Saturday, April 4, 2009

শ্রী পেতালিং এর গোশভাত

প্রবাসে ভোগের সংজ্ঞা ভিন্ন, দেশে যা অনাগ্রহের বিষয়, বিদেশে সেটাই লোভনীয়। দেশে থাকতে গরুর মাংস কি জিনিস তা টের পাইনি, মালেশিয়া এসে বুঝলাম ইহা অমৃত! মজার বিষয় হল প্রথম দুবছর গোমাংস বলে যা কিন্তাম তা আসলে ছিল ভারতীয় মহিষের মাংস। মোখলেস ভাই না থাকলে এই ভুল ভাঙ্গতো না। জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হলেও, টাটকা গোমাংস তখনও দুর্লভ। তারপর একদিন কিনরারায় একটা সুবিশাল জায়ান্টের (হাইপারমার্কেট) ব্রাঞ্চ খোলা হল, দূর হল দেশী গরু খাবার বাঁধা। এই কাহিনী চলতে চলতে একদিন আমরা জানলাম শ্রী পেতালিঙ মসজিদের পাশে, গাছের নিচে, একদল দেশী ভাই ভাত, বিরানী, গরুর মাংস এসব নিয়ে পসরা বসায় প্রতি শুক্রবারে। প্রথমবার খেয়ে মনে হল কেঁদে ফেলি আনন্দে। আহা, গরম ভাত আর গরুর গোশ্ত!

আজকে অনেকদিন পর আবার গেলাম, দুপুরের খাবার খেতে। বরাবরের মতো সেই ভাত আর বিফকারি। চেটেপুটে খেয়ে বলি "কোক দেন একটা"। দোকানী জানায় কোক পরিবেশন নিষেধ এই এলাকায়, ইহুদীবাদী পণ্য কিনা!!!

"অন্য কোন ড্রিংক্স নাই?"
"হান্ড্রেড প্লাস খান?"
"ঠিকাছে তাই দেন.."

ঢেঁকুর তুলতে তুলেত ভাবতে থাকি, যারা কোকাকোলা বানায়, তারাই যে আবার হান্ড্রেড প্লাসও বানায়, এটা বোঝা কি এতোই কঠিন!!! ছাগল কি আর মানুষ হয়..

Friday, April 3, 2009

পোর্ট্রেট তোলার গল্প

ক্যামেরা কেনার সময় ভাবতাম পাখির ছবি তুলব। কয়দিন পর টের পেলাম পাখির ছবি তোলা ফোটোগ্রাফির সবচে' কঠিন ও খরুচে বিষয়গুলোর একটা। "কঠিন" অংশগুলোকে রপ্ত করা যায়, টাকা তো আর ম্যানেজ হয় না ম্যাজিক দিয়ে। এরকম সময়ে বোকে কি জিনিস সেটা জানার একটা সুযোগ হল, কিনে ফেললাম ৫০মিমি f/1.8 লেন্স। সেটার পরীক্ষা চললো মাশীদ, ওয়াফিয়া আর ওয়ারিদের ওপর দিয়ে। আবিস্কার করলাম পোর্ট্রেটগুলো খারাপ হচ্ছে না। উতসাহ বেড়ে গেল। একদিন স্পীডলাইট কিনে ফেললাম, আরো কদিন পরে ৩৫মিমি f/1.4L..

এখন পোর্ট্রেট তুলতে ভালোই লাগে। ভাবছি রাস্তাঘাটের মানুষের ক্যানডিড শট কিভাবে নেওয়া যায়। খানিকটা ভীতু কিনা, তাই সাহস হয়না। ৩০০মিমি জুম লেন্স দিয়ে চেষ্টা করা যেত, কিন্তু ৭০-৩০০ এতো নড়াচড়া করে যে লোকে ভয় পেয়ে যায়..
টাকা থাকলে একটা ৮৫মিমি f/1.2L কিনতাম, তখন অবশ্য একটা ফুলফ্রেম ক্যামেরাও জরুরী হয়ে যাবে! কি আর করা..


জেয়ি
Zeyi Shen

ওয়াফিয়া
Wafia

ওয়াফিয়া
Wafia

মনির
ক্যাচ দ্য ড্রিম যখন ক্যাচিত হইলেন

ওয়ারিদ
Waarid


মাশীদ
She

মাশীদ
She

জেয়ি
Zeyi Smiling

জেয়ি
Zeyi in Green

Thursday, April 2, 2009

মেঘছেঁড়া আলো এসে পড়েছিল..

Surreal?
সেদিন ক্যামেরা নিয়ে এমনিই গুঁতাচ্ছিলাম, হঠাত্ দেখি আকাশে মেঘে ছিড়ে আলো পড়ছে। ভাবলাম তুলে HDR করে ফেলি। পরে দেখি HDR না করেই শুধু শ্যাডো বাড়িয়ে দিতেই অসাধারন ছবিটা বের হয়ে এল..

ইশকুলের দিন

সতের বছর বয়স একটা অদ্ভুত সময়। শরীরের তোলপাড় একপ্রস্থ হয়ে গেছে, নাকের নীচের পাতলা গোঁফের রেখাটা আরো এক শেড ঘন হয়ে গেছে, পাশে বসা মেয়েগুলো একদিন কেমন "মেয়ে" থেকে তরুনী হয়ে গেল। আমরাও ভাবতে লাগলাম "বড় হয়ে গেলাম শেষ পর্যন্ত"। ইসকুলের দিনগুলি শেষ হয়ে এসেছে প্রায়। প্রত্যেকটা দিন ভাবি এই দালানটাকে, এই মানুষগুলোকে আঁকড়ে ধরে থাকি, পুরোনো স্মৃতিগুলো বেদনার দলা পাকিয়ে গলার কাছে এসে আটকে থাকে। কারনে অকারনে চোখের কোনা ভিজে যায় বারবার.. এই বন্ধুগুলোকে কিভাবে হারাতে দেই.. এই মাঠের ধূলা, ঘাসের গন্ধ কিভাবে ভুলে থাকি। কেমন করে দিন কাটাই আমার ভালোবাসার মেয়েটাকে না দেখে..।

তারপর শেষদিনটা আসে। শেষ ক'ফোটা অশ্রু ফেলে বাড়ি ফিরি সেইদিন, চেনামুখগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় পেছনে..


এরপর অনেক পানি গড়িয়েছে। আজ একযুগ পর আমি-আমরা সবাই অনেক এগিয়ে গেছি। যে স্মৃতি ছেড়ে যেতে বুক ফেটে গিয়েছিল তাতে আজ ধূলো জমে থাকে। আমার পৃথিবী এখন অনেক বড়, অনেক জটিল, অনেক অনেক নির্মম।

আজকে ইউটিউব ঘাটতে গিয়ে লুলু"To Sir, with Love" শোনা হল। "To Sir, With Love" ১৯৬৭ সালে নির্মিত ব্রিটিশ ছবি। বিলিতি ইশকুলে একজন কালো শিক্ষকের অবাধ্য-অশিষ্ট ছাত্রদের কাছে আসার কাহিনী এটা। জটিল সব সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করায় সিনেমাটা কিছুটা বিখ্যাত হয়েছিল। তবে মার্কিন টপ চার্টে উঠেছিল লুলুর গানটা। এমন আহামরি গান না, কিন্তু আজকে শুনে হঠাত্ করেই ভীষন নস্টালজিক লাগতে থাকে। নস্টালজিয়া ভালো জিনিস না, বহু দূর থেকে হুহু করা বাতাস বয় ভিতরে।

আহা, অতীতকে যদি আবার ছোঁয়া যেত..

মুন রিভার

ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিজে অড্রে হেপবার্ন গাইবে জন্য জনি মার্সার লিখলেন মুন রিভার, আর তাতে অসাধারন এক সুর করলেন হেনরি ম্যানসিনি। এই গান কোথায়,কবে প্রথম শুনেছিলাম মনে নেই, কিন্তু মনে গেঁথে গেছে ভালো করেই। সঙ্গীত বড় অদ্ভুত জিনিস, এমনভাবে টানতে পারে কি আর কিছু..?


আন্ড্রিয়া রসের কন্ঠে শোনা যাক এই গানটা



কেমন ছিল অরিজিনাল গানটা? অড্রে হেপবার্নের গলায় শোনা যেতে পারে এখান থেকে..

Tuesday, March 31, 2009

DCIM 2009 এর আরো কিছু ছবি


ফোটোশিকারী না ক্ষুধার্ত নেকড়ের দল? (ছবিঃ জেরাল্ড লিম)


আমার তোলা ছবি দেখা যাক এবার...

Zeyi in Evening Wear
রাতের পোষাকে জিয়ি শেন

Miss D3
নিকনের হাইএন্ড DSLR Nikon D3 হাতে জনৈকা রুশকি মডেল

Velocity Angels of DCIM 2009
ভেলোসিটি এন্জেলস প্রতিযোগিতার মডেলরা

IMG.6830
দেখ দেখ দেখরে ঠ্যাং এর বাহার

Smokin!!!
হুমম..

Sunday, March 29, 2009

DCIM 2009 এর গল্প

ফোটোগ্রাফি ধরার পর থেকেই ওৎ পেতে থাকি কখন একটা ফোটোগ্রাফি এক্সপো হয় কেএল এ। গত অক্টোবরে পেলাম কুয়ালা লুমপুর ফোটোগ্রাফি ফেস্টিভাল ২০০৮, সংক্ষেপে KLPF। KLPF হয়েছিল বারাজায়া টাইমস্ স্কয়ারের লোয়ার গ্রাউন্ডে। আয়োজনের দিক থেকে বেশ বড় হলেও খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম সেমিনারে গিয়ে। গিয়ে দেখি সেমিনার চাইনিজ-এ!! হোয়াট দ্য ফাক!! এটা বহুজাতিক দেশ। জাতীয় ভাষা "ভাসা মালায়া" হলেও ইংরেজিতে সবাই কথা বলে। সেই দেশে যখন চীনা ভাষায় সেমিনার হয় তখন চিন্তা হয় (পরে দেখেছি ফোটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ মালেশিয়াতেও চীনে ভাষার ব্যাপক দৌরাত্ব)। যাইহোক, মনের দুঃখে ইংরিজি সেমিনারের ধারে পাশে ঘুরঘুর করলাম, কিন্তু সেগুলোও খুব জাতের মনে হল না। বিকেলের দিকে দেখি মেইন স্টেজে ভীষন ভীড়, মডেলরা ক্যামেরা নিয়ে ক্যাটওয়াকে শো করছে আর শ'দুয়েক ফোটোগ্রাফার তাদের ক্যামেরা দিয়ে গিলে ফেলে প্রায়। পরিস্থিতি দেখে আমিও ৭০-৩০০ নিয়ে চেষ্টা করলাম। ভীড়ের চোটে খুব সুবিধা করতে পারলাম না, আলভিন চান ছবি দেখে "চলে" মার্কা একটা হাসি দিলেন। বাড়ি ফিরে পিপি করতে গিয়ে মডেলগুলোকেও সুবিধার লাগলো না। যাই হোক, এই ছিল জীবনের প্রথম ক্যাটওয়াক শুটিং, ছবি তোলা জিনিসটা মজার কিন্তু ক্যাটওয়াক শুটিং নিয়ে মালেশিয়ানদের আগ্রহ তখনও পরিস্কার হল না। পরে ফোরামগুলোর দৌলতে জানলাম এরা ৪/৫ জনের দল একটা করে মডেল ভাড়া করে সারাদিন ধরে ছবি তোলে এবং তার একটা অংশ হয় বিকিনিশুট। চীনে মেয়েরা বিকিনি পড়লে বিকিনির অসম্মান হয়, এই বিষয়টা আমি সুযোগ পেলে এদের একদিন বুঝাবার চেষ্টা করব...

যাই হোক, খাজনার চেয়ে বাজনা বেশী হয়ে যাচ্ছে। Digital Camera নামে একটা বিদেশী ম্যাগাজিনের লোকাল এডিশন পাওয়া যায়। সস্তা বলে এখন ওটাই কিনি। তো সেটায় দেখি মার্চে DCIM বলে একটা ইভেন্ট হবে।

এদের ওয়েবসাইটে গিয়ে জানলাম তুঘলকি কান্ড হতে চলেছে। ক্যামেরা, গ্যাজেটস, সেমিনার, ফ্যাশনশো এসব করে তারা মাত করে দেবে সবাইকে। ওয়েবসাইটে অনুসারে,

The Digital Camera, Imaging and Media Show 2009 (DCIM Show 2009) aims to bring together the various components that make up the photography and imaging industry in Malaysia i.e. manufacturers, vendors, retailers, labs and more importantly, the hobbyists and professionals.

Organised by Velocity Media Sdn Bhd (Velocity Media), publisher of Malaysia’s premier digital photography magazine – Digital Camera Magazine – the event will showcase the latest innovations and products in the world of photography. Velocity Media also publishes the top lifestyle-gadget magazine T3 Malaysia, the foremost gaming magazine PC Gamer Malaysia and the authoritative IT magazine Max IT.

....

The main objective of DCIM Show is to be recognised as the foremost photography and imaging event in the region, placing Malaysia in the world map of photography.



তো এরকম একটা ইভেন্টে না গিয়ে থাকা যায় না। শুক্রবার (২৭মার্চ) আধাবেলা অফিস করেই চলে গেলাম মিডভ্যালী মেগামলের একজিবিশন সেন্টারে। গিয়েই প্রথম ধাক্কা। ক্যানন, নিকন, ইপসন ছাড়া আর ৫/৬টা বুথ। কোন অফার নেই, নেই ভালো জিনিসপত্র! এমন সময় দেখি ভীড় জমছে স্টেজের কাছে, মডেলরা আসবে। এবারেও ৭০-৩০০ নিয়ে এসেছি, সাথে স্পিডলাইট আর নতুন কেনা ১৫মিমি ফিশআই। ভীড়ের চোটে এবারেও সুবিধা করতে পারলাম না। এমন অবস্থায় দেখি লোকজন ছোট ছোট মই সাথে এনেছে, যেটায় চড়ে ভীড় এড়িয়ে ছবি তোলা যাবে। মনে মনে বলি, তোমাদের লাল সালাম। আমি পেশাদার হলেও মইটানার কাম করতে রাজী না। যাইহোক, ভীড়ে হালকা গুঁতা দিতেই দেখি সামনে এগিয়ে গেলাম, কিন্তু ডানে-বামে এতো লোকে ছবি তুলছে যে পরিস্কার ভিউ পাওয়া যাচ্ছে না। এমন সময় বুদ্ধি এল একটা। কর্ডন বেল্টের নীচে সবার পায়ে কাছে বসে পড়লাম, তারপর একদম সীমানার ভেতরে। যেহেতু বসে আছি, তাই আয়োজকরা আর ভ্যাজাল করল না, আমারও সামনে পরিস্কার ভিউ। শুরু হল ছবি তোলা। শখ করে স্পিডলাইট লাগিয়ে ছিলাম, কিছুক্ষন পর খুলে ফেলতে হল, এতো ওজন নিতে পারছে না হাত। ISO হাকিয়ে দিয়ে তুলে গেলাম। মডেলগুলো এমেচার মডেল, বেসিকালি এরা এসেছে একটা কনটেস্টে। ইভেন্টের শেষ একজন জয়ী হয়ে মালপানি কামানোর সুযোগ পাবে। মডেল এমেচার হওয়াতে পোজ ঠিকমতো আসছিল না কারোই। কিম্বারলি আর জেয়ির চেহারাসুরৎ ভালো ছিল, কিন্তু মেয়েগুলো নড়াচড়াই শিখে নাই। কি আর করা!!!

শুটিং শেষে হিসাব করে দেকি ছবি উঠিয়েছি আটশোর উপরে, ফোর্টি ডি বলে কথা (বাড়ি ফিরে দেখি ৯০% এরই ফোকাস ভুল!!!)। ঢু মারা শুরু করি বুথ থেকে বুথে। ৮জিবি কিঙস্টোন সিএফ কার্ড বহুদিন আগে কিনেছি ৬৯ এ, এখানে দেখি ৮০র মতো! ক্যাননে গিয়ে দেখি তারা আরেকপ্রস্থ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩৫মিম ১.৪ এল ছয় হাজারের উপরে চলে গেছে!!! হঠাৎ দেখি এক কোনায় একটা ফাইভডি মার্ক টু শিকল দিয়ে বাঁধা। চান্স পেয়ে হাতালাম কিছুক্ষন, ছবিও তুললাম কন্টিনিউয়াস মোডে। ISO 6400তে বেশ ভালো ছবি আসে, পয়সা হলে কেনা যেতে পারে। তবে এই পয়সা আদৌ হবে কিনা সেইটাই ভাববার বিষয়। পাশে সিড়ি দেখে উপরে উঠে গেলাম। সেখানে একটা ৪০০মিমি ২.৮ আইএস লেন্স বসানো আছে। যে কেউ নিজের বডি লাগিয়ে ছবি নিতে পারে। ৪০০মিমি ২.৮ একটা দানব। ইদানিং আমার টেলিপ্রীতি কমে গেছে। তাই নীচে ফিরে গেলাম। নীচে ফিরে গিয়ে ক্লান্ত লাগা শুরু হল, ফোটোশুট ছাড়া এই শো এর আর কোন আকর্ষন নেই। সেমিনার আছে পরের দিন। ঠিক করলাম আবার আসবো, সকালে একটা মডেলশুট আছে। শুটিং সেরে সেমিনারে বসে দেখব কি বলে ছাগলগুলো।

বাড়ি এসে ফ্লিকারে ছবি আপলোড করতে বসলাম। দুয়েকটা ছবি কিঞ্চিত দুঃসাহসী ছিল, কিন্তু অশ্লীল বলা যাবে না মনে হয়। "শুধুই বাংলা" নামের গ্রুপের মডারেটর জানালেন যে গ্রুপে যেহেতু শিশুরাও আসে তাই এদুটো ছবি সরিয়ে দিতে হচ্ছে। আমি মনে মনে হেসে বললাম, "আচ্ছা"। এই প্রথম ফ্লিকারে আমার হিট কাউন্ট হুহু করে বাড়তে লাগলো। খুব আনন্দিত হবার কিছু নাই, স্বল্পবসনা মেয়ে দেখে লোকে লাফিয়ে পড়েবে সেটাই স্বাভাবিক..

নীচের দুটিই সেই বিখ্যাত ঝামেলাদায়ক ছবি!





শনিবার ঠিক একই কায়দায় জায়গা মতো বসে গেলাম। এবারে আগেরবারে ভুলগুলি কম হল, কিন্তু পজিশন আলাদা বলে আগের ব্যাকড্রপ পেলাম না। ফলে ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর হাবিজাবি জিনিস চলে এল। দেড় ঘন্টা শুট করে অবস্থা "চ্রমখ্রাপ" হয়ে গেল। পাশের স্টলে অর্গানিক প্যাশন ফ্রুট জুস আর টারমারিক নাসি লেমাক বিক্রি করছিল। দশ রিংগিত দিয়ে সেটা খেয়েই রিফুয়েলড হলাম। খেতে গিয়ে ক্যাননের সেমিনারটা মিস হল। অবশ্য জুঙ যেই সেমিনারের বক্তা সেটা মিস করার না করার মধ্যে ফারাক কম। ঘন্টা খানেক পরে ওয়াকমের রিটাচিঙ এর সেমিনারে গেলাম। বক্তা ওস্তাদলোক, ভালো জ্ঞান হল। এই সেমিনার শেষে আবার ঢুকলাম জিমি খু এর ট্রাভেল ফোটোগ্রাফির সেমিনারে। ভদ্রলোক আর্ট ডিরেকশন ছেড়ে ফোটোগ্রাফিতে ঢুকেছিলেন, বহু স্ট্রাগল করে ফাইনালি একটা ক্যারিয়ার করেছেন। এর ছবি এখন বড় বড় ট্র্যাভেল ম্যাগাজিনের সম্পদ। জিমির সাথে গল্প হল নানা বিষয় নিয়ে। বিশেষত অচেনা জায়গায় জনমানুষের ছবি তোলার জটিলতা নিয়ে।


জিমি, তার ভারতে তোলা ছবির সামনে

সেমিনার শেষে দেখি সারা গা ব্যথা। ক্যামেরার স্ট্র্যাপ কেটে বসে যাচ্ছে গলায়। তখন চোখে পড়ল ফ্লেক্সিরাবারের স্ট্র্যাপ (Matin ব্র্যান্ড) । ৩৫ রিংগিত দিয়ে কিনে সাথে সাথে লাগালাম ক্যামেরায়। জিনিসটা কাজের। রাবারি ম্যাটেরিয়ালের বলে দৌড়ঝাপ করলেও কেটে বসে না। অনেকদিন পর ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতে আরাম হল।

বাড়ি ফিরে দেখি এবার ছবি তুলেছি নয়শোরও বেশী! এবারে ফোকাস জনিত সমস্যা হয়নি। শার্পনেস বেশ ভালো, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্যই মার খেয়ে গেল বহুছবি। যাই হোক, ফ্লিকারে আপলোড করে ভালোই লাগছে, শুটিং মন্দ হয়নি, অন্তত আমার গরীবানা যন্ত্রপাতির কথা মাথায় রাখলে তাই মনে হওয়া উচিত ;)

Thursday, March 26, 2009

পাবলোর খেলা

মন্ট্রিয়লে থাকার সময় আমার সবচে' প্রিয় কাজটা ছিল সেন্ট ক্যাথরিনের রাস্তায় হেটে বেড়ানো। সেটা সকাল দশটা হোক কিংবা রাত তিনটা। লিংকন অ্যাভিনিউ থেকে এএমসি সিনেপ্লেক্সের পাশ দিয়ে নামলেই, রু সেন্ট ক্যাথরিন...

তিনমাস ছিলাম। অফিস বাদে বাকিটা সময় হয় নেটে নাহয় হেটে হেটে কাটতো আমার। আমার বাঁধা পারডিয়েম, আমেরিকা যাব ভাইটাকে দেখতে, তাতে খরচ আছে, আছে ভবিষ্যতের ভাবনা - এসব ভেবে ভেবে পয়সা খরচ করিনা, কেউ বলে নায়াগ্রা দেখতে, কেউ ডাকে "টরোন্টো চলে আয়" বলে। আমি কিছু বলি না, মুচকি হাসি। এই কার্পণ্যের দুর্দিনে আবিষ্কার করলাম সেন্ট ক্যাথরিনের ঐশ্বর্য, রাস্তা তো নয়, না-ঘুমানো জীবন্ত এক মিউজিয়াম। এ মাথা থেকে ও মাথা হাটি, আর দেখি, কখনো ফ্রাঙ্কোফনি কনসার্টে উদোম হয়ে গাইতে থাকা শিল্পীদের, কখনও এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সভেস্টাইট) ফেস্টিভ্যাল, কখনওবা কয়েন চাইতে আসা সেই মেয়েটা। মানুষ পরম আগ্রহে দেশ দেখে, আমি দেখি প্রতিদিনের চেনা সেই রাস্তাটা

এরকম করতে করতে একদিন দেখা হল পাবলোর সাথে। এই রাস্তায় নানা জাতের পাগল বসে, তাই দাবার বোর্ড সাজিয়ে বসে থাকা এই ক্যারিবিয়কে দেখে যে প্রথমটা যে খুব অবাক হয়েছিলাম তা নয়। চোখে চোখ পড়তেই হাত দিয়ে একটা ইশারা করলো সে যার অর্থ "খেলে যান একদান"। দাবা খেলা জিনিসটা আমার রক্তে নেই। যে রাস্তায় এক ডজন স্ট্রিপ ক্লাব সেখানে আর যাই হোক দাবা খেলাটা বুদ্ধিমানের কাজ না। পাত্তা দিলাম না। ছেলেটার অবশ্য আমার পাত্তাপাত্তি নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই, পুরোনো ব্যাটারী দিয়ে একটা কাগজ রাস্তায় বিছাতেই ব্যস্ত সে।



কমলা হলুদ কাগজে মার্কার দিয়ে লেখা একটা পোস্টার

কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করি নাম কি তোমার?
"পাবলো".. সংক্ষিপ্ত উত্তর তার।

বাবা মরছে ক্যান্সারে। বহুদিন দেখা হয়না। মরবার আগে কি একটুও দেখা হবে না। পাবলোর কাছে চারশো আশি ডলার নেই যে জ্যামাইকা ফিরে যাবে। হাল ছাড়েনি। তিন মিনিটের স্পীড চেস খেলার আনন্দ বিক্রী করতে বসেছে সে। বিনিময়ে দুটো পয়সা।

ততোক্ষনে ভীড় জমেছে । একজন দুজন করে খেলতে বসছে পাবলো সাথে। কয়েন আর ডলারের নোটও জমছে ধীরে ধীরে। তিন মিনিটের আগেই কুপোকাত হয়ে উঠে যাচ্ছে সবাই, যদিও মুখে হাসি।

হাসি ছিলো না পাবলোর মুখে, দাবার খেলায় জিতলেও জীবনের খেলায় সে জিতবে কিভাবে? এই উত্তরটা পাবলো কিংবা আমি কেউই সেদিন জানতাম না।

(পুরোনো লেখা, ব্লগস্পটে রিপোস্ট করলাম)

একজন কিথ ওলবারম্যান..

কিথ ওলবারম্যানকে দেখি আর অবাক হই.. দেখি আর অবাক হই..। "কিথ হ্যাজ টু মাচ ব্যাকবোন", বলেছিলেন একজন (বাস্তবেও একটা হাড় বেশী আছে তার)। মার্কিনি নিউজ খুব সুবিধার না, তারপরও অবাক হই, কেমন করে ক্ষমতাসীন একজন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে এতো আগুন নিয়ে কেউ এভাবে বলার সাহস রাখে...

শাট দা হেল আপ মিস্টার বুশ


এন্ড অফ অ্যামেরিকা


মিস্টার বুশ ইউ আর আ ফ্যাশিস্ট!


অন উইকিপিডিয়া!!

Monday, March 23, 2009

মাকসুদ থেকে মিলা..

আমাদের বাড়ি বই ছাড়া আর কোন জিনিস ঠিক সহজে ঢুকতে পারতো না। আমরাও দুভাই লক্ষীছেলে হয়ে থাকতাম। চুলকাটা থেকে জামাজুতো সব বাঁধাধরা। আমার ভাই যখন বড় হল তখন দেখতাম প্রতিদিন দুপুরে রেডিওর দখল নিতে তার গভীর উৎসাহ। ওয়ার্ল্ড মিউজিক হতো রেডিও বাংলাদেশে। আমার ভাই তার একনিষ্ঠ শ্রোতা। সেই মনে হয় প্রথম ঘরের খোলস ছেড়ে পপ কালচার ঘরে ঢুকে পড়ল লুকিয়ে লুকিয়ে।

গান শুনে ঠিক কি হয় সেটা বুঝতে বুঝতে আমার অগ্রজ মিউজিক সিস্টেম কিনে তাতে এটা সেটা বাজাতে লাগলো সারাদিন। কোন একটা কারনে তাতে বাংলাগান চলতো না একেবারেই। মেজমামার বিষয়টা পছন্দ ছিল না, একবার আমি ওয়াকম্যানে গান শুনতে গিয়ে হালকা ধমক খেলাম। হেদায়েত করা হল, এসব শোনা নাকি ঠিক না, আমার শোনা উচিত রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের গান।

ক্লাস সেভেনে যখন উঠলাম, তখন শরীরের ভেতরে ভাঙ্গাগড়া শুরু হয়ে গেছে। প্রেম-ভালোবাসা-যৌনতা এসব মনে প্রায়ই উঁকি দেয়। ঠিক এরকম সময়ে (১৯৯১) বাংলাদেশে ব্যান্ড মিউজিকের প্লাবন শুরু হল। সে একটা সময় বটে! দুদিন পরপর একটা করে ব্যান্ড তৈরি হয়। দুই পাতা গিটার শিখে পোলাপান বেসুরোবেতাল গলায় যাখুশি গাইতে থাকে, আর আমরাও গভীর আগ্রহে তার প্রত্যেকটা শুনি। প্লাবনের কাজই ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া, আর তাতে যদি গা ভাসাতেই লোকে বিপুল উৎসাহে অপেক্ষা করে তাহলে ফল হয় আকাশপাতাল কাঁপানো! এর আগে পপ মিউজিক বলতে আমার ধারনা আটকে ছিল জিঙ্গা গোষ্ঠী, আজম খান, ফিরোজ শাই আর ফেরদৌস ওয়াহিদের গানে। জিঙ্গা গোষ্ঠীর ভদ্রমহিলার শ্লীল নাচের সাথে গান রীতিমতো "হটস্টাফ", যদিও তারা বহু আগেই গানাবাজনা থামিয়ে দিয়ে কোথায় যেন গায়েব হয়ে গেছেন।


এরকমই একটা দিনে আমি প্রথম শুনলাম "মেলায় যাইরে"। বাংলাদেশে যা হয়, একটা কিছু পপুলার হলে সেটা বাজে দুনিয়া জুড়ে, টুয়েন্টিফোরসেভেন। ঢাকার কাক-কোকিল-কবতুরও তখন মেলায় যাইরে শুনে ফেলেছে। শোনেনি কেবল আমার মতো কিছু লক্ষীছেলে। একদিন দেখি স্কুলে আসিফ (এখন বিস্তর টাকাওয়ালা চামড়ার ব্যবসায়ী) একটা ক্যাসেট নিয়ে ঘুরঘুর করছে। আসিফ দিলদরিয়া মানুষ ছিল, চাইলে না করতো না। ক্যাসেট পেয়ে আমি লাফাতে লাফাতে বাড়ি ফিরি। তারপর দুপুর বেলা মায়ের টেপরেকর্ডারে দিলাম চালিয়ে। সে এক বিস্ফোরন বটে! গানের কথা বোঝার বয়স হয়নি, সুরতাল জানি না। কিন্তু আমার চরম উত্তেজনা, নিষিদ্ধফলের স্বাদ মনে হয় এরকমই হয়। পপ মিউজিকের হয়তো এটাই ক্ষমতা। নেশা ধরে যায়। ফিউব্যাকের টেপটা শুনতে শুনতে ছাল উঠে যায়। ভাইকে গিয়ে বলি ডুপ্লিকেট করে দিতে। মন্দ কপাল। হঠাৎই তার নীতিবোধ উথলে ওঠে, বাবার কাছে নালিশ যায় অপু "তার বুকের আলিঙ্গনে" শোনে! এসব শুনে আমার বাবার ক্যাসেটটা ছুড়ে কুয়াকাটায় ফেলে দেবার কথা ছিল। তিনি ধমকে দিলেন ঠিকই, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা জারি হল না। আমি বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে গেলাম, বিশেষত মাকসুদুল হকের ডাই হার্ড পাংখা। হাজারো ট্র্যাশি গানের মাঝে আমি ফিডব্যাক শুনি, বাচ্চুর এলআরবি শুনি, মাঝেমধ্যে মাইলস্। এইসব শুনতে শুনতে বড় হলাম। এখন কান অনেক পেকেছে, শোঁপা, আলি আকবার থেকে সস্তা হিন্দীগানও। নজরুল শুনি না, কিন্তু প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি রবীন্দ্রনাথের গান, শুনি মিলা, হাবিব, ফুয়াদ, শিরিন, কণার গান। আমার সৌভাগ্য বড় উদার কান আমার।

ইদানিং প্রায়ই মারপিট চলে কে ফালতু/কে ক্লাসি/কে নিয়মমেনে গান করে - এইসব নিয়ে। এতো বাক্যব্যয়ের কি দরকাররে বাবা! আমি শুনি, ভালো লাগে বলে শুনি। ক্যাকোফোনি আর গানের পার্থক্যাটা ধরতে পারলেই তো হয়? না কি আর কিছু লাগে? এসব ক্লান্তিকর বিতর্কে যেতে ইচ্ছা করে না। একটা গান ছিল "গান ভালোবেসে গান"। আমি বলি গান ভালোবেসে শোন!


এই হল মাকসুদ!