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!



৫.১.১.২ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৩৯

সাবেক বিচারপতি শেষে যেভাবে মাথা দোলাচ্ছিলেন...
গালি সামলায়া নিলাম।

অতিথি লেখককে ধন্যবাদ ভিডিও শেয়ার করার জন্য।

৫.১.১.২.১ | ধ্রুব হাসান | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:৫৩

গালি সামলাইলেন কেন? ও হারামী আস্ত এক পাকি খাংকির পো। এ সমস্ত লোকদের পুটকি দিয়ে ঢুকিয়েই প্রথম বিচারকার্যটা শুরু করা উচিত।


৫.১.১.৩ | রেনেট | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৫৪

সাবেক প্রধান বিচারপতি যদি জামায়াত আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মেলনে যায়, তাহলে আমার মনে হয়, শুধু এই কবিতাটিকে স্টিকি করলেই চলবে না, এর শিরোনাম ও পালটে দিতে হবে।

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.



৫.১.১.৪ | রেনেট | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:০৫

বিচারপতি তোমার বিচার করবে কারা (আজ আমাদের এই জনতা?)
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.


৫.১.১.৫ | সবজান্তা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৫৫

ভিডিও টা সেইভ করে রাখি হাসি

বলা তো যায় না, আবার কি কেরামতি, কি কমপ্লেইন করে ইউটিউব সার্ভার থেকে এই বস্তু গায়েব করে দেয়।

আমি এখন বিশ্বাস করি, সাধারণ জনতা কিছু পারুক বা না পারুক, জামাতীরা যখন একটা মুক্তিযোদ্ধা সংগঠণ খুলতে পারছে, ওরা চুদির্ভাইরা সব পারে।


অলমিতি বিস্তারেণ


৬ | জুলিয়ান সিদ্দিকী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:১৭

এখনও যদি কেউ হিটলারের পক্ষে কথা বলে, তাকে শাস্তি পেতে হয়! আমরা তো খুব বেশি দিন পার হয়ে আসিনি! রাজাকাররা এখনো আমাদের দেশে সংগঠিত। তাদের গ্রুপ এখনও সক্রিয়।

সেই যে বুদ্ধিজীবিদের হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের দুষ্কর্মের সূচনা, সেই কালো তালিকা এখনো তাদের হাতে রয়ে গেছে। সুযোগ মত এখনও তারা তাদের সেই তালিকাবদ্ধ মানুষগুলোকে খুন করে চলেছে! অথচ আমরা পারি না জার্মানির মত হতে! আমাদের হৃদয়ে তাদের মত দেশ প্রেম নেই!
***********************************************************
ছবির এই লাথিটা কি আমাদের গায়ে, আমাদের সরকারে গায়ে পড়েনি?
ধিক্ আমাদের দেশপ্রেমে!


৭ |
এস এম মাহবুব মুর্শেদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:২৪

মাঝে মাঝে মনে হয় শালাদের গুলি করে মেরে ফেলি।



৮ | সুবিনয় মুস্তফী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:৪১

বাঙ্গাল বোধ হয় নপুংসকের জাতিই হয়ে গেছে। এই জন্যে উধাম আর সঘোমন নামে নীচের দুই মানুষকে এত শ্রদ্ধা করতে হয়। আমরা ইদানীং শুধু ভাবারই সাহস পাই, কেবল লেখারই তাকত হয়। ভাবনা শেষে, লেখা শেষে আবার মনের লেজ গুটিয়ে যে যার কাজে ফেরত যাই।

কিন্তু এই দুইজন ভাবনা, ক্ষোভ, জিঘাংসাকে কাজে পরিণত করে দেখিয়েছিলেন। আর্মেনীয় হত্যাকান্ড আর জালিয়ানওয়ালাবাগ - এই দুটো যজ্ঞের প্রতিশোধ, গণ-অপরাধের বিচারের দায়িত্ব তারা আংশিকভাবে হলেও নিজ হাতে সম্পাদন করেছিলেন। Actions, not words. আমাদের উধাম সিং বা আমাদের তেহলিরিয়ান কি কোনদিন আসবে মনে হয়?


৯ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:৩৮

‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍আমাদের ক্রোধ অক্ষম থাকবে আর কতোদিন?



১০ | হিমু | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৫৭

আমি ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুশীলদের মুখে থুতু দেই। যারা অতীত ভুলে দেশ গঠনের কথা বলে, বিষ্ঠা ত্যাগ করি তাদের মুখে। শুয়োরের বাচ্চারা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। বিচার চাই জামায়াতে ইসলামীর খুনীদের। যারা এই ঘাতকদের নীরব ও সরব পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছে, তাদের বিচার চাই। এদের কীর্তির রেকর্ড রাখা হোক, তা না হলে আজ থেকে কয়েক বছর পর এই মাদারচোদদের সন্ততিরা বড় গলায় নিজের বাপের সাফাই গাইবে।




১১ | ইশতিয়াক রউফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:১৫

আমি সম্ভবত এই পোস্টের প্রথম পাঠক ছিলাম। তখনও লিংক, ইত্যাদি আসেনি। তবু মুখ ফসকে বাজে কথা বের হয়ে যাবার ভয়ে কিছু বলিনি। এখন ভিডিওটা দেখার পর... থাক, এবারেও মুখ ফসকে কিছু বের হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছি না।

এক কাজ করলে হয়। দেশে তো পেশাদার খুনির অভাব নেই। কোল্যাবোরেটরদের একটা তালিকা দিন, আমরা চাঁদা তুলে তাদের খুন করতে খুনি নিয়োগ করি।



১১.১ | ধ্রুব হাসান | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:৫৩

ইশতি যে কথা বললেন আশা করি তা কথার কথা না। আসলেই আমরা একটা ফোরাম করে সরকারকে (যে কোন সরকার)একটা টাইম ফ্রেম বেধেঁ দিতে পারি। যদি ঐ সময়ের মধ্যে তারা বিচার কার্য শুরু না করে তবে আমরা জাহানারা ইমামের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারি।
প্রথমেই যুদ্ধপরাধীদের যে তালিকা তা থেকে দশজনকে খুন করে উদোম রাস্তার মোড়ে মোড়ে টাঙ্গিয়ে দিতে পারি। এরপর যদি বিচার শুরু হয় ভালো, না হলে প্রতি ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর কিছু কিছু করে খুন করে উতসব করা যেতে পারে। আসলেই যদি কেউ এই ব্যাপারটিতে সিরিয়াস হোন তাহলে কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে ভাবা যেতে পারে।


১১.১.১ | রায়হান আবীর | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৭:০৮

১২ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:২৪

এখনই "রাজাকার ঘাতক" নামে একটি সসস্ত্র দল বানানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। রাব হরচ্ছ সরকারী গুন্ডা বাহিনী।

জনসাধারণের একটি দল থাকা দরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের মত।
-জুলিয়ান সিদ্দিকী



১৩ | নিঝুম | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:৫৬


১৪ |
সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৬:৩০
১৫ | আকতার আহমেদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৭:৩১

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে গেছে..
সব... এমনকি আমার আত্মাটাও !



১৬ | মৃদুল আহমেদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৯:৩৭
১৭ | নুরুজ্জামান মানিক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১০:০৬
ইশতিয়াক রউফ wrote:
কোল্যাবোরেটরদের একটা তালিকা দিন, আমরা চাঁদা তুলে তাদের খুন করতে খুনি নিয়োগ করি।

তালিকা দিলাম এখানে নুরুজ্জামান মানিক



১৮ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১০:৩৪

ইশতিয়াক ভাইয়ের সাথে একমত। এই সব কুত্তাদের আজ যদি আমরা শেষ করতে না পারি তবে হয়তো আগামীতে ওরা আমাদের শেষ করে দিবে। রাজাকারদের খুন করার জন্য সত্যই একটা বাহিনী দরকার। শুধু কথায় মনে হয় আর কাজ হবেনা আর বিচার এই দেশে মনে হয় আর কখনও সম্ভব না - একমাত্র পথ এদের খুন করে ফেলা। কেউ যদি একজন রাজাকার খুন করতে পারে তবে তাকে জাতীয় বীর হিসাবে আমি আমার সম্মান জানাবো।
রবিন



১৮.১ | স্পর্শ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৫১

১৯ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৩৪

ওকে ধরিয়ে দিন।


২০ | কীর্তিনাশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৪২

সময় এসে গেছে আরেকটি যুদ্ধের।
---------------------------------------
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে !


২১ | স্পর্শ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৪৪

অতএব প্রমানিত হল, আমরা নপুংশক হয়ে গেছি!......
....................................................................................
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছ


২২ | সবজান্তা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৪৪

উপদেষ্টা নামক অধিকাংশ যেসব বেশ্যাপুত্রদের ( নেহায়েত গালি, বেশ্যাদেরকে ছোট করে দেখাচ্ছি না ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের ( চন্দ্রবিন্দু দিলাম না, এসব হারামজাদার বাচ্চারা চন্দ্রবিন্দুর যোগ্য না ) প্রতিক্রিয়া কী এ ঘটনায় ? কেউ কি জানেন ?


অলমিতি বিস্তারেণ

২৩ | নজরুল ইসলাম | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১২:০৬

সেই পুরনো কবিতা... তবু আজ কবিতাটা পড়তে পড়তে শরীরের সবকটা পশম দাঁড়িয়ে গেলো... প্রথমবার পড়ে চলে গেছিলাম... কমেন্ট করতে পারিনি কোনও... আবার এলাম... আবার পড়লাম... আমাদের সবগুলো হুমায়ুন আজাদকে ওরা মেরে ফেলেছে...

সবচেয়ে অবাক লাগে আমাদের বর্তমানের এত যে তেজী সরকার... পুরো জাতিকে যারা এক লহমায় থামিয়ে দিতে পারেন... এতো যে মহান আমাদের সেনাপ্রধান... তারা এই ব্যাপারটা নিয়ে একটা কথাও বললো না?
স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে সম্পৃক্ততার আর কত প্রমাণ দিবে তারা? স্পর্শকাতর অজুহাতে আর কত ঢাল হয়ে দাঁড়াবে সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম এই প্রাণীদের?

কোনও সরকারই যে এদের বিচার করবে না সেটা আর অপেক্ষা করে দেখে বলতে হবে না। আমরা জেনে গেছি, বুঝে গেছি। আজ যেমন তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের ব্যাণার নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে কদিন পরেই তারা গোলাম আযম গঙদের বীরশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দেবেন।

সেমিনারে বসে বা ব্লগে এর প্রতিবাদ জানানোর সময় শেষ হয়ে গেছে... এখন রাস্তাতেই নামতে হবে...

ছোটবেলায় বগুড়া ইয়ুথ কয়্যারের একটা গান শুনছিলাম... অস্ত্রটা জমা দিছি টেরনিংটা না...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল


২৪ | বিপ্রতীপ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১২:৪২

অরুপ ভাই,
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই কবিতা আর ব্যানারটি স্টিকি করে রাখতে পারবেন? নাহয় সরিয়ে দিন। এক দু'সপ্তাহের চেতনাতে (আমার কাছে অবশ্য এখন এটা উন্মাদনাই মনে হয়) এর কোন সমাধান নেই।

২৫ | আলমগীর | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:০০

কোন ভাষা নাই। এদের নেটওয়ার্ক আরো বাড়ছে। বিচারপতি সাহেব তো প্রকাশ্যেই জানান দিল। ভেতরে ভেতরে আরো অনেক আছে। নিস্তার কবে পাব কে জানে? মায়া লাগে নিরীহ মুক্তিযোদ্ধার জন্য যিনি কিছু না বুঝেই হায়েনাদের সম্মেলনে গিয়েছেন।

২৬ | ইশতিয়াক রউফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:০৮

আমি আসলেই সিরিয়াস, ভাই। আমি খুবই নগণ্য একজন মানুষ। টাকা-পয়সা কিছুই নাই। ধারে পড়াশুনা করি। আছে বলতে একটা ব্যাংকে ২৫০ ডলার। দেশে যাবার টিকেট জন্য এখনো পর্যন্ত এটুকুই জমাতে পেরেছি। একটা রাজাকার মারার পারিশ্রমিক হিসেবে এটা আমি নগদে লিখে দেবো যে-কাউকে। দু-চার-দশটা মারলেই বাকিগুলোর আস্ফালন বন্ধ হবে।

কারো কোন হিটম্যান চেনা-জানা থাকে তো মেইল-মেসেজ দিয়েন। ঠাট্টা করছি না। দুই দিন পরপর মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কোন না কোন ুতমারানির কাজ দেখে। ালের দেশ একটা... থাক, এখানে মুখ খারাপ করবো না।


২৭ | দৃশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:১৫

প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কোন না কোন মুক্তিযোদ্ধা এভাবেই মার খাচ্ছেন। হয়তো শারিরীকভাবে নয়তো মানসিক ভাবে, তা না হলে ভাগ্যের হাতে। আমি হলাম সবচেয়ে বড় হারামি (আমরা কথাটা আর ব্যবহার করলাম না)। বইসা বইসা তামশা দেখি আর হা হুতাশ করি...নইলে নামকাওয়াস্তের পেতিবাদ করি যেই পেতিবাদের বেইল নাই। হয় এবার বেজন্মাগুলা মরবে আর নইলে সব মুক্তিযোদ্ধা মারা যাক... বাঁইচা থাইকা লাভ কি তাগো?


২৮ | দৃশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:১৭

ইশতিয়াক ভাই দলে আমারে রাইখেন প্লিজ।


২৮.১ | ইশতিয়াক রউফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:৫১

ঠিক আছে, রাখলাম। তবে আমি খুব বেশি সিরিয়াসলি-ই বলছি ভাই, একটা ভাড়াটে খুনি যোগাড় করে দেন। টায়ার্ড এসব দেখতে দেখতে।




২৯ | দৃশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:৫৮

আমি কম সিরিয়াসলি বলি নাই। টায়ার্ড ভাই কমবেশী সবাই। বেশী টায়ার্ড হইলাম নিজের অক্ষমতায়। স্কুল-কলেজ থাকতে বাপ মায়ের কুবুদ্ধিতে ভাল পোলাপাইনের সাথে মিশছিলাম। ভুল করছিলাম। বন্দুকধারীদের লগে খাতির রাখা উচিত আছিল।


৩০ |
অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৪:০৯

ব্যপারটা কি একটু আগে অতিথি লেখকের দেয়া ইউটিউব ভিডিও টা দেখলাম এখন বলতাছে আর নাই? কাহিনী কি?
রবিন



৩২ | ভূঁতের বাচ্চা [অতিথি] | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৫:২৫

কি জুইতের গালি দিমু খুঁজতাছি।
বেশী খ্যাপলে আমার আবার গালি আটকায় যায়!
কবিতার জন্য অরূপদাকে ধন্যবাদ।

৩৩ | মুজিব মেহদী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৬:০৯

খুবই যুৎসই একটা সময়ে কবিতাটা পাতে তুলে দিয়ে অরূপভাই ধন্যবাদার্হ হলেন। পড়ে ভাবলাম, কী দারুণ ভবিতব্যদ্রষ্টাই না ছিলেন আমাদের হুমায়ুন আজাদ! খুবই দরকারি ছিলেন তিনি আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য। এজন্যই বোধকরি তাঁর জীবনকে দীর্ঘায়িত হতে দেয় নি হন্তারক পাষণ্ডরা।

মোদাচ্ছেরের মতো বিচারক কি এখনো নেই আমাদের বিচারশালাগুলোতে? আছে। ভবিষ্যতেও কি আসবে না? আসবে। কাজেই এদের বিচার এখনো হয়ত সুদূরপরাহত। আমি এ বিষয়ে খুব হতাশ।
................................................................
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে গেছে


৩৪ | ফারুক ওয়াসিফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৬:৫০

আমার কথায় কেউ আহত হতে পারেন এই ভয় সত্ত্বেও বলছি: একটা ফোরাম করে চাঁদা তুলে যারা মুক্তিযুদ্ধের অসম্পূর্ণ কর্মসূচি সম্পন্ন করতে চান তাদের আবেগের আহত দশাটা বুঝতে পারছি। তকে কাজটা ভাড়াটে লোক দিয়ে করালে তাকে কি গৌরবের কাজ বলা যাবে? সেটাও সন্ত্রাসী কাজ হবে না? মুক্তিযুদ্ধ তো ফোরাম করে, চাঁদা তুলে ভাড়াটে লোক দিয়ে হয় নাই, যারা গিয়েছে তারা জানবাজি রাখার মতো লক্ষ্য পেয়েছিল, অনন্যোপায় হয়েছিল। আমরা মনে হয় আর দেশের জন্য জানবাজি রাখার জায়গায় নাই, এবং আমাদের মনে হয় রাজাকার হত্যা ছাড়াও আরো অনেক উপায় আছে, যাতে আমরা ব্যস্ত আছি। এমনকি তার জন্য জানও বাজি রাখতে পারি। প্রতিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা আর প্রতিষ্ঠার থেকে আর কোন বড় মতাদর্শ বা লক্ষ্য আমাদের আছে বলে তো মনে হয় না।


এই আমাদের বলতে, আমি 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি'কেই বলছি। তারা বন্ধ্যা হয়ে গেছে। তারা আর কিছু জন্ম দিচ্ছে না। কিন্তু রাজাকারেরা নিরন্তর প্রসব করে যাচ্ছে, কর্মী, সংগঠন, রাজনীতি, টাকা, পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি।


ইদানিং দেখছি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষওয়লাদের বুদ্ধিজীবীদের বড় অংশই জনগণের মধ্যে কাজ করার চেয়ে বিদেশে আশ্রয় ও তদ্বীর করাতেই বেশি ব্যস্ত। হাসান ইমাম সহ আর যাঁরা, সবার নাম বলা গেল না।
এখন এরা জঘন্য সেনা শক্তির কাছে আব্দার জানাচ্ছেন, কিন্তু আন্দোলন গড়ে তোলার মুরদ দেখাচ্ছেন না। সেটা তাদের নেইও। ক'দিন পরে এরাই মার্কিন সৈন্যদের বলবে, বাবারা আমাগো দেশ দখল কইরা আমাদের রাজাকারদের হাত থেকে স্বাধীন কইরা দাও।
৩৭ বছরে স্বাধীন কথাটার মানে রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধাদের দল উভয়েই পাল্টে ফেলেছে। লাখো শহীদের মৃত্যু তাদের কাছে রাজনীতির অফুরান বিনিয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।


৩৪.১ | সুমন চৌধুরী | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:১৩

এরশাদ পতনের পরে যারা নির্মুল কমিটি তৈরী করছিল তাদের মধ্যে তখনো জোশ ছিল কাজ করার। যদিও জামাত এবং অন্যান্য রাজাকাররা ততদিনে নিজেগো জায়গা মোটামুটি পাকা কইরা নিছে। নির্মুল কমিটির আন্দোলন ধরা খাইছে মুলত আওয়ামী লীগের বাটপারির জন্য। যেইটা এইখানে দেখার বিষয় সেইটা হইল যেই "নির্দলীয়" বুদ্ধিজীবীরা ১৯৯২-৯৪ পর্যন্ত বিচারের দাবীতে রাস্তায় ছিল তারা ১৯৯৪-৯৬তে আরো বেশী কইরা আওয়ামী লীগরে আঁকড়াইয়া ধরে আর এই ধরাটা আওয়ামী লীগের ৯৬-২০০১ সময়ে গাঢ় হইতে হইতে শেষতম লিকুইডেশনের দিকে চইলা যায়। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে এরা কিছুই করে নাই আখের গুছানো ছাড়া। আর টানেল ভিশনে আখের গুছাইলে যেইটা হয় পলিটিক্সের র্যান্ডম ডাইভারসিটি তখন চোখ এড়াইয়া যায়। এরা অনেকেই শিওর ছিল ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের জয়ের ব্যাপারে। এরপর যখন খেলা ঘুইরা যায়, নিজামী-মুজাহিদ মন্ত্রী হয় তখন পলানো ছাড়া এগো আর কোন রাস্তা ছিল না। গুছানো আখের ছিল, তাই বৈদেশ গিয়া তারা খাওন-দাওন পাইছে। দ্যাশে যাগো রাইখা গেছে তারা পড়ছে রাক্ষসের মুখে। যারা পলাইছে তাগো মধ্যে আমরা যারা পড়তে/চাকরি করতে আইছি টেকনিক্যালি তারাও পড়ি। পার্থক্য হইল আমরা গুছানো আখের নিয়া আসি নাই সেইসব বিদগ্ধজনের মতো। কিন্তু অভিযোগ করতে গেলে সেই তালিকায় পড়ে যারা সেই সময় নির্মুল কমিটির নেতা ছিল, যারা ২০০১ সালের অক্টোবরের পরে সুড়সুড় কইরা টিএসসি থিকা পলাইয়া আইলো তারা। তাদের নিয়া বা তাদের নেতৃত্বে কিছু করা না করা নিয়া অন্তত আমি ০% ও আশাবাদী না।

এখন ঘটনা হইল জনগণের মধ্যে কিন্তু ঠিকই গণহত্যার স্মৃতি রইয়া গেছে, বিশেষ কইরা যেই জনগণের দেশত্যাগের উপায় নাই তাগো মধ্যেই। সেই প্রক্রিয়াটা কিভাবে করা যায়, সেই প্রশ্নটা এখন সামনে আসে। প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের নখদাঁত রাবীন্দ্রীক আলু চাষ করতে করতে চমৎকার কইরা কাটতে মধ্য আশি-নব্বই দশকে এঞ্জিওরা কৃত্রিম জবমার্কেট তৈরী করছিল। সেই বাজার একটু একটু কইরা ইচিংবিচিং কইরা হাওয়া হইতেছে। পেটিবুর্জোয়াদের নিম্নপর্যায়ের মধ্যে একধরণের কৃত্রিম স্ট্র্যাটিফিকেশন তৈরী হইছে, অন্য দিকে বাংলাদেশের বাজারমান অনুসারে যাদেরকে আমরা উচ্চমধ্যবিত্ত বলি তাঁরা নিজের ঘরে ছাগুরাম চাষ করতেছে। অর্থাৎ সাংস্কৃতিক হেজিমনি বলতে যে বর্গটা নব্বুই দশকের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রকমান্ডের নামে রাস্তায় নামছিল, তারা অনেকগুলি পরস্পর সংযোগহীন পকেটে বিভক্ত হইয়া গেছে। কৃষকদের সংগঠণগুলি একদিকে ছত্রভঙ্গ আরেকদিকে এঞ্জিওদের মুঠায়, শ্রমিক আন্দোলন গত দশ বছরে যা দেখছি সবই স্বত:স্ফুর্ত, কোন দল সেগুলি সংগঠিত করা দুরে থাক দলীয় যোগাযোগ সৃষ্টি হওয়া মাত্র পিঠে ছুরি মারা মধ্যস্থতা শুরু হইয়া যায়। সব মিলাইয়া পরিস্থিতিটা জটিলতর। কোন সমাধান নাই এই কথা বলার অধিকার আমারে কেউ দেয় নাই, আর এত বড় কথা কইতে ল্যাজ যত মোটা হইতে হয় তত মোটাও এখনো হয় নাই। রাস্তা নিশ্চয়ই আছে। না থাকলে ফুলবাড়ি-কানসাটের প্রতিরোধ হইতো না।



৩৫ |
আহমেদুর রশীদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৭:২১

আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি
আর
আস্ফালন করি।

ওরা ঘরে ঘরে যায়-ছলে বলে কৌশলে করায়ত্ব করে মানুষ।


৩৬ |
অচল আনি (একজন নপুংশক) (যাচাই করা হয়নি) | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২০:০১

কি আর কমু?? মুখ দিয়া কথা বাইর হইতাছে না...
নপুংশক আস্ফালনেরও কোন মানে দেখতাছি না... ...
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে গেছে...আর আমরাও হালায় নষ্ট হইয়া গেছি... মুক্তিযোদ্ধা মাইর খায় আর আমরা বগলে বোতল নিয়া... সুবর্ণা-সৌদ এর বিয়ার খবর পড়ি আর বগল বাঁজাই, হাত তালি মারি...


৩৭ | শেখ জলিল | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২০:০৯

সবকিছু নষ্টের অধিকারে চলে গেছে! এখন দরকার প্রতিরোধ। জনগণকে নিজের হাতে এদের বিচার ছাড়া গত্যন্তর নেই। এইদিনে মনে পড়ছে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও কবি হুমায়ুন আজাদকে।


খেকশিয়াল এর ছবি
৩৮ | খেকশিয়াল | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:২৯

মন্তব্য নিষ্প্রোয়জন ।
অরূপদাকে ধন্যবাদ ।


৩৯ |
সৌরভ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:৪২

সবার বিক্ষুব্ধ চেহারা দেখে হাসি পাচ্ছে।
কারণ, এই সময়ের আগমন কি খুবই অপ্রত্যাশিত ছিলো?

বছর সাতেক আগে, ওদেরকে সংসদে বসানোর সময়ই কি আমরাই কি এই সময়ের বীজ বপন করি নি? এই সময়ের দায়িত্ব আমার, আপনার, এই সময়কে যাপন করা প্রতিটি বাঙালির।
ধিক আমার জন্ম।

আনিসুল হক বছর পনের আগে একটা কল্পকাহিনী লিখেছিলেন, হাজার বছরের অন্ধকার। মুক্তিযোদ্ধা আর মননের দাবিদার বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষগুলোকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, আর ক্ষমতায় এসেছে একদল ঘাতক। এটাই প্রেক্ষাপট।
এই কল্পকাহিনী কি বাস্তব থেকে দূরে ?


৩৯.১ |
নজমুল আলবাব | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১২:৪৬

অন্ধকারে একশ বছর


৪০ | প্রকৃতিপ্রেমিক | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০২:৪১

বাহ বাহ, বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে এসে ধন্য বোধ করেছেন। সত্যই অন্যন্য বিচারপতি। কে জানে আরো কতদূর পৌঁছেছে ঘাতকের দল।

৪১ | থার্ড আই | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৪:৪৪

নষ্টদের দখলে চলে গেছে মানলাম স্বীকার করলাম। ১৯৭১ সনে আমাদের যে চেতনা ছিলো এখন তো আমরা আরো শক্তিশালী, সে সময় রাজাকারদের আমরা কিছু করতে পারতাম না এখণতো রাজাকার গুলো চিহ্নিত। তাদেরকে আমরা কেন সনাক্ত করিনা। সবকিছু নষ্টদের দখল থেকে চেতণার রঙে রাঙাতে হলে ব্লগের বিকল্পনেই । দেশে বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের তালিকা থেকে তাদের বর্তমান অবস্থানগুলো আমাদের খুঁজে বের করে তাদের কুকৃর্তীগুলোর ধারাবাহিক সিরিজ করে আমরা অন্তর্জালে ছড়িয়ে দিব। নির্বাচনে যদি এই সব কুলাঙ্গার গুলো অংশ নিতে চায় তবে তার প্রতিটি ব্যনার পোস্টারের নিচে যেন তার ৭১ এর কুকৃর্তীগুলোও শোভা পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যত বেশী আমরা এই কুলাঙ্গার গুলোর কুকৃর্তী বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পারবো , ততই মুক্তিযুদ্ধের চেতণা দীর্ঘস্থায়ী হবে। আমাদের আন্দোলনটা করতে হবে সবাই মিলে । যাতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটা চেতণার বিজ ঢুকে । একজন মুক্তিযোদ্ধার এমন লাঞ্ছনার সংবাদে আমাদের যেমন বুকটা হু হু করে কেঁপে উঠে, নতুন প্রজন্সের একজন তরুনের কি এমনটা কাপন ধরে??

ধর্মের নামে যারা রাজনৈতিক ব্যবসায় নেমেছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম বিভ্রান্ত না হয়।
---------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে


৪২ | নজমুল আলবাব | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১২:৫০

মেজাজটা খারাপ করারও ক্ষমতা নাই।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল


সুরভি এর ছবি
৪৩ | সুরভি [অতিথি] | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৭:৫২

গতকাল দুটো বড় মন্তব্য লিখে পাঠানো হয়নি,সব ভুলে থাকতে চাই,কেন নাড়া দেন এমনি করে? কি লাভ?মনে মনে জপছি,কোন
মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, হয়েছিল গৃহযুদ্ধ (!) রাজাকার ,আলবদর, বলে
কিছু ছিল না ,ওরা ছিল ধার্মিক(!),এখনও তাই ৎ
এসব ভেবেও শান্তি পাচ্ছি না ৎছোটখাট নাড়াতে আর কাজ হবেনা ,
ভূমিকম্প চাই ,
আলী আমানের ঘটনায় মন খারাপ, এ লেখাটা সামনে তুলে আরো
মন খারাপ করে দিয়েছেন,তারপরেও সাধুবাদ না দিয়ে পারছিনা
অরুপ আপনাকে ৎ

৪৪ | বিপ্লব রহমান | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৯:৫৮

সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যাচ্ছে...



৪৫ |
অয়ন | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ২১:২০

ভাগ্য ভালো ৭১এ মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানীদের মারার জন্য হিটম্যান খোজেন নি। নয়তো আজকের মন্তব্যটা উর্দুতেই লিখতে হতো।

Tuesday, July 8, 2008

ধনেশ পাখির দ্বীপে

শনিবার ঘুম থেকে উঠে মনে হল অনেকদিন পাগলামী করে বেরুনো হয় না। কিন্তু যাই কোথায়? ধারেকাছে আছে পাঙ্কোর দ্বীপ। যায়গাটা খারাপ না, সৈকতটা কেমন ছিল ভুলে গেছি। শুধু মনে আছে গেলবার আমাদের কাঠের শ্যালেটার সামনে একটা বিশাল ধনেশ পাখি বসে ছিল। ছোটবেলায় ছবির বইতে দেখেছিলাম, পড়ে দেখি চিড়িয়াখানায়। কি রাজসিক ভঙ্গিতেই না বসেছিল নোংরা খাঁচাটায়! সেই পাখিটা যখন চোখের সামনে বসে বসে গায়ের পালক ঠিক করে তখন অবাক হয়ে দেখতেই হয়।

মাশীদ গেছে সিঙ্গাপুর, পাঙ্কোর এখান থেকে দু'শ কিলো দূরে। কি আছে দুনিয়ায় বলে তাই ভর দুপুরেই বের হই। লুমুত জেটিতে পৌছাতে পৌছাতে সাড়ে পাঁচটা, ফেরী ধরে যখন পাঙ্কোরের মাটিতে পা দিলাম তখন ছটা বেজে গেছে।

ধারনা ছিল লাঙকাওয়ির মতো জমজমাট হবে জেটির কাছে। ধারনা ভুল ছিল। সবাই যার যার বাহনে যে যার মতো চলে গেল, বেকুবের মতো পড়ে রইলাম শুধু আমি। কি আর করা, ব্যাকপ্যাকটা ঘাড়ে নিয়ে হেঁটে হেঁটেই ঘুরবো ঠিক করলাম। পরিকল্পনাটা ভালো ছিল না। পাহাড়ী দ্বীপে কেউ হাঁটে না, বাইকে না হয় গাড়িতে চড়ে চলাচল করে সবাই। বোকার মতো আমিই কেবল বাঁকাতেড়া পাহাড়ী রাস্তা ধরে হাটছি। নিজেকে একবার রামছাগল বলে গালি দিলাম। একবার ভাবলাম ফিরে যাই।

সন্ধ্যে ছটার সময় এই জঙলা দ্বীপে ধনেশপাখি দেখার চেষ্টা করার চেয়ে প্যাভিলয়নের গোল্ডেন ক্লাসে রগরগে মুভি দেখা অনেক অনেক ভালো পরিকল্পনা হতে পারতো। চড়াই বেড়ে উঠেছি, দম প্রায় শেষ। মন খারাপ করে আবার পা বাড়াই।

আমাকে খানিকটা অবাক করে দিয়ে মহাজনদের দেখা পাওয়া গেল। একের পর এক! সব মিলিয়ে পাঁছ/ছ'টা ধনেশ! আলো কম থাকায় ছবি আর ভালো হলনা। আটটায় ফেরী সময়ও কম। তবুও শান্ত্বনা, পাখি তো দেখা হল!

পাঙ্কোর দ্বীপ নিয়ে বিশদ না লিখে এবারে শর্টকাটে কিছু ছবি দিয়ে যাই। লিখতে হলে সামনে আবার যেতে হবে।

দোকলা ধনেশ (১)
দোকলা ধনেশ (১)

দোকলা ধনেশ (২)
দোকলা ধনেশ (২)

প্যাঙ্কোর সিলুয়েট
প্যাঙ্কোর সিলুয়েট

পাঙ্কোর জেটি
পাঙ্কোর জেটি

একলা নৌকা
একলা নৌকা

পাঙ্কোরের বাড়ি
পাঙ্কোরের বাড়ি

Tuesday, July 1, 2008

নব্বই টাকা অকটেন, আনোয়ারের সডোমী কেইস আর সচলায়তনের বর্ষপূর্তি...

"কালকে থেকে তেলের দাম হবে নব্বই টাকা", টেলিফোনে কিছুটা চিন্তিত গলায় বললেন বাবা।
"এখানেও তো বাড়ল ক'দিন আগে এক নব্বই থেকে দুই সত্তর!.. কি আর করবা, ছোট গাড়ি তেল মনে হয় বেশী খাবে না.."
আমি এবং বাবা দুজনেই জানি এগুলো শান্ত্বনার কথা।

আমরা যখন গাড়ি কিনি তখন অকটেন বিক্রি হতো বিশ টাকায়, ঠিক দশ বছর আগে। আজকে থেকে সাড়ে চারগুন দামে এই জ্বালানী কিনতে হবে। এমনিতেই দেশের মানুষ খাদ্য সংকটে বিপর্যস্ত, এবার তেলের দাম বাড়ায় আক্ষরিক অর্থেই নাভিশ্বাস উঠবে। এসব চিন্তা করলে মেজাজ ভালো থাকে না। তাই দ্য স্টার খুলে সরস সংবাদ খুঁজতে বসি।
"খাইসে!", ডাংকে চৌধুরী স্টাইলে আমি চাপা চিৎকার দেই!

বেচারা আনোয়ার ইব্রাহিমকে আবার সডোমির কেসে ফাঁসানো হচ্ছে, গত শনিবার তারই এক এসিস্ট্যান্ট মামলা ঠুকে দিয়েছে। আনোয়ার সাহেব ভয়ের চোটে লুকিয়েছেন তুর্কি দুতাবাসের ভেতরে। মালয় সরকার এতে বড়উ নাখোশ!

আনোয়ার ছিলেন মাহাথিরের সাক্সেসর, কোন একটা কারনে মাহাথির এর উপর ক্ষেপে গিয়ে ফাঁসিয়ে দেন মিথ্যা সডোমির মামলায়। এখানে ফৌজদারী ঝামেলায় পড়লে অনেক দিন নির্বাচনে যাওয়া যায় না। আনোয়ার ভাই গেল এপ্রিলে ঝামেলামুক্ত হয়েছে, নির্বাচনে যেতে তার কোন বাধা নেই, আর এমনই সময় আবার এই ক্যারা! কেউ বলছে নির্বাচনে কঠিন বাড়ি খেয়ে সরকার মহা চটে গেছে তাই এই শাস্তি, কেউ বলছে আবার আনোয়ারকে নির্বাচনে অযোগ্য করার জন্য এই প্রয়াস। আসল ঘটনা যাই হোক, মিসেস ইব্রাহীম সেদিন জনসমক্ষে একটা ফোটো দেখিয়ে দিলেন, যাতে দেখা যায় অভিযোগকারী পোজ দিচ্ছেন বর্তমান ডেপুটি পিএম-এর সাথে। প্রেসও লুফে নিল। এখন পানি ঘোলা হচ্ছে... এনিয়ে বেশী উৎসাহ দেখালেও বিপদ, আর সব মালেশিয়ানদের মতো আমিও রাজনৈতিক কেচ্ছাগুলো ভুলে যাবার চেষ্টা করি মিনিট পাঁচেক পড়েই..

আজকে সচলায়তনের জন্মদিন। সকালের প্রথম পোস্টটা হয়তো আমার দেওয়া উচিত ছিল, নজমুল আলবাবের পোস্ট দেখে মনে হয়েছে না দিয়ে ভালোই করেছি। সচল প্রজেক্ট যখন কিছুটা আটকে ছিল তখন এই মানুষটা একটু গুঁতো না দিলে সচলের জন্ম আরেকটু পিছিয়ে যেত।

প্রথমেই একটা বিশাল ধন্যবাদ সবার জন্য

।
আমাদের সবার শিশুটাকে আপনারা সবাই কোলেপিঠে নিয়ে বড় করলেন, সেই কৃতজ্ঞতা আমি কিভাবে প্রকাশ করি!!!

অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই শিশুর জন্ম। হিসেব করতে গেলে লাভ-ক্ষতি দুটোই দেখতে হয়। আমাদের ব্যর্থতা অনেক। সচল হবার কথা ছিল মুক্তচিন্তা আর স্বাধীন মতপ্রকাশের কেন্দ্র। মডারেশন ও সদস্যপদ প্রদানের জটিলতায় অনেক কিছু আশানুরূপভাবে হয়নি। মুস্কিল হল, বিকল্প পথও আমরা এখনও খুঁজে পাইনি। তবে যদি একটু তুলনা করে দেখা হয় অন্যান্য সাইটের সাথে তাহলে কিছুটা পার্থক্য আমার বিশ্বাস নজরে পড়বেই।

আমার বড় আক্ষেপ সচলের অধিকাংশই সাহিত্য নিয়ে মগ্ন থাকেন। ব্লগ লেখার উৎসাহটা কোথায় হারিয়ে গেল? গতবাঁধা গল্পকবিতার চেয়ে একটা ওয়েব লগ আমাকে অনেক বেশী টানে..

বিতর্ক নিয়ে আক্ষেপ ছিল, অভিজিৎদা, ফারুক ওয়াসিফ আর সুবিনয় ট্রায়োকে ধন্যবাদ যে এরা মাঝে মাঝেই ঝাঁকি দিয়ে সবাইকে সজাগ করার চেষ্টা করেন।

সচলের দ্বিতীয় জেনারেশনের (মানে যারা কিনা সচলেই ব্লগিং শুরু করেছেন) জন্য আমার ভালোবাসা রইল। প্রথম জেনারেশনের মধ্যে যে বিভক্তি ছিল, দ্বিতীয় জেনারেশনে তা একদমই নেই। এরা সচলকে ভালোবেসেই লিখে যান, সচলায়তনের কালচারের ধারক বাহকও বলতে গেলে এরাই।

গেল একবছরে আমরা বহু উদ্যোগ নিয়েছি। তাতে আপনাদের সাড়া ও সহযোগিতা ছিল অবিভূত করার মতো। এই উৎসাহ বেঁচে থাকুক... জেগে থাকুক সবাই..

সচলায়তন কখনই খুব আহামরি মিশন নিয়ে মাঠে নামেনি। আমরা বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সাইট হবার খায়েশ পুষে রাখি না। আমরা মিডিয়া হিসাবে তোলপাড় করার ধান্দাও করি না। দিনের শেষে ছোট্ট একটা চেষ্টা, পাঠকের কল্যাণ, অন্তত একটা সাইটে গেলে যেন প্রতিদিন পড়বার মতো কিছু পাওয়া যায়। তাই কজন সচল হল তা না ভেবে সচলায়তন সচল লেখা আর সচল ভাবনায় পূর্ণ কিনা সেই চিন্তায় বেশী কাতর আমরা।

ভালোবাসা একটা অদ্ভুত জিনিস। আমি কোন দিন এর ব্যাখ্যা করতে পারিনা। সচলায়তনকে এই অদ্ভুত জিনিসটা লেপ্টে আছে দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে, আমি দেখি আর আশ্চর্য হই.. পৃথিবীতে আশ্চর্য হবার জিনিসের শেষ হয়না...

Sunday, June 15, 2008

ভালো থেকো বাবা

১.
ইমিগ্রেশন পার হয়ে গ্রীন চ্যানেল দিয়ে বের হবার নিয়ম, আমি খানিকটা থমকে দাড়াই, কাঁচের দেওয়ালের ওপাশে কারা দেখবার জন্য। বয়স কম হয়নি, দূরে তাকালে সব কেমন ঘোলা ঘোলা লাগে। পেছন থেকে কেউ যেন তাড়া দেয়, হ্যান্ডক্যারিটা নিয়ে আমাকে এগুতেই হয়। হঠাৎ একটা হাত দেখে থামি, এটাই বাবা। আমি জানি এরপর আমাকে কোথায় যেতে হবে। খাকি শর্টস আর লাল পোলো শার্ট পড়া বছর ত্রিশের "ছোটছেলে"টা বাবার দিকে দৌড় দেয়।

একটা শিশু বিশালতা জিনিসটা শেখে সম্ভবত বাবার কাছ থেকে - সাহসের বিশালতা, জ্ঞানের বিশালতা, ব্যক্তিত্বের বিশালতা কিংবা ক্ষমতার। বাবার কাছে গিয়ে আমি তাই ধাক্কা খাই, ডায়াবিটিসের কল্যাণে আমার বিশাল বাবাটা কেমন ছোটছোট হয়ে গেছে, কপালটা আরও বড় হয়েছে, আরেকটু পাতলা হয়ে গেছে সাদা চুলগুলো। শরীর ক্ষয়ে যেতে পারে, মন কি দুর্বল? আমি জানি বাবা সেটা প্রকাশ করবেন না, বাবাদের বইয়ে দুর্বল হওয়াটা নিষেধ, এই আইনটা ভদ্রলোক নিয়ম করে মেনে চলেন।

"কেমন আছ কামাল সাহেব?"
"হাফপ্যান্ট দেখেই বুঝছি তুই", খানিকটা গর্বের সাথে বলে ওঠে বাবা। বেচারা ভোর ছটায় এসেছে, থাকতে হবে আরো ঘন্টা দুয়েক, ওদিকে জেষ্ঠ্যপুত্র আসছেন প্রায় বছর আটেক পর।

দুটো কফি নিয়ে আমরা দুজন বসি আরেকজনার অপেক্ষায়। ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়তে পড়তে আমি বিস্ময়ে দেখতে থাকি কি গভীর আগ্রহেই না সত্তর ছুইছুই লোকটা গ্রীন চ্যানেলের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। ভালোবাসা, স্নেহ এই অনুভূতিগুলো কতোই না অদ্ভুত!!!

২.
ছোটবেলায় মার খেয়েছি প্রচুর, তবে দীর্ঘ সময় বিদেশ থাকায় বাবার কোটাগুলো মা সার্থক ব্যবহার করেছেন।
কেমন মানুষ ছিলেন? অদ্ভুত..
নিউ মার্কেটে যাবার আগে প্রতিজ্ঞা করাতেন খেলনার জন্য বায়না করা যাবেনা, যদিও প্রতিবারই বাড়ি ফেরা হতো নতুন একটা কিছু হাতে নিয়ে, তা গল্পের বইই হোক আর গেইমএন্ডওয়াচই হোক।

মেঝমামাকে একবার কঠিন ধমক দিয়েছিলেন আমাকে ছোটবেলা ফোটোগ্রাফি কেন শেখানো হচ্ছে বলে! নিজে বয়স্কাউটে থাকলেও আমার বেলায় বড় বাগড়া দিতেন!! আমার ভাইকে কম্পিউটার কিনে দেবার জন্য পাগল ছিলেন, আমি প্রোগ্রাম লিখলে তেমন গা করতেন না

এই নিষ্ঠুর লোকটাই আবার আমার বন্ধু, আমার সাহস, আমার সমস্ত ভরসা। মনে আছে মাশীদের সাথে দেখা করার জন্য চুপি চুপি পালাতে গেলেই জিজ্ঞেস করতেন পয়সা লাগবে কিনা। একটা সময় ছিল যা চাইতাম তাই কিনে দিতেন (যদিও বেশী চাওয়া যেত না কারন মা বিবেক হিসেবে দৃশ্যপটে হাজির হতেন)

জীবন সবসময় সুখের ছিলনা। ধাক্কা খেতে হয়েছে অনেকবার। পিছলে পড়ছি, বাবা হাত ধরেছেন।

এমন কিছুই করিনি জীবনে, তারপরও বাবা অসম্ভব গর্বভরে বলেন তার পুত্রদ্ধয়ের কথা। মাশীদ খানিকটা অবাকই হয়, আমি ভাবি, আমিও কি একই গর্বাপ্লুত স্বরে সন্তানগাঁথা গেয়ে যাব কিনা..

৩.
ঢাকায় গেলেই বাবা এটা সেটা কিনে দেবার কথা বলেন। আমি বিনা বাক্যব্যয়ে সাথে যাই। জুতো লাগবে না, তারপরও একজোড়া কেনা হয়ে যায়, আমি জানি, বাবাকে এই সুযোগটা দিতে হবে। বায়না ধরে বড় হওয়া ছেলেটা যখন আর বায়না ধরেনা তখন বাবাদের কেমন লাগে আমি অনুভব করার চেষ্টা করি। ভীষন অস্বস্তিকর সেই ভাবনা...

৪.
বাবার কাছ থেকে ছেলেরা অনেক কিছু পায়। আমি লোকটার সততার কিছুই পাইনি, পাইনি সাহস কিংবা কঠিন ব্যক্তিত্ব। ডাঁকসাইটে খেলোয়ারের ছেলে হয়ে আমি স্পোর্টস চ্যানেলে ঢুকিনা কখনই (খেলা তো দূরের কথা)

কিন্তু লোকটার কাছে আমার অপরিসীম কৃতজ্ঞতা। আরজ আলী মাতুব্বরকে চিনেছি বাবার কাছ থেকে। নিয়মকে প্রশ্নকরা কিংবা নতুনকে গ্রহন করার যে সামান্য প্রবনতা সেটাও তারই দান। তবে সবচে বড় প্রাপ্তি মনে হয় বিশাল নাকটা আর মেজাজ। বাবাকে কখনও প্রশ্ন করা হয়নি, কেমন লাগে যখন সে দেখে আমরা তাকে দেহমনআচরনে বহন করে করে বড় হচ্ছি।

৫.
ঢাকায় ফোন করলাম কয়েকবার, লাইন পাওয়াটা কঠিন। পোস্টটা করে হয়তো আবার চেষ্টা করবো। সেই আলাপে অনেক কথাই হয়তো হবে। কোন একটা কারনে বাড়তি আবেগটুকু মুছে আমরা কথা বলি। আজকে ভীষন বলতে ইচ্ছা করছে "ভালো থেকো বাবা, আমার বড় ভয় করে"। আমি জানি আমি কথাগুলো বলবো না..

কতো সহজ কথাই এই জীবনে আমাদের বলা হয় না আর..