Thursday, April 9, 2009

শুভ জন্মদিন অরূপ!



আজ জানলার কাঁচে ডেকে গেছে এক পাখির মতো সকাল
যেন রাখালিয়া বাঁশী..
এই শহুরে গলার ফাঁসি, ছিঁড়ে দেখাবে এ দুনিয়া কার
বলে, সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবে না
দুখে আছো যারা বেঁচে থাকো এ দুখ রইবে।।

Monday, April 6, 2009

হ্যাপী বিলেটেড বার্থডে সুমন

মার্চের ১৬ তারিখ যে আপনার জন্মদিন ছিল সেটা আমি জানতাম না। জানব কি করে, আপনাকে বহুদিন হল ভুলে আছি। কি অদ্ভুত!! কি অদ্ভুত!!

আমি আপনাকে যে গান শুনে চিনেছি আর দশজনও সেই গানেই চিনেছে আপনাকে। সেই দশজনের ন'জন ক্রমশ আপনাকে ছাড়লেও আমি কিন্তু আপনাকে আঁকড়ে ছিলাম বহুকাল। যে গান চোখ খুলে দেখতে শেখায়, যে গান ভাবতে শেখায়, সেই গান আর কে এমন করে শোনাতে পারে। আমার ভীষন মন খারাপ ছিল। আপনার গান শুনে মন ভালো হয়ে গেল। ভালো হবে না কেন? যে গানে রক্তে আগুন ধরায়, যে গান খোলস চীরে দেখতে শেখায়, যে গান হাতমুঠো করতে শেখায়, যে গান ভালোবাসার প্রেমে পড়তে শেখায় সেই গান মন ভালো না করালে, মন থেকেই কি লাভ...

হ্যাপী বিলেটেড বার্থডে সুমন, ষাট বছরেও কি আপনি বুড়ো হবেন..? আমরা সেটা কি করে হতে দেই..

"প্রতিদিন সূর্য ওঠে তোমায় দেখবে বলে, হে আমার আগুন তুমি আবার ওঠো জ্বলে"


Sunday, April 5, 2009

বিস্ময়ের ছবি, দালি এটোমিকাস!



এই ছবিটার নাম দালি এটোমিকাস, আলোকচিত্রী ফিলিপ হালজম্যানের তোলা। সালভাদর দালির একটা ছবি ছিল "লেডা এটোমিকা" নামে। সেই ছবি থেকে অনুপ্রানিত হয়েই হালজম্যান এই ছবিটা তোলেন ১৯৪৮ সালে। একবারে তোলা যায়নি, পারফেক্ট শটটা পেতে আটাশবার চেষ্টা করতে হয়েছিল।

ষাট বছর আগে কিভাবে এই শটটা নেওয়া হয়েছিল ভাবতেই অবাক লাগে! এই ছবি নিয়ে Brandon Luhring লিখেছেন:
Halsman set up his New York studio and using the 4 x 5 format, twin-lens reflex camera that he had designed in 1947, he prepared to capture one of his most memorable photographs. He suspended an easel, two paintings by Dali (one of which was “Leda Atomica”), and a stepping stool; had his wife, Yvonne, hold a chair in the air; on the count of three, his assistants threw three cats and a bucket of water into the air; and on the count of four, Dali jumped and Halsman snapped the picture. While his assistants mopped the floor and consoled the cats, Halsman went to the darkroom, developed the film, and reemerged to do it again. “Six hours and twenty-eight throws later, the result satisfied my striving for perfection,” wrote Halsman.


উইকিপিডিয়াতে হালজম্যানের জীবনী

.

Saturday, April 4, 2009

বজ্রশিকার, আবারও.. .

Lightning Captured! Finally..

অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম একটা ভালো বজ্রপাতের ছবি তুলবো। কিন্তু কোনবারই সুবিধা করতে পারিনি। আজকে দেখলাম অনবরত বাজ পড়ছে, ১৫মিমি ফিশআই লাগিয়ে ৩০ সেকেন্ড শাটার স্পীড দিয়ে নেমে গেলাম বজ্রশিকার। পনেরবার চেষ্টার পর এই ফল! আমি খুশি :)

*** একটু আগে ইমেইল পেলাম যে, Through The Lens : Bangladesh নামের ফ্লিকার গ্রুপে এটাকে ফোটো অফ দ্য ডে ডিক্লেয়ার করেছে! ভালোই!!

পেতালিংজায়া ফোটোগ্রাফিক সোসাইটির সভ্য হলাম



DCIM শো-তে গিয়ে দেখি এরা সদস্য সংগ্রহ করছে। ধানমন্ডি থেকে কি উত্তরা ক্লাবের সভ্য হওয়া যায়? জিজ্ঞেস করলাম, "আমি কিন্তু পেতালিংজায়াতে থাকি না, সদস্য হতে পারবো তো?"
"কোন সমস্যা নাই, পিনাঙ এর লোকও আমাদের সভ্য"

দেরী না করে ষাটটি রিংগিত খসিয়ে মেম্বার হয়ে গেলাম..

আজকে ছিল পর্সাতুয়ান সেনিফোটো পেতালিংজায়ার (PSPJ) বা পেতালিংজায়া ফোটোগ্রাফিক সোসাইটি-র প্রথম মিটিং, কেএল ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে। যেসব হোটেলের নামের সাথে ইন্টারন্যাশনাল শব্দটা থাকে, তাদের অবস্থা সুবিধার হয়না। জিপিএস ছিল বলে কোনমতে পৌছালাম। গিয়ে দেখি জনা ত্রিশেক মানুষ উপস্থিত। বর্তমানে যে সভ্যাপতি তার নাম রাজা ইন্দ্র পুত্রা সংক্ষেপে রিপি। সেই রিপিই আমাদের স্বাগত জানালো। তারপর মার্চের সেরা ছবির বিচারপর্ব চলল, জানানো হল পরবর্তী আউটিং এর বৃত্তান্ত। দুটো লেকচার ছিল। প্রথমটা দিলেন কেএলকোহ, এর সাথে আমার ভালো খাতির জমে গেছে। পরেরটা ছিল রিপির, কম্পোজিশন নিয়ে আলাপ (ছবিতে মাইক হাতে কালো গেঞ্জি)। আলাপ শেষে সে ১২৫ ছবির কম্পোজিশন ব্যাখ্যা করল। পিএসপিজের রীতি অনুযায়ী সভাশেষে তেতারিক পর্ব চলে। আমরা সবাই গেলাম পাশের মেদান সেলেরায় চা-পর্বে অংশ নিতে। এই ক্লাব অনেক পুরোনো, অনেকেই পঞ্চাশ পার করে ফেলেছেন। চা-পর্বে কেএলকোহ চাচ্চুর সাথে অনেক আলাপ হল, বাংলাদেশের শুনে সে খানিকটা অবাকই। তবে আমি একা না, একটা জাপানীও আজকে দলে যোগ দিয়েছে। এদের সাথে ঘোরাঘুরি মন্দ হবে না মনে হচ্ছে

শ্রী পেতালিং এর গোশভাত

প্রবাসে ভোগের সংজ্ঞা ভিন্ন, দেশে যা অনাগ্রহের বিষয়, বিদেশে সেটাই লোভনীয়। দেশে থাকতে গরুর মাংস কি জিনিস তা টের পাইনি, মালেশিয়া এসে বুঝলাম ইহা অমৃত! মজার বিষয় হল প্রথম দুবছর গোমাংস বলে যা কিন্তাম তা আসলে ছিল ভারতীয় মহিষের মাংস। মোখলেস ভাই না থাকলে এই ভুল ভাঙ্গতো না। জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হলেও, টাটকা গোমাংস তখনও দুর্লভ। তারপর একদিন কিনরারায় একটা সুবিশাল জায়ান্টের (হাইপারমার্কেট) ব্রাঞ্চ খোলা হল, দূর হল দেশী গরু খাবার বাঁধা। এই কাহিনী চলতে চলতে একদিন আমরা জানলাম শ্রী পেতালিঙ মসজিদের পাশে, গাছের নিচে, একদল দেশী ভাই ভাত, বিরানী, গরুর মাংস এসব নিয়ে পসরা বসায় প্রতি শুক্রবারে। প্রথমবার খেয়ে মনে হল কেঁদে ফেলি আনন্দে। আহা, গরম ভাত আর গরুর গোশ্ত!

আজকে অনেকদিন পর আবার গেলাম, দুপুরের খাবার খেতে। বরাবরের মতো সেই ভাত আর বিফকারি। চেটেপুটে খেয়ে বলি "কোক দেন একটা"। দোকানী জানায় কোক পরিবেশন নিষেধ এই এলাকায়, ইহুদীবাদী পণ্য কিনা!!!

"অন্য কোন ড্রিংক্স নাই?"
"হান্ড্রেড প্লাস খান?"
"ঠিকাছে তাই দেন.."

ঢেঁকুর তুলতে তুলেত ভাবতে থাকি, যারা কোকাকোলা বানায়, তারাই যে আবার হান্ড্রেড প্লাসও বানায়, এটা বোঝা কি এতোই কঠিন!!! ছাগল কি আর মানুষ হয়..

Friday, April 3, 2009

পোর্ট্রেট তোলার গল্প

ক্যামেরা কেনার সময় ভাবতাম পাখির ছবি তুলব। কয়দিন পর টের পেলাম পাখির ছবি তোলা ফোটোগ্রাফির সবচে' কঠিন ও খরুচে বিষয়গুলোর একটা। "কঠিন" অংশগুলোকে রপ্ত করা যায়, টাকা তো আর ম্যানেজ হয় না ম্যাজিক দিয়ে। এরকম সময়ে বোকে কি জিনিস সেটা জানার একটা সুযোগ হল, কিনে ফেললাম ৫০মিমি f/1.8 লেন্স। সেটার পরীক্ষা চললো মাশীদ, ওয়াফিয়া আর ওয়ারিদের ওপর দিয়ে। আবিস্কার করলাম পোর্ট্রেটগুলো খারাপ হচ্ছে না। উতসাহ বেড়ে গেল। একদিন স্পীডলাইট কিনে ফেললাম, আরো কদিন পরে ৩৫মিমি f/1.4L..

এখন পোর্ট্রেট তুলতে ভালোই লাগে। ভাবছি রাস্তাঘাটের মানুষের ক্যানডিড শট কিভাবে নেওয়া যায়। খানিকটা ভীতু কিনা, তাই সাহস হয়না। ৩০০মিমি জুম লেন্স দিয়ে চেষ্টা করা যেত, কিন্তু ৭০-৩০০ এতো নড়াচড়া করে যে লোকে ভয় পেয়ে যায়..
টাকা থাকলে একটা ৮৫মিমি f/1.2L কিনতাম, তখন অবশ্য একটা ফুলফ্রেম ক্যামেরাও জরুরী হয়ে যাবে! কি আর করা..


জেয়ি
Zeyi Shen

ওয়াফিয়া
Wafia

ওয়াফিয়া
Wafia

মনির
ক্যাচ দ্য ড্রিম যখন ক্যাচিত হইলেন

ওয়ারিদ
Waarid


মাশীদ
She

মাশীদ
She

জেয়ি
Zeyi Smiling

জেয়ি
Zeyi in Green

Thursday, April 2, 2009

মেঘছেঁড়া আলো এসে পড়েছিল..

Surreal?
সেদিন ক্যামেরা নিয়ে এমনিই গুঁতাচ্ছিলাম, হঠাত্ দেখি আকাশে মেঘে ছিড়ে আলো পড়ছে। ভাবলাম তুলে HDR করে ফেলি। পরে দেখি HDR না করেই শুধু শ্যাডো বাড়িয়ে দিতেই অসাধারন ছবিটা বের হয়ে এল..

ইশকুলের দিন

সতের বছর বয়স একটা অদ্ভুত সময়। শরীরের তোলপাড় একপ্রস্থ হয়ে গেছে, নাকের নীচের পাতলা গোঁফের রেখাটা আরো এক শেড ঘন হয়ে গেছে, পাশে বসা মেয়েগুলো একদিন কেমন "মেয়ে" থেকে তরুনী হয়ে গেল। আমরাও ভাবতে লাগলাম "বড় হয়ে গেলাম শেষ পর্যন্ত"। ইসকুলের দিনগুলি শেষ হয়ে এসেছে প্রায়। প্রত্যেকটা দিন ভাবি এই দালানটাকে, এই মানুষগুলোকে আঁকড়ে ধরে থাকি, পুরোনো স্মৃতিগুলো বেদনার দলা পাকিয়ে গলার কাছে এসে আটকে থাকে। কারনে অকারনে চোখের কোনা ভিজে যায় বারবার.. এই বন্ধুগুলোকে কিভাবে হারাতে দেই.. এই মাঠের ধূলা, ঘাসের গন্ধ কিভাবে ভুলে থাকি। কেমন করে দিন কাটাই আমার ভালোবাসার মেয়েটাকে না দেখে..।

তারপর শেষদিনটা আসে। শেষ ক'ফোটা অশ্রু ফেলে বাড়ি ফিরি সেইদিন, চেনামুখগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় পেছনে..


এরপর অনেক পানি গড়িয়েছে। আজ একযুগ পর আমি-আমরা সবাই অনেক এগিয়ে গেছি। যে স্মৃতি ছেড়ে যেতে বুক ফেটে গিয়েছিল তাতে আজ ধূলো জমে থাকে। আমার পৃথিবী এখন অনেক বড়, অনেক জটিল, অনেক অনেক নির্মম।

আজকে ইউটিউব ঘাটতে গিয়ে লুলু"To Sir, with Love" শোনা হল। "To Sir, With Love" ১৯৬৭ সালে নির্মিত ব্রিটিশ ছবি। বিলিতি ইশকুলে একজন কালো শিক্ষকের অবাধ্য-অশিষ্ট ছাত্রদের কাছে আসার কাহিনী এটা। জটিল সব সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করায় সিনেমাটা কিছুটা বিখ্যাত হয়েছিল। তবে মার্কিন টপ চার্টে উঠেছিল লুলুর গানটা। এমন আহামরি গান না, কিন্তু আজকে শুনে হঠাত্ করেই ভীষন নস্টালজিক লাগতে থাকে। নস্টালজিয়া ভালো জিনিস না, বহু দূর থেকে হুহু করা বাতাস বয় ভিতরে।

আহা, অতীতকে যদি আবার ছোঁয়া যেত..

মুন রিভার

ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিজে অড্রে হেপবার্ন গাইবে জন্য জনি মার্সার লিখলেন মুন রিভার, আর তাতে অসাধারন এক সুর করলেন হেনরি ম্যানসিনি। এই গান কোথায়,কবে প্রথম শুনেছিলাম মনে নেই, কিন্তু মনে গেঁথে গেছে ভালো করেই। সঙ্গীত বড় অদ্ভুত জিনিস, এমনভাবে টানতে পারে কি আর কিছু..?


আন্ড্রিয়া রসের কন্ঠে শোনা যাক এই গানটা



কেমন ছিল অরিজিনাল গানটা? অড্রে হেপবার্নের গলায় শোনা যেতে পারে এখান থেকে..