Tuesday, April 21, 2009

তিওমান দ্বীপে প্রথমবার..

প্ল্যানটা মাশীদের, তিওমান যাবে সঙ্গী হবে টিনা, ইন্দ্রনীল আর আমি বোচকা বাহক। ম্যাডামের কথা ফেলা কি যায়? যায় না... তাই দুদিন ছুটি নিলাম।

তিওমান এই প্রথম যাচ্ছি। মালেশিয়ার শ্রেষ্ঠ বীচের একটা রেদাং আরেকটা তিওমান। তিওমান যাওয়া সহজ নয়। প্লেন এ যাওয়া যেত, শখও ছিল। কিন্তু বেরজায়া এয়ারের টিকিট (২৫০ রিঙ্গিত ওয়ান ওয়ে) পাওয়া গেল না। তাই বাধ্য হয়ে গেলাম পুডুরায়া বাস টার্মিনালে। বাস যায় মার্সিং পর্যন্ত। মার্সিং থেকে ফেরী বা স্পীডবোটে তিওমান যাত্রা (এক/দুই ঘন্টা, ৩৫-৪৫ রিঙ্গিত)। রাত সাড়ে দশটার বাসের টিকিট কিনেছিলাম ২৪ রিঙ্গিত দিয়ে। বাসা থেকে বেরোতে গিয়ে দেখি সাড়ে দশটা। বুঝলাম বাস মিস হবে, আর মাশীদের ক্যাচক্যাচানি শুনতে হবে ছয় মাস। গিয়ে দেখি বাস তখনও লোক তুলছে। শেষে ছাড়ল রাত এগারোটায়।

মার্সিং এ পৌছেছি ভোর সাড়ে ছ'টায়। দোকান থেকে তিন রিঙ্গিত দিয়ে নাসি লেমাক (নাসি = ভাত, লেমাক = নারকেলের ফ্যাট) দিয়ে নাস্তা করলাম। নাসি লেমাক মন্দ না, টিপিকাল মালে ডিস। সাদা ভাতের সাথে ডিম সেদ্ধ বা পোচ, অ্যানচভি (ছোটমাছের শুটকি) আর টমেটো, নারকেল দুধ, লালমরিচ আর মসলা দিয়ে তৈরি সাম্বাল - এই হল নাসি লেমাক। মাশীদরা সিঙ্গাপুর থেকে পৌছাবে সকাল এগারোটায়। তাই সাইবার ক্যাফেতে আড্ডা। তিওমানে নেট পাব কিনা জানি না। তবে মনমুগ্দধকর প্রকৃতি দেখার অপেক্ষায় আছি।
(এই টুকু লেখা হয়েছিল মার্সিং-এ বসে)


* * * * * * * * * * * * * * * * * * * *













* * * * * * * * * * * * * * * * * * * *

মাশীদদের জন্য বসে ছিলাম সকাল ছটা থেকে। মার্সিং-এ বাস যেখানে থামে তার নাম আর এন্ড আর প্লাজা। এর পাশেই জেটি। আর এন্ড আর প্লাজা তে সব এজেন্টগুলোর কাউন্টার। হাতে সময় থাকায় সাইবার ক্যাফে খুজে বের করে সুমনদার সাথে গ্যাঁজাতে বসলাম। হঠাৎ মাশীদের এসএমএস। একটা ফোন নামবার দিয়েছে, ওখানে কল করে ফেরীর টিকেট যোগাড় করতে হবে। সাড়ে এগারোটায় ফেরী। ফোন করায় আমাকে বলা হল আর এন্ড আর প্লাজাতে চলে আসতে, ওখান থেকেই টিকেট দেওয়া হবে। আগেই বুকিং দেওয়া ছিল, তাই ঝটপট দুশো আশি রিঙ্গিত দিয়ে চারটা টিকেট কিনে ফেললাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমারা যে ফেরীটায় রওনা দিলাম বিকাল পাঁচটায়, সেটার তিনটায় ছাড়ার কথা ছিল! ঘটনা হল যাদের কাছে বুকিং দেওয়া হয়েছিল তারা কাজটা ঠিক মতো করেনি। ফলে জেটির কাউন্টার থেকে আমাদের না করে দিল। এগারোটার ফেরীতে তাই যাওয়া গেল না। চোটপাট করে টাকা ফেরত নিয়ে আবার টিকেট কাটলাম বিকেল তিনটার ফেরীর জন্য। সেই ফেরী ঘাটে এল সাড়ে চারটায়, ছাড়ল পাঁচটায়!














তিওমান ছোট দ্বীপ। দ্বীপের চারদিকের সৈকতে গড়ে উঠেছে সব জনবসতি। কিন্তু এক সৈকত থেকে আরেক সৈকত বিচ্ছিন্ন। আবার সৈকতভেদে বালুকাবেলার সৌন্দর্যেও অনেক পার্থক্য হয়। তাই তিওমানের ঠিক কোন সৈকতে যাবেন তা আগেই ঠিক করা প্রয়োজন। সোনালী বালু আর স্ফটিক সবুজ পানির জন্য সেরা সৈকত হল সালাং। টেকেক সৈকতও খারাপ না। আমাদের কপাল খারাপ। হোটেল পাওয়া গেল শুধু এয়ার বাতাং (এবিসি বীচ) সৈকতে (সাদামাটা সৈকত)। তিনটে জেটিতে লোক নামানোর পর ফেরী এয়ার বাতাং এর জেটিতে ঠেকে। জেটিতে যখন নামলাম তখন সম্পূর্ন ক্লান্ত-অবসন্ন। সামনে তাকাতেই কিছুটা ক্লান্তি ভুলে গেলাম। সবুজ স্বচ্ছ পানি! পিছে সারি সারি সব শ্যালে। আমরা উঠলাম জোহানস হাউস নামের একটা বাজেট হোটেলে। এসি ওয়ালা শ্যালের ভাড়া রাতপ্রতি আশি রিঙ্গিত। এখান থেকে সমুদ্র দেখা যায় না। বীচটাও পাথুরে আর ময়লা। নাজরী'স বরং ভালো। এদের শ্যালেগুলোর সম্মুখের সৈকত খবুই মনমুগ্ধকর। কিন্তু খরচও বেশী (১৬০ রিঙ্গিত রাতপ্রতি)। জোহান'স এর রেস্তোরাটা মন্দ না। বারবিকিউ করা টুনা আর সাদাভাত দিয়ে ডিনার করতে লাগল ১৭ রিঙ্গিত। টুনা ছাড়াও এখানে ব্যারাকুডা, স্টিংরে, স্কুইড এর বারবিকিউ পাওয়া যায়। নাসি গোরিং আর মি গোরিং (ভাজা নুডুলস) যে পাওয়া যায় সেটা বলাই বাহুল্য। ডিনারের পর বীচে ঘুরতে বের হলাম। সাগরের জলে ফসফরাসের আলোর কথা শুনেছিলাম, এবার সচক্ষে দেখা হল। ঘন্টায় চার রিঙ্গিত দিলে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। শখ থাকলে আর ভাড়া নেওয়া হয়নি। কিছদূর হাটার পর আমরা লক্ষ্য করলাম তিওমানে প্রচুর বিড়াল এবং অনেক-কটারই লেজকাটা! প্রতিদিন রাতে ডিনারের সময় মাশীদকে এরা বিরক্ত করে ব্যাপক আনন্দ লাভ করত এবং আমার স্ত্রীও বিড়াল দেখে যারপরনাই সন্ত্রস্ত হতেন।










রোববার সকালে উঠে জানলাম আমরা স্পীডবোট নিয়ে বের হচ্ছি। দিবসের প্রধান কার্যক্রম হবে স্নরকেলিং। ইন্দ্রনীল দশ রিঙ্গিত দিয়ে গিয়ার ভাড়া নিল। আমি তো সাঁতারই জানি না, তাই উৎসাহ দেখালাম না। আমার ধান্দা ছবি তোলা। লো টাইডের জন্য বোট এল সাড়ে এগারোটায়। আমাদের সঙ্গী হল দুই সুইডিশ তরন-তরুনী (মেয়েটার নাম সিসিলিয়া এটা মনে আছে)। লাংকাওয়িতে আইল্যান্ড হপিং এর সময় স্পীডবোটে চড়েছি। সেবার ভয় পেয়েছিলাম, এবার আত্মা কেঁপে উঠল। বিশাল ঢেউ এ পড়ে স্পীড বোট একটু পরপর লাফ দেয়। তারপর যখন পানিতে ধাপ করে পড়ে, আমরা সবাই তখন প্রায় ছিটকে পড়ি পানিতে! জান যায় যায়! ভাগ্যিস লাইফজ্যাকেট পড়া ছিল সবার। প্রায় আধা ঘন্টা যাবার পর বোট থামল সাগরের মাঝে অদ্ভুত একটা যায়গায়। কিছু পাথর জড়ো হয়ে দ্বীপের মতো হয়ে আছে। প্রাকৃতিক না মানুষের গড়া জানিনা, কিন্তু দেখতে অবাক লাগে। সারেং বলল এখানে স্নরকেলিং করতে। ইন্দ্রনীল আর সুয়েড গুলো নেমে গেলে। মাশীদ আর টিনা তখন রুটি ছিড়তে ব্যস্ত মাছকে খাওয়াবে বলে। আমি রেডি হলাম ছবি তুলতে। মাশীদ রুটির টুকরো ছোড়ে আর তা পানি ছুতে না ছুতেই শেষ করে দেয় একদল কালো ডোরাকাটা নীল মাছের দল। এদের দলে একটু পর ভীড়ে গেল কিছু প্যারট ফিস আর হলদে মাছ। হঠাৎ পাশে ভুস করে ইন্দ্রনীল মাথা উঠাল পানি থেকে। জিজ্ঞেস করলাম কেমন, উত্তর দিল অসাধারন। কি যেন হল। আর সামলাতে পারলাম না। আমি সাঁতার পারি না তো কি! লাইফ জ্যাকেট পড়ে, ইন্দ্রনীলের স্নরকেলিং গিয়ার পড়ে ঝাপ দিলাম নীল জলে। জীবনে আগে স্নরকেলিং করিনি, তাই প্যানিকড হয়ে গপগপ করে নোনা পানি গিলে ফেললাম। প্রায় ডুবি আর কি। অনেক কষ্টে সামাল দিয়ে কিছুটা শান্ত হয়ে আবার ডুব দিলাম। এবং পরবর্তী বিশ মিনিট নেশা গ্রস্ত হয়ে গেলাম। আন্ডারওয়াটার ক্যামেরা নাই বলে দেখাতে পারলাম না কি যে অসাধারন আর অপার্থিব সে দৃশ্য। টলটলে নীল পানি, নিচে নানা রঙের কোরাল আর তাতে নীল-হলুদ সব বিচিত্র মাছের খেলা। টিভিতে অনেকবার দেখেছি, নিজ চোখে দেখার আনন্দই আলাদা। ইন্দ্র ডুব সাতার জানত, তাই তার দেখার আনন্দ ছিল আরও গভীর। সে সাঁতরে সাঁতরে ক্লাউন ফিশ ("ফাইনডিং নিমো" এর নিমো) দেখে ফেলল এক ফাঁকে। একঘন্টা পর আমরা এই কোরাল রীফ থেকে আরেকটা বীচে গেলাম। সেখানেও একই ঘটনা। সোনালী বালু আর সবুজ স্বচ্ছ পানি, তাতে বিচিত্র মাছের খেলা। তিনটার দিকে আমরা সালাং গিয়ে লাঞ্চ করলাম। তারপর মাঙ্কি বে হয়ে ঘরে ফেরা। কিন্তু পুরোটা সময়ই মাথায় ঘুরছিল সেই সাগরতলের অপরূপ দৃশ্যের কথা । বেশী সাঁতরে বেড়ানোয় ছবি তোলা হয়েছে কম। কিন্তু স্নরকেলিং এর অভিজ্ঞতাটা তো অসাধারন! তাই প্ল্যান করেছি এরপর রেদাং গিয়ে আবার স্নরকেলিং করব। সাতার শিখতে পারলে ভালো হত, আরও ভালো হত স্কুবা ডাইভিং এর লাইসেন্স থাকলে। যাই হোক, বেশ মজা হল অনেকদিন পর। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে সারা গা ব্যথা হয়ে গেল। ডিনার করলাম আগে আগেই। তারপর হাঁটাহাটি চলল মাঝরাত পর্যন্ত।

আজ (৫ই জুন, ২০০৬) সকাল সাড়ে সাতটার ফেরী ধরে এগারোটায় মার্সিং পৌছালাম। সাড়ে এগারোটার বাসে আমি কেএল আর ওরা সিঙ্গাপুর রওনা দিল। শখ ছিল আরও কটা দিন থাকব। সমস্যা হল তিওমান, লাংকাওয়ির মতো অতোটা গোছানো না। তাই আগে থেকে কিছু ঠিক না করা থাকলে মহা ঝামেলায় পড়তে হয়। রেদাং-এ এই সমস্যাটা আরও বেশী। ঝামেলা যাই হোক নেক্সট অ্যাডভেঞ্চার, রেদাং-এ হবে, তাতে সন্দেহ নেই...


(প্রথম প্রকাশঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/arupblog/10773 ০৫ ই জুন, ২০০৬ সকাল ১০:৩৪ )

মুস্তাফিজনামা

কম্পিউটারে বসে ছিলাম। হঠাৎ গুগলটকের উইন্ডোতে মেসেজ আসে, "আমাকে একটা আইটানেরারি ঠিক করে দেন, ১৫ তারিখে আসব.."

আর কেউ না, মুস্তাফিজ ভাই। আমি মস্করা করে ডাকি দশবাইশ ভাই বলে। দশবাইশ ভাইও শীতলমুখে মস্করা করতে পটু। তাই ঠিক বুঝতে পারলাম না সে আসলেই আসছেন কিনা। একবার প্ল্যান ক্যানসেল হয়েছে ম্যালেরিয়ার কল্যাণে। রোগ থেকে উঠেই, বৌ-বাচ্চা ফেলে সে যে সত্যিই আসবেন বিশ্বাস হচ্ছিল না।

বাঙালীর অ্যাডভেঞ্চার প্রীতি কম। এদের কাছে ভ্রমন মানে দেশের বাড়ি (তা শহর থেকে গ্রামেই হোক আর বিদেশ থেকে বাংলাদেশেই হোক) যাওয়া। এই আধাবুড়া লোকটাকে যখন বললাম চলেন স্নোরক্লিং করতে যাই, সে আমাকে ভীষন অবাক করে দিয়ে রাজী হয়ে গেল। আমি মনে মনে বললাম, "বাহ!"

১৫ তারিখে এয়ারপোর্টে গিয়ে কাউকে দেখা গেল না। আমি সবসময় দেরী করে যাই। ভাবলাম দেরী দেখে চাচামিয়া ট্যাক্সি নিয়ে কেটে পড়েছেন, কিংবা আদৌ আসেন নাই। এমন সময় পিছন থেকে এক হন্তদন্ত যাত্রী ধাক্কা দিল। ঢাকা হলে ঝাড়ি দেওয়া যেত, বিদেশে আমরা বড়জোড় অগ্নিদৃষ্টি দেই। চোখ পাকিয়ে তাকাতে গিয়ে দেখি দশবাইশ ভাই!!

অরূপ কেন ছবি তোলে?
অরূপ কেন ছবি তোলে?

হাতে সময় কম। বাসা থেকে মাশীদকে তুলে নিয়ে আমরা গেলাম টুইন টাওয়ার দেখতে। কিছু ছবি তুলে গেলাম বুকিত বিনতাং এ। ফোটোশুট আর ডিনার দুইই হবে সেথায়। মুস্তাফিজ ভাই টমইয়াম সুপ টমইয়াম সুপ করে বাই দিস টাইম কানের পোকা নাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই টমইয়াম সুপ, ব্ল্যাকপেপার বিফ আর চিকেন ফিশ দিয়ে ভুড়িভোজের আয়োজন হল।

টুইন টাওয়ার দেখে


কী যে তুললাম, বুড়া বয়সে চোখেও দেখি না!


খেতে খেতে..


বুকিত বিনতাং এর পথে


জালান আলোরে গিয়ে


বাড়ি ফিরে হালকা গোছগাছ করে আমরা ভোর তিনটায় রওনা দিলাম মার্সিং জেটির দিকে। জায়গাটা একদম দক্ষিনে সিংগাপুরের কাছে, যেতে হয় জোহর বারু রাজ্যের উপর দিয়ে। প্রথম আড়াইশো কিলো চালানোর পর আমার চোখ ঢুলুঢুলু। এদিকে দশবাইশ দাদারও গাড়ি চালানোর একটা চাপা খায়েশ ছিল। "চালাবেন নাকি?" জানতে চাওয়ায় চাচা রাজি হয়ে গেলেন। আমি নাক ডাকতে লাগলাম আর তিনি মনে আনন্দে আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে গাড়ি চালিয়ে সকাল আটটার দিকে মার্সিং হাজির হলেন। ভাবছেন রাস্তা চিনলো সে কেমন করে? এ আর কি কঠিন কাজ যদি GPS থাকে!


মার্সিং থেকে ফেরি নিয়ে যেতে হয় তিওমান দ্বীপে। তিওমান দ্বীপের অনেক সৈকত। আমরা গেলাম একদম মাথায়, সালাং সৈকতে। জেটিতে নেমেই মনটা ভালো হয়ে যায়। নীল পানি, সোনা সোনা বালি..

আমি বিড়বিড় করে আমীর খসরু আউরে যাই, "আগার ফিরদৌস বারুহে জমিনাস্ত, হামিনাস্তো হামিনাস্তো হামিনাস্‌ত.." (স্বর্গ যদি থাকে, তাহলে সে এখানেই.. এখানেই.. এখানেই..)

তিওমান দ্বীপে অবতরন

কিন্তু স্বর্গে নেমে দশবাইশ ভাই বিপদে পড়ে গেলেন। রোগে ভুগে প্যান্ট ঢিলা হয়ে গেছে, একটু পরপর ফট করে নেমে যায়। যাইহোক, টেনেটুনে কোনমতে ইজ্জত রক্ষা করে শ্যালেতে পৌছালাম আমরা। এরপর কি হল সেই গল্প মুস্তাফিজ ভাই বলবেন, কারন আমার গল্প ওনাকে নিয়ে, তিওমানভ্রমন এখানে ঠিক মুখ্য নয়।

প্যান্ট কেন ঢিলা?
প্যান্ট কেন ঢিলা?


স্কুবা ডাইভিং যখন করতেই হবে..
স্কুবা ডাইভিং যখন করতেই হবে..


এই ছেলে এতো ছবি তুলে কিসের ধান্দায়?
এই ছেলে এতো ছবি তুলে কিসের ধান্দায়?


যীশু যীশু ভাব, নবুওতের অভাব..
যীশু যীশু ভাব, নবুওতের অভাব..


এখনও তোলা শেষ হয় নাই?
এখনও তোলা শেষ হয় নাই?


দশ-বাইশে মৎস্য শিকার
দশ-বাইশে মৎস্য শিকার


সৈকতে কি খোঁজে সে?
সৈকতে কি খোঁজে সে?

ভাগ্যিস G9টা সাথে ছিল
ভাগ্যিস G9টা সাথে ছিল

বেশী টমইয়াম সুপ খেলে এই হয়
বেশী টমইয়াম সুপ খেলে এই হয়

ওই চিংকু, ফটু তোলা জানোস?
ওই চিংকু, ফটু তোলা জানোস?


তিওমানে দু'রাত থেকে আমরা বহু যন্ত্রনা করে কেএল ফিরে গেলাম। পথে ফ্ল্যাট-টায়ার হয়েছিল। চাচামিয়া বহু ঘাম ঝড়িয়ে চাক্কা পাল্টানোর কাজও করলেন। কি লজ্জার কথা! বেচারা অতিথি, তাকে এই কষ্ট না দিলেও হতো।

পরদিন দুপুরে মুস্তাফিজ ভাইকে নিয়ে আবার যাওয়া হল বুকিত বিনতাং এ, শপিং এর ধান্দায়। ভদ্রলোক লাওইয়াত প্লাজা থেকে দুম করে ছশো রিংগিত দিয়ে লোপ্রো ৪০০ অলওয়েদার কিনে ফেললেন। গর্বিত ব্যাগমালিক হয়ে দশবাইশ ভাই এর মুখ চকচক করতে থাকে। এমন সময় মাশীদ বললো সুংগাই ওয়াং প্লাজায় ফ্যাশন শো হচ্ছে। আমি আর মুস্তাফিজ ভাই দিলাম ছুট। মাথায় বাবরি, হাতে সাদালেন্স, পিঠে মোটকা ব্যাগ দেখে লোকজন যায়গা ছেড়ে দিল। দশবাইশ ভাই ফোটু খিঁচতে লাগলেন মনের সুখে।

শপিংমলেও রক্ষা নাই
শপিংমলেও রক্ষা নাই


শিকারী ও শিকার
শিকারী ও শিকার


The Proud Lowepro Owner!!!
গর্বিত ব্যাগমালিক


দুপুরে খাওয়া হল ব্যাংকক জ্যাম নামের রেস্তোরায়, কারন সেই একটাই, ভালো টমইয়াম সুপ খাওয়ানো। ইতোমধ্য আমার ছবি তোলায় চাচা প্রায় অস্থির হয়ে গেছেন, একবার তো মনে হল, আরেকবার শাটার টিপলেই থাবড়া দিবেন!

মেনুতে টমইয়াম সুপ দেখি না কেন?
মেনুতে টমইয়াম সুপ দেখি না কেন?


থামলে ভালো লাগে..
থামলে ভালো লাগে..


আরেকবার শাটার টিপ দিলে কিন্তু মাইর খাবেন!
আরেকবার শাটার টিপ দিলে কিন্তু মাইর খাবেন!


সন্ধ্যায় পুত্রাজায়ায় গেলাম। পুত্রাজায়ার স্থাপত্য চমৎকার। মাগরিবের সময় আকাশ ফেটে রং ঝরে। দশবাইশ ব্যবহারের উত্তম জায়গা এটা। মুস্তাফিজ ভাই এর হাটা বদলে গেছে ব্যাগের কারনে, লোপ্রোর ব্যাগ কাঁধে থাকলে সবাই কেমন নিজেকে বীরপুরুষ ভাবা শুরু করে। বুঝলাম আমারও একটা কেনার সময় হয়ে গেছে!

পুত্রাজায়ায় মুস্তাফিজ ভাই বেশী সুবিধা করতে পারলেন না। তার একটা বড় কারন ট্রাইপড। লোকে কেন পনেরবিশ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাইপড কেনে সেইটা আমাদের দশবাইশ দাদা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন! যারা ট্রাইপড কিনবেন, তারা অবশ্যই একটু খরচ করে হাতে ব্যবহার করে ভালো জিনিসটা কিনবেন। না হলে কঠিন পস্তাতে হবে।

পুত্রাজায়া অভিযান
পুত্রাজায়া অভিযান


ট্রাইপড ভ্যাজাল করলে চাচ্চুদেরও রাগ হয়
ট্রাইপড ভ্যাজাল করলে চাচ্চুদেরও রাগ হয়


আর তুলুম না, হালার ট্রাইপড!!
আর তুলুম না, হালার ট্রাইপড!!


নটার দিকে শুটিং শেষ করে আমরা আবার গেলাম লাওইয়াতে, মাতিসের জন্য Wii কিনতে। ক্লান্তির কারনে ছবি তোলা থেমে গেছে অনেক আগেই। দোকান থেকে খাবার কিনে আমরা বাড়ি গিয়ে গল্প করতে করতে ডিনার সারলাম। ভদ্রলোক চলে যাবেন ভোর ছটার ফ্লাইটে। ক'টা দিন ভালোই কাটলো। খানিকটা বিষন্ন হয়েই চিন্তা করতে থাকি, এই মাঝবয়েসী তরুনের সাথে আবার কবে বেড়ানো যাবে?

থ্যাংক ইউ মুস্তাফিজ ভাই... আস্তা লাভিস্তা!!

Tuesday, April 14, 2009

টিংকারবেল

"Tinkerbell" (by Arup / অরূপ)

মরার দেশে আমার নববর্ষ খুব একটা ভালো যায় না। এবার একটু আলাদা। সকালে একটা ভালো মেইল পেলাম। বাবা খিচুড়ি বানালো। তারপর টিংকারবেল এসে বহুক্ষন ডাকাডাকি করে চলে গেল। আমাদের ওপর টিংকারবেলের ব্যাপক আক্রোশ আছে, কারন মাশীদের প্লাস্টিকের ফুলটা যে নকল সেটা তার বুঝতে অনেক সময় লেগেছে। তাকে বশ করার জন্য বারান্দায় সুগার ওয়াটার রাখার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু ঝড়ে ফীডার ভেঙ্গে গেছে। চাপা রাগ নিয়ে সে প্রতিদিন দুপুরের আগে এসে কিছুক্ষন বকাবকি করে যায়। বেচারা টিংকারবেল!

Sunday, April 12, 2009

পোর্ট ডিক্সনে

Kingfishers of Port Dickson (by αгυρ / অরূপ)
পোর্ট ডিক্সন-এ। আগেও গেছি, ঘন্টা খানেক লাগে। সমুদ্রের পাশে হলেও সৈকত সাদামাটা, নোংরা। তাই আবার যাবার আগ্রহ ছিল না। কদিন আগে র‌্যাপটরওয়াচ হল এখানে। ছবিটবি দেখে মনে হল আগের চেয়ে ভালো, তাই বাবা আর মাশীদকে নিয়ে রওনা দিলাম।

আসলেই পিডির বেশ উন্নতি হয়েছে। অনেক পরিচ্ছন্ন এখন। রেদাং/তিওমানের সাথে তুলনায় এই সৈকত কিছুই না, কিন্তু বাড়ির পাশে এরকম সোনা বালুর সৈকত খুব মন্দ না। শখ হলেই আসা যাবে, সাত ঘন্টা ড্রাইভ করতে হবে না!

অসময়ে গেছি বলে খাইদাই হয়নি ঠিকমতো। তবে যা খাওয়া হল সেটা একটা জিনিস বটে! নাম হল গিয়ারবক্স সুপ। হাড্ডি জ্বাল দিয়ে বানায় এই ঝোল, সাথে মসলা আর এটাসেটা। খেতে ভালোই লাগে। আগে একবার খেয়েছিলাম ফ্রেজার হিল থেকে ফেরার পথে। ওরা বলে সুপ একর। এরা নাম দিয়ে গিয়ারবক্স সুপ, বিশাল হাড্ডিটার জন্য আসলেই গাড়ির গিয়ারবক্সের মতো লাগে। এই জিনিস খেতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে গেলাম। নেহারী খেতে মঞ্চায়!!


Steamed Cakes
ভাঁপা পিঠা এরাও বানায়, কিন্তু একসাথে দুই ডজন!!


Satay Hawker (by αгυρ / অরূপ)
সাতেওয়ালা! ভদ্রলোক যদি জানতো শিককাবাব কি জিনিস!!

The Busker of Port Dickson (by αгυρ / অরূপ)
ভিক্ষা চায় না সে, গান শোনায় ঢোলবাজিয়ে, ভালো লাগলে পয়সা দিয়ে একটা প্যাকেট ফেসিয়াল টিসু কিনুন..

মিকিমাউস ভালো হয়ে যা..

সেদিন গ্যারেজে গিয়ে দেখি লংকা কান্ড, কুকুরকুকুর আর মিকিমাউস (সে-ও একটা কুকুর, ইদুরের মতো করে তাকায় জন্য তার নাম হয়েছে মিকিমাউস, যদিও এই নামকরন নিয়ে আমার স্ত্রীর ব্যাপক আপত্তি!) ক্যাটফাইট (ডগফাইট বলা উচিত ছিল, কিন্তু দুই কাপুরুষ কুকুরের মারামারিকে সেই পর্যায়ে তোলা সঙ্গত হবে কি?) শুরু করে দিয়েছে। হাতের কাছে একটা কোকের ক্যান ছিল। মারলাম ঢিল.. ফাজিলের দল!

আজকে দেশী গরুর ভুনা মাংস খেতে খেতে দেশের খবর দেখছিলাম "দেশ টিভি"র কল্যাণে। সুখাদ্যে মেজাজ তরল থাকে, তাই অনেকক্ষন গালাগালি করলাম না। এক ফাঁকে সংসদ অধিবেশনের ক্লিপিং দেখানো শুরু হল। ভাগ্যিস হাতের কাছে কোকের ক্যানট্যান ছিল না। মন্দার সময় হুদাই একটা নতুন মনিটর কিনতে হত...

Thursday, April 9, 2009

শুভ জন্মদিন অরূপ!



আজ জানলার কাঁচে ডেকে গেছে এক পাখির মতো সকাল
যেন রাখালিয়া বাঁশী..
এই শহুরে গলার ফাঁসি, ছিঁড়ে দেখাবে এ দুনিয়া কার
বলে, সুখে আছো যারা সুখে থাকো এ সুখ সইবে না
দুখে আছো যারা বেঁচে থাকো এ দুখ রইবে।।

Monday, April 6, 2009

হ্যাপী বিলেটেড বার্থডে সুমন

মার্চের ১৬ তারিখ যে আপনার জন্মদিন ছিল সেটা আমি জানতাম না। জানব কি করে, আপনাকে বহুদিন হল ভুলে আছি। কি অদ্ভুত!! কি অদ্ভুত!!

আমি আপনাকে যে গান শুনে চিনেছি আর দশজনও সেই গানেই চিনেছে আপনাকে। সেই দশজনের ন'জন ক্রমশ আপনাকে ছাড়লেও আমি কিন্তু আপনাকে আঁকড়ে ছিলাম বহুকাল। যে গান চোখ খুলে দেখতে শেখায়, যে গান ভাবতে শেখায়, সেই গান আর কে এমন করে শোনাতে পারে। আমার ভীষন মন খারাপ ছিল। আপনার গান শুনে মন ভালো হয়ে গেল। ভালো হবে না কেন? যে গানে রক্তে আগুন ধরায়, যে গান খোলস চীরে দেখতে শেখায়, যে গান হাতমুঠো করতে শেখায়, যে গান ভালোবাসার প্রেমে পড়তে শেখায় সেই গান মন ভালো না করালে, মন থেকেই কি লাভ...

হ্যাপী বিলেটেড বার্থডে সুমন, ষাট বছরেও কি আপনি বুড়ো হবেন..? আমরা সেটা কি করে হতে দেই..

"প্রতিদিন সূর্য ওঠে তোমায় দেখবে বলে, হে আমার আগুন তুমি আবার ওঠো জ্বলে"


Sunday, April 5, 2009

বিস্ময়ের ছবি, দালি এটোমিকাস!



এই ছবিটার নাম দালি এটোমিকাস, আলোকচিত্রী ফিলিপ হালজম্যানের তোলা। সালভাদর দালির একটা ছবি ছিল "লেডা এটোমিকা" নামে। সেই ছবি থেকে অনুপ্রানিত হয়েই হালজম্যান এই ছবিটা তোলেন ১৯৪৮ সালে। একবারে তোলা যায়নি, পারফেক্ট শটটা পেতে আটাশবার চেষ্টা করতে হয়েছিল।

ষাট বছর আগে কিভাবে এই শটটা নেওয়া হয়েছিল ভাবতেই অবাক লাগে! এই ছবি নিয়ে Brandon Luhring লিখেছেন:
Halsman set up his New York studio and using the 4 x 5 format, twin-lens reflex camera that he had designed in 1947, he prepared to capture one of his most memorable photographs. He suspended an easel, two paintings by Dali (one of which was “Leda Atomica”), and a stepping stool; had his wife, Yvonne, hold a chair in the air; on the count of three, his assistants threw three cats and a bucket of water into the air; and on the count of four, Dali jumped and Halsman snapped the picture. While his assistants mopped the floor and consoled the cats, Halsman went to the darkroom, developed the film, and reemerged to do it again. “Six hours and twenty-eight throws later, the result satisfied my striving for perfection,” wrote Halsman.


উইকিপিডিয়াতে হালজম্যানের জীবনী

.

Saturday, April 4, 2009

বজ্রশিকার, আবারও.. .

Lightning Captured! Finally..

অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম একটা ভালো বজ্রপাতের ছবি তুলবো। কিন্তু কোনবারই সুবিধা করতে পারিনি। আজকে দেখলাম অনবরত বাজ পড়ছে, ১৫মিমি ফিশআই লাগিয়ে ৩০ সেকেন্ড শাটার স্পীড দিয়ে নেমে গেলাম বজ্রশিকার। পনেরবার চেষ্টার পর এই ফল! আমি খুশি :)

*** একটু আগে ইমেইল পেলাম যে, Through The Lens : Bangladesh নামের ফ্লিকার গ্রুপে এটাকে ফোটো অফ দ্য ডে ডিক্লেয়ার করেছে! ভালোই!!

পেতালিংজায়া ফোটোগ্রাফিক সোসাইটির সভ্য হলাম



DCIM শো-তে গিয়ে দেখি এরা সদস্য সংগ্রহ করছে। ধানমন্ডি থেকে কি উত্তরা ক্লাবের সভ্য হওয়া যায়? জিজ্ঞেস করলাম, "আমি কিন্তু পেতালিংজায়াতে থাকি না, সদস্য হতে পারবো তো?"
"কোন সমস্যা নাই, পিনাঙ এর লোকও আমাদের সভ্য"

দেরী না করে ষাটটি রিংগিত খসিয়ে মেম্বার হয়ে গেলাম..

আজকে ছিল পর্সাতুয়ান সেনিফোটো পেতালিংজায়ার (PSPJ) বা পেতালিংজায়া ফোটোগ্রাফিক সোসাইটি-র প্রথম মিটিং, কেএল ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে। যেসব হোটেলের নামের সাথে ইন্টারন্যাশনাল শব্দটা থাকে, তাদের অবস্থা সুবিধার হয়না। জিপিএস ছিল বলে কোনমতে পৌছালাম। গিয়ে দেখি জনা ত্রিশেক মানুষ উপস্থিত। বর্তমানে যে সভ্যাপতি তার নাম রাজা ইন্দ্র পুত্রা সংক্ষেপে রিপি। সেই রিপিই আমাদের স্বাগত জানালো। তারপর মার্চের সেরা ছবির বিচারপর্ব চলল, জানানো হল পরবর্তী আউটিং এর বৃত্তান্ত। দুটো লেকচার ছিল। প্রথমটা দিলেন কেএলকোহ, এর সাথে আমার ভালো খাতির জমে গেছে। পরেরটা ছিল রিপির, কম্পোজিশন নিয়ে আলাপ (ছবিতে মাইক হাতে কালো গেঞ্জি)। আলাপ শেষে সে ১২৫ ছবির কম্পোজিশন ব্যাখ্যা করল। পিএসপিজের রীতি অনুযায়ী সভাশেষে তেতারিক পর্ব চলে। আমরা সবাই গেলাম পাশের মেদান সেলেরায় চা-পর্বে অংশ নিতে। এই ক্লাব অনেক পুরোনো, অনেকেই পঞ্চাশ পার করে ফেলেছেন। চা-পর্বে কেএলকোহ চাচ্চুর সাথে অনেক আলাপ হল, বাংলাদেশের শুনে সে খানিকটা অবাকই। তবে আমি একা না, একটা জাপানীও আজকে দলে যোগ দিয়েছে। এদের সাথে ঘোরাঘুরি মন্দ হবে না মনে হচ্ছে