Thursday, July 17, 2008

বিডিনিউজ২৪.কমে আমার বক্তব্য প্রসঙ্গে

(বাইরে জরুরী কাজে আছি বলে সংক্ষেপে লিখছি)
কালকে অমি রহমান পিয়াল ফোন করে জানতে চান কি ঘটনা। তাকে বলেছি ফারুক ওয়াসিফ এবং আর যারা বাংলাদেশে আছেন তারা ভালো বলতে পারবেন কেননা আমরা কিছুই অফিসিয়ালী জানিনা। যেটুকু নিশ্চিতভাবে জানি তা হল, আমাদের প্রান্তে সমস্যা নেই কোন।

BDNEWS24.com এর রিপোর্টে বলা হয়েছে

উদ্ধৃতি
সচলায়তনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অরূপ কামাল টেলিফোনে মালয়েশিয়া থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সাম্প্রতিক একটি লেখা প্রকাশের পর বাংলাদেশে ব্লগটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"

এই প্রসঙ্গে আমার প্রকৃত বক্তব্য ছিল, আমরা জানি না আদৌ ব্যান করা হয়েছে কিনা কিংবা কি কারনে করা হয়েছে। যদি সত্যিই ব্যান করা হয় তাহলে হয়তো এক সপ্তাহের লেখালেখি দেখলে বোঝা যেতে পারে।

উদ্ধৃত বাক্যটি তাই ঠিক নয়, এবং তাতে অহেতুক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

এখনও পর্যন্ত আমার বক্তব্য একটাই এবং সেটা সুস্পষ্ট, তা হল আমাদের প্রান্তে প্রযুক্তিগত সমস্যা নেই। প্রকৃত ঘটনা জানতে চাইলে বাংলাদেশে বসে যাচাই করতে হবে। সচলায়তনকে যদি আদৌ ব্যান করা হয় তবে তা হবে দুঃখজনক। আমি খুব আশা নিয়ে বসে আছি এই আশংকা সত্য হবে না...

এই অশান্ত দিনে এখন শুধু আশাগুলোই আমাদের সম্বল...

Sunday, July 13, 2008

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ'লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ'লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ'লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।
রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের
সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর
ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল
কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা;
এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা
নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে
অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ'লে যাবে,
কিশোরীরা চ'লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক'রে চ'লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

হুমায়ুন আজাদ

নোটঃ এই কবিতাটা স্টিকি করে রাখবো আমি।
এইটা মুখস্থ করে ফেলার সময় গায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে আজ..



১ | মাহবুব লীলেন | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:১১

...



২ | স্নিগ্ধা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:২৪

অরূপ - ব্যানারের ছবি, উক্তি আর এই কবিতা, সবগুলোর জন্য - ধন্যবাদ!!!



৩ | মুহম্মদ জুবায়ের | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:৩১

কেউ একজন বলেছিলেন, একজন রাজাকার চিরকালই রাজাকার, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা না-ও থাকতে পারেন। এর চেয়ে নির্মম সত্যভাষণ আর হয় না। রাজাকারদের ঐ অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম দেখা গেলো যাদের এখন আর মুক্তিযোদ্ধা বলা সম্ভব নয়। হয়তো এদেরই কারণে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বিভ্রান্ত হয়ে সভায় এলেন এবং সত্য উচ্চারণ করে লাঞ্ছিত হলেন। ধিক, শতধিক রাজাকারদের।

তবে আমার ধারণা, শারীরিক উপস্থিতির দিক থেকে রাজাকাররা যতো ক্ষতিকর তার চেয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত করছে আমাদের তথাকথিত মধ্যপন্থীদের রাজাকার মনোবৃত্তি, যা ৭১-এ একটা গণ্ডগোল হয়েছিলো, এখন আর পুরনো কথা বলে কী হবে ধরনের অবস্থান নিতে পছন্দ করে।

আগুন জ্বলার সময় অনেক আগেই হয়েছে। অপেক্ষা হয়তো একটা স্ফুলিঙ্গের, যা দাবানল হয়ে উঠবে।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!



৪ | সিরাজ [অতিথি] | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০২:৩১

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যে মোটামুটি সবসময়ই ছিল না তার প্রমান কি?



৫ | মুহম্মদ জুবায়ের | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:০৮

প্রথম আলো-তে গতকাল ছাপা হওয়া সংবাদের একটা পিডিএফ এখানে তুলে রাখছি, কারণ কয়েকদিন পরই আর্কাইভেও এটা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরই মধ্যে সঙ্গে ছাপা হওয়া ছবিটা পাওয়া গেলো না।

আর আমার পূর্ববর্তী মন্তব্যে চিরকালের রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে প্রকৃত উদ্ধৃতিটি এরকম:

একবার রাজাকার মানে চিরকাল রাজাকার; কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা মানে চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা নয়।

- হুমায়ূন আজাদ

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!



৫.১ | অরূপ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:১৪

প্রথম আলো ১২ই জুলাই
--------------------------------
‘জামায়াতের এ সমস্ত নেতারা পিস কমিটির (শান্তি কমিটি) সদস্য ছিল। যারা রাজাকার, আলবদর ছিল তারা গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। এখনই তাদের বিচার করতে হবে। আমার বিবেচনায়, তাদের এখনই ফাঁসি দিতে হবে।...’

তাঁর বক্তব্য শেষ হয়নি। সাংবাদিকেরা তাঁর নামটিও জানার সুযোগ পাননি। এর আগেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে থেকে বর্ষীয়ান এ মুক্তিযোদ্ধাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন তাঁর পিঠে লাথি বসিয়ে দেয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’-এর প্রতিনিধি সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতের উদ্যোগে গড়া সংগঠনটির গতকালের সম্মেলনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। তাদের হাতেই লাঞ্ছিত হন ওই মুক্তিযোদ্ধা। তারা একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক সাজেদ রোমেলকেও প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রবের কাছে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনা ও সাংবাদিককে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি দাবি করেন, এমন কিছু হতেই পারে না। নির্যাতনের ছবি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধারণ করা আছে জানালে তিনি মুহুর্তেই সুর পাল্টে বলেন, ‘এসব সাবোটাজ (অন্তর্ঘাতমূলক কাজ)। আমাদের সংগঠনের লোকেরা এসব করতে পারে না।’

সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। জামায়াত-সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠানে আসার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসবের কিছুই তিনি জানেন না।

তবে আলোচনা অনুষ্ঠানে জে আর মোদাচ্ছির বলেছেন, এখন স্বাধীনতার চেতনার নাম দিয়ে জাতিকে বিভাজন না করে সুন্দর দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে হবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান বলেন, গত ২৬ মার্চ ভারতীয় জেনারেলকে এনে স্বাধীনতার চেতনার অবমাননা করা হয়েছে।

বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এখন সময়ের দাবি।

উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান বলেন, কতিপয় সেক্টর কমান্ডার জাতিকে বিভ্রান্ত করে দেশবাসীকে অপমানিত করার জন্য কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হুমকি দিয়েছেন। সম্মেলনে কয়েকজন বক্তা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের শাস্তি দাবি করেছেন।

ঢাকার বাইরে থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা এসব বক্তব্য শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন। পাবনা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলো মোটেও ভালো লাগেনি। এ কারণে আমি অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে এসেছি। এসব অসহনীয় বক্তব্য। এরা বলে, সেক্টর কমান্ডারদের বিচার হতে হবে। এরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেছে। কিন্তু আমরা তো আওয়ামী লীগের ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।’
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন তৈরি ও জাতীয় সম্মেলন করাকে ভন্ডামি আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, যারা যুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে গণহত্যা, লুন্ঠন ও ধর্ষণে সহায়তা করেছে, এখন তারা মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করছে। তারা দেশের সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করছে। এদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই থাকতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সভ্য দেশে বাস করছি, এখানে এসব অসভ্যতা চলতে পারে না। এদের ব্যাপারে কী করা যায় আমরা শিগগিরই বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীও বলেছেন, ‘ওরা যা-ই বলুক না কেন, মানুষের কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই। মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।’

গত ২৬ জানুয়ারি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ গঠন করা হয়। প্রথমে এ/১১ শ্যামলী হাউজিং, আদাবরে একটি বাড়িতে ও পরের মাসে ১১৬/২ নয়াপল্টনে (জামান কনস্ট্রাকশন ভবনের দোতলায়) জামায়াতের পল্টন থানা শাখার সাবেক আমির এ টি এম সিরাজুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানকার পল্টন মানবশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের একটি কক্ষ সাবলেট (ভাড়াটের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া) নিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এ টি এম সিরাজুল হক ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করলে এ সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ফোরাম যে দলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনছে, এগুলোর অন্যতম হচ্ছে জামায়াত। ফোরামের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার মানসে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ নামে এ সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২২ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ও ২৬ মার্চ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ায় সেক্টর কমান্ডারদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। গতকালের সম্মেলনেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।
পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকালের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক রেজোয়ান সিদ্দিকী, নিউ নেশন-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর প্রমুখ।


৫.১.১ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:১৬

ই-টিভির নিউজ:

৫.১.১.১ | মুহম্মদ জুবায়ের | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৩৮

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই টুপিওয়ালারা কোথায় ছিলো, কী করেছে আমাদের জানা আছে। নারায়ে তাকবিরের জায়গা ছিলো না মুক্তিযুদ্ধে, যুদ্ধের পরে তাদের মাথায় টুপি দেখা যায়নি, এমনকি তাদের অনেকে বহুকাল সূর্যের আলো দেখেনি। যে মুক্তিযোদ্ধাকে আজ তারা প্রকাশ্যে লাথি মারার সাহস পায়, ৭২-এ সেই মুক্তিযোদ্ধার ছায়ার আশেপাশে আসার সাহস বা সাধ্য তাদের ছিলো না। আজ সে কথা হয়তো রূপকথা। ছবিটা উল্টে গেছে, তারা কোথায় এসে পৌঁছে গেলো!

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!



৫.১.১.২ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৩৯

সাবেক বিচারপতি শেষে যেভাবে মাথা দোলাচ্ছিলেন...
গালি সামলায়া নিলাম।

অতিথি লেখককে ধন্যবাদ ভিডিও শেয়ার করার জন্য।

৫.১.১.২.১ | ধ্রুব হাসান | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:৫৩

গালি সামলাইলেন কেন? ও হারামী আস্ত এক পাকি খাংকির পো। এ সমস্ত লোকদের পুটকি দিয়ে ঢুকিয়েই প্রথম বিচারকার্যটা শুরু করা উচিত।


৫.১.১.৩ | রেনেট | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৫৪

সাবেক প্রধান বিচারপতি যদি জামায়াত আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মেলনে যায়, তাহলে আমার মনে হয়, শুধু এই কবিতাটিকে স্টিকি করলেই চলবে না, এর শিরোনাম ও পালটে দিতে হবে।

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.



৫.১.১.৪ | রেনেট | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:০৫

বিচারপতি তোমার বিচার করবে কারা (আজ আমাদের এই জনতা?)
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.


৫.১.১.৫ | সবজান্তা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৫৫

ভিডিও টা সেইভ করে রাখি হাসি

বলা তো যায় না, আবার কি কেরামতি, কি কমপ্লেইন করে ইউটিউব সার্ভার থেকে এই বস্তু গায়েব করে দেয়।

আমি এখন বিশ্বাস করি, সাধারণ জনতা কিছু পারুক বা না পারুক, জামাতীরা যখন একটা মুক্তিযোদ্ধা সংগঠণ খুলতে পারছে, ওরা চুদির্ভাইরা সব পারে।


অলমিতি বিস্তারেণ


৬ | জুলিয়ান সিদ্দিকী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:১৭

এখনও যদি কেউ হিটলারের পক্ষে কথা বলে, তাকে শাস্তি পেতে হয়! আমরা তো খুব বেশি দিন পার হয়ে আসিনি! রাজাকাররা এখনো আমাদের দেশে সংগঠিত। তাদের গ্রুপ এখনও সক্রিয়।

সেই যে বুদ্ধিজীবিদের হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের দুষ্কর্মের সূচনা, সেই কালো তালিকা এখনো তাদের হাতে রয়ে গেছে। সুযোগ মত এখনও তারা তাদের সেই তালিকাবদ্ধ মানুষগুলোকে খুন করে চলেছে! অথচ আমরা পারি না জার্মানির মত হতে! আমাদের হৃদয়ে তাদের মত দেশ প্রেম নেই!
***********************************************************
ছবির এই লাথিটা কি আমাদের গায়ে, আমাদের সরকারে গায়ে পড়েনি?
ধিক্ আমাদের দেশপ্রেমে!


৭ |
এস এম মাহবুব মুর্শেদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:২৪

মাঝে মাঝে মনে হয় শালাদের গুলি করে মেরে ফেলি।



৮ | সুবিনয় মুস্তফী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:৪১

বাঙ্গাল বোধ হয় নপুংসকের জাতিই হয়ে গেছে। এই জন্যে উধাম আর সঘোমন নামে নীচের দুই মানুষকে এত শ্রদ্ধা করতে হয়। আমরা ইদানীং শুধু ভাবারই সাহস পাই, কেবল লেখারই তাকত হয়। ভাবনা শেষে, লেখা শেষে আবার মনের লেজ গুটিয়ে যে যার কাজে ফেরত যাই।

কিন্তু এই দুইজন ভাবনা, ক্ষোভ, জিঘাংসাকে কাজে পরিণত করে দেখিয়েছিলেন। আর্মেনীয় হত্যাকান্ড আর জালিয়ানওয়ালাবাগ - এই দুটো যজ্ঞের প্রতিশোধ, গণ-অপরাধের বিচারের দায়িত্ব তারা আংশিকভাবে হলেও নিজ হাতে সম্পাদন করেছিলেন। Actions, not words. আমাদের উধাম সিং বা আমাদের তেহলিরিয়ান কি কোনদিন আসবে মনে হয়?


৯ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৩:৩৮

‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍আমাদের ক্রোধ অক্ষম থাকবে আর কতোদিন?



১০ | হিমু | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৪:৫৭

আমি ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুশীলদের মুখে থুতু দেই। যারা অতীত ভুলে দেশ গঠনের কথা বলে, বিষ্ঠা ত্যাগ করি তাদের মুখে। শুয়োরের বাচ্চারা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। বিচার চাই জামায়াতে ইসলামীর খুনীদের। যারা এই ঘাতকদের নীরব ও সরব পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছে, তাদের বিচার চাই। এদের কীর্তির রেকর্ড রাখা হোক, তা না হলে আজ থেকে কয়েক বছর পর এই মাদারচোদদের সন্ততিরা বড় গলায় নিজের বাপের সাফাই গাইবে।




১১ | ইশতিয়াক রউফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:১৫

আমি সম্ভবত এই পোস্টের প্রথম পাঠক ছিলাম। তখনও লিংক, ইত্যাদি আসেনি। তবু মুখ ফসকে বাজে কথা বের হয়ে যাবার ভয়ে কিছু বলিনি। এখন ভিডিওটা দেখার পর... থাক, এবারেও মুখ ফসকে কিছু বের হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছি না।

এক কাজ করলে হয়। দেশে তো পেশাদার খুনির অভাব নেই। কোল্যাবোরেটরদের একটা তালিকা দিন, আমরা চাঁদা তুলে তাদের খুন করতে খুনি নিয়োগ করি।



১১.১ | ধ্রুব হাসান | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:৫৩

ইশতি যে কথা বললেন আশা করি তা কথার কথা না। আসলেই আমরা একটা ফোরাম করে সরকারকে (যে কোন সরকার)একটা টাইম ফ্রেম বেধেঁ দিতে পারি। যদি ঐ সময়ের মধ্যে তারা বিচার কার্য শুরু না করে তবে আমরা জাহানারা ইমামের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারি।
প্রথমেই যুদ্ধপরাধীদের যে তালিকা তা থেকে দশজনকে খুন করে উদোম রাস্তার মোড়ে মোড়ে টাঙ্গিয়ে দিতে পারি। এরপর যদি বিচার শুরু হয় ভালো, না হলে প্রতি ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর কিছু কিছু করে খুন করে উতসব করা যেতে পারে। আসলেই যদি কেউ এই ব্যাপারটিতে সিরিয়াস হোন তাহলে কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে ভাবা যেতে পারে।


১১.১.১ | রায়হান আবীর | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৭:০৮

১২ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:২৪

এখনই "রাজাকার ঘাতক" নামে একটি সসস্ত্র দল বানানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। রাব হরচ্ছ সরকারী গুন্ডা বাহিনী।

জনসাধারণের একটি দল থাকা দরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের মত।
-জুলিয়ান সিদ্দিকী



১৩ | নিঝুম | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৫:৫৬


১৪ |
সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৬:৩০
১৫ | আকতার আহমেদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৭:৩১

সবকিছু নষ্টদের অধিকারে গেছে..
সব... এমনকি আমার আত্মাটাও !



১৬ | মৃদুল আহমেদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ০৯:৩৭
১৭ | নুরুজ্জামান মানিক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১০:০৬
ইশতিয়াক রউফ wrote:
কোল্যাবোরেটরদের একটা তালিকা দিন, আমরা চাঁদা তুলে তাদের খুন করতে খুনি নিয়োগ করি।

তালিকা দিলাম এখানে নুরুজ্জামান মানিক



১৮ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১০:৩৪

ইশতিয়াক ভাইয়ের সাথে একমত। এই সব কুত্তাদের আজ যদি আমরা শেষ করতে না পারি তবে হয়তো আগামীতে ওরা আমাদের শেষ করে দিবে। রাজাকারদের খুন করার জন্য সত্যই একটা বাহিনী দরকার। শুধু কথায় মনে হয় আর কাজ হবেনা আর বিচার এই দেশে মনে হয় আর কখনও সম্ভব না - একমাত্র পথ এদের খুন করে ফেলা। কেউ যদি একজন রাজাকার খুন করতে পারে তবে তাকে জাতীয় বীর হিসাবে আমি আমার সম্মান জানাবো।
রবিন



১৮.১ | স্পর্শ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৫১

১৯ | অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৩৪

ওকে ধরিয়ে দিন।


২০ | কীর্তিনাশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৪২

সময় এসে গেছে আরেকটি যুদ্ধের।
---------------------------------------
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে !


২১ | স্পর্শ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৪৪

অতএব প্রমানিত হল, আমরা নপুংশক হয়ে গেছি!......
....................................................................................
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছ


২২ | সবজান্তা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১১:৪৪

উপদেষ্টা নামক অধিকাংশ যেসব বেশ্যাপুত্রদের ( নেহায়েত গালি, বেশ্যাদেরকে ছোট করে দেখাচ্ছি না ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের ( চন্দ্রবিন্দু দিলাম না, এসব হারামজাদার বাচ্চারা চন্দ্রবিন্দুর যোগ্য না ) প্রতিক্রিয়া কী এ ঘটনায় ? কেউ কি জানেন ?


অলমিতি বিস্তারেণ

২৩ | নজরুল ইসলাম | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১২:০৬

সেই পুরনো কবিতা... তবু আজ কবিতাটা পড়তে পড়তে শরীরের সবকটা পশম দাঁড়িয়ে গেলো... প্রথমবার পড়ে চলে গেছিলাম... কমেন্ট করতে পারিনি কোনও... আবার এলাম... আবার পড়লাম... আমাদের সবগুলো হুমায়ুন আজাদকে ওরা মেরে ফেলেছে...

সবচেয়ে অবাক লাগে আমাদের বর্তমানের এত যে তেজী সরকার... পুরো জাতিকে যারা এক লহমায় থামিয়ে দিতে পারেন... এতো যে মহান আমাদের সেনাপ্রধান... তারা এই ব্যাপারটা নিয়ে একটা কথাও বললো না?
স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে সম্পৃক্ততার আর কত প্রমাণ দিবে তারা? স্পর্শকাতর অজুহাতে আর কত ঢাল হয়ে দাঁড়াবে সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম এই প্রাণীদের?

কোনও সরকারই যে এদের বিচার করবে না সেটা আর অপেক্ষা করে দেখে বলতে হবে না। আমরা জেনে গেছি, বুঝে গেছি। আজ যেমন তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের ব্যাণার নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে কদিন পরেই তারা গোলাম আযম গঙদের বীরশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দেবেন।

সেমিনারে বসে বা ব্লগে এর প্রতিবাদ জানানোর সময় শেষ হয়ে গেছে... এখন রাস্তাতেই নামতে হবে...

ছোটবেলায় বগুড়া ইয়ুথ কয়্যারের একটা গান শুনছিলাম... অস্ত্রটা জমা দিছি টেরনিংটা না...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল


২৪ | বিপ্রতীপ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১২:৪২

অরুপ ভাই,
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই কবিতা আর ব্যানারটি স্টিকি করে রাখতে পারবেন? নাহয় সরিয়ে দিন। এক দু'সপ্তাহের চেতনাতে (আমার কাছে অবশ্য এখন এটা উন্মাদনাই মনে হয়) এর কোন সমাধান নেই।

২৫ | আলমগীর | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:০০

কোন ভাষা নাই। এদের নেটওয়ার্ক আরো বাড়ছে। বিচারপতি সাহেব তো প্রকাশ্যেই জানান দিল। ভেতরে ভেতরে আরো অনেক আছে। নিস্তার কবে পাব কে জানে? মায়া লাগে নিরীহ মুক্তিযোদ্ধার জন্য যিনি কিছু না বুঝেই হায়েনাদের সম্মেলনে গিয়েছেন।

২৬ | ইশতিয়াক রউফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:০৮

আমি আসলেই সিরিয়াস, ভাই। আমি খুবই নগণ্য একজন মানুষ। টাকা-পয়সা কিছুই নাই। ধারে পড়াশুনা করি। আছে বলতে একটা ব্যাংকে ২৫০ ডলার। দেশে যাবার টিকেট জন্য এখনো পর্যন্ত এটুকুই জমাতে পেরেছি। একটা রাজাকার মারার পারিশ্রমিক হিসেবে এটা আমি নগদে লিখে দেবো যে-কাউকে। দু-চার-দশটা মারলেই বাকিগুলোর আস্ফালন বন্ধ হবে।

কারো কোন হিটম্যান চেনা-জানা থাকে তো মেইল-মেসেজ দিয়েন। ঠাট্টা করছি না। দুই দিন পরপর মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কোন না কোন ুতমারানির কাজ দেখে। ালের দেশ একটা... থাক, এখানে মুখ খারাপ করবো না।


২৭ | দৃশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:১৫

প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কোন না কোন মুক্তিযোদ্ধা এভাবেই মার খাচ্ছেন। হয়তো শারিরীকভাবে নয়তো মানসিক ভাবে, তা না হলে ভাগ্যের হাতে। আমি হলাম সবচেয়ে বড় হারামি (আমরা কথাটা আর ব্যবহার করলাম না)। বইসা বইসা তামশা দেখি আর হা হুতাশ করি...নইলে নামকাওয়াস্তের পেতিবাদ করি যেই পেতিবাদের বেইল নাই। হয় এবার বেজন্মাগুলা মরবে আর নইলে সব মুক্তিযোদ্ধা মারা যাক... বাঁইচা থাইকা লাভ কি তাগো?


২৮ | দৃশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:১৭

ইশতিয়াক ভাই দলে আমারে রাইখেন প্লিজ।


২৮.১ | ইশতিয়াক রউফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:৫১

ঠিক আছে, রাখলাম। তবে আমি খুব বেশি সিরিয়াসলি-ই বলছি ভাই, একটা ভাড়াটে খুনি যোগাড় করে দেন। টায়ার্ড এসব দেখতে দেখতে।




২৯ | দৃশা | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৩:৫৮

আমি কম সিরিয়াসলি বলি নাই। টায়ার্ড ভাই কমবেশী সবাই। বেশী টায়ার্ড হইলাম নিজের অক্ষমতায়। স্কুল-কলেজ থাকতে বাপ মায়ের কুবুদ্ধিতে ভাল পোলাপাইনের সাথে মিশছিলাম। ভুল করছিলাম। বন্দুকধারীদের লগে খাতির রাখা উচিত আছিল।


৩০ |
অতিথি লেখক | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৪:০৯

ব্যপারটা কি একটু আগে অতিথি লেখকের দেয়া ইউটিউব ভিডিও টা দেখলাম এখন বলতাছে আর নাই? কাহিনী কি?
রবিন



৩২ | ভূঁতের বাচ্চা [অতিথি] | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৫:২৫

কি জুইতের গালি দিমু খুঁজতাছি।
বেশী খ্যাপলে আমার আবার গালি আটকায় যায়!
কবিতার জন্য অরূপদাকে ধন্যবাদ।

৩৩ | মুজিব মেহদী | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৬:০৯

খুবই যুৎসই একটা সময়ে কবিতাটা পাতে তুলে দিয়ে অরূপভাই ধন্যবাদার্হ হলেন। পড়ে ভাবলাম, কী দারুণ ভবিতব্যদ্রষ্টাই না ছিলেন আমাদের হুমায়ুন আজাদ! খুবই দরকারি ছিলেন তিনি আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য। এজন্যই বোধকরি তাঁর জীবনকে দীর্ঘায়িত হতে দেয় নি হন্তারক পাষণ্ডরা।

মোদাচ্ছেরের মতো বিচারক কি এখনো নেই আমাদের বিচারশালাগুলোতে? আছে। ভবিষ্যতেও কি আসবে না? আসবে। কাজেই এদের বিচার এখনো হয়ত সুদূরপরাহত। আমি এ বিষয়ে খুব হতাশ।
................................................................
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে গেছে


৩৪ | ফারুক ওয়াসিফ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৬:৫০

আমার কথায় কেউ আহত হতে পারেন এই ভয় সত্ত্বেও বলছি: একটা ফোরাম করে চাঁদা তুলে যারা মুক্তিযুদ্ধের অসম্পূর্ণ কর্মসূচি সম্পন্ন করতে চান তাদের আবেগের আহত দশাটা বুঝতে পারছি। তকে কাজটা ভাড়াটে লোক দিয়ে করালে তাকে কি গৌরবের কাজ বলা যাবে? সেটাও সন্ত্রাসী কাজ হবে না? মুক্তিযুদ্ধ তো ফোরাম করে, চাঁদা তুলে ভাড়াটে লোক দিয়ে হয় নাই, যারা গিয়েছে তারা জানবাজি রাখার মতো লক্ষ্য পেয়েছিল, অনন্যোপায় হয়েছিল। আমরা মনে হয় আর দেশের জন্য জানবাজি রাখার জায়গায় নাই, এবং আমাদের মনে হয় রাজাকার হত্যা ছাড়াও আরো অনেক উপায় আছে, যাতে আমরা ব্যস্ত আছি। এমনকি তার জন্য জানও বাজি রাখতে পারি। প্রতিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা আর প্রতিষ্ঠার থেকে আর কোন বড় মতাদর্শ বা লক্ষ্য আমাদের আছে বলে তো মনে হয় না।


এই আমাদের বলতে, আমি 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি'কেই বলছি। তারা বন্ধ্যা হয়ে গেছে। তারা আর কিছু জন্ম দিচ্ছে না। কিন্তু রাজাকারেরা নিরন্তর প্রসব করে যাচ্ছে, কর্মী, সংগঠন, রাজনীতি, টাকা, পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি।


ইদানিং দেখছি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষওয়লাদের বুদ্ধিজীবীদের বড় অংশই জনগণের মধ্যে কাজ করার চেয়ে বিদেশে আশ্রয় ও তদ্বীর করাতেই বেশি ব্যস্ত। হাসান ইমাম সহ আর যাঁরা, সবার নাম বলা গেল না।
এখন এরা জঘন্য সেনা শক্তির কাছে আব্দার জানাচ্ছেন, কিন্তু আন্দোলন গড়ে তোলার মুরদ দেখাচ্ছেন না। সেটা তাদের নেইও। ক'দিন পরে এরাই মার্কিন সৈন্যদের বলবে, বাবারা আমাগো দেশ দখল কইরা আমাদের রাজাকারদের হাত থেকে স্বাধীন কইরা দাও।
৩৭ বছরে স্বাধীন কথাটার মানে রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধাদের দল উভয়েই পাল্টে ফেলেছে। লাখো শহীদের মৃত্যু তাদের কাছে রাজনীতির অফুরান বিনিয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়।


৩৪.১ | সুমন চৌধুরী | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০০:১৩

এরশাদ পতনের পরে যারা নির্মুল কমিটি তৈরী করছিল তাদের মধ্যে তখনো জোশ ছিল কাজ করার। যদিও জামাত এবং অন্যান্য রাজাকাররা ততদিনে নিজেগো জায়গা মোটামুটি পাকা কইরা নিছে। নির্মুল কমিটির আন্দোলন ধরা খাইছে মুলত আওয়ামী লীগের বাটপারির জন্য। যেইটা এইখানে দেখার বিষয় সেইটা হইল যেই "নির্দলীয়" বুদ্ধিজীবীরা ১৯৯২-৯৪ পর্যন্ত বিচারের দাবীতে রাস্তায় ছিল তারা ১৯৯৪-৯৬তে আরো বেশী কইরা আওয়ামী লীগরে আঁকড়াইয়া ধরে আর এই ধরাটা আওয়ামী লীগের ৯৬-২০০১ সময়ে গাঢ় হইতে হইতে শেষতম লিকুইডেশনের দিকে চইলা যায়। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে এরা কিছুই করে নাই আখের গুছানো ছাড়া। আর টানেল ভিশনে আখের গুছাইলে যেইটা হয় পলিটিক্সের র্যান্ডম ডাইভারসিটি তখন চোখ এড়াইয়া যায়। এরা অনেকেই শিওর ছিল ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের জয়ের ব্যাপারে। এরপর যখন খেলা ঘুইরা যায়, নিজামী-মুজাহিদ মন্ত্রী হয় তখন পলানো ছাড়া এগো আর কোন রাস্তা ছিল না। গুছানো আখের ছিল, তাই বৈদেশ গিয়া তারা খাওন-দাওন পাইছে। দ্যাশে যাগো রাইখা গেছে তারা পড়ছে রাক্ষসের মুখে। যারা পলাইছে তাগো মধ্যে আমরা যারা পড়তে/চাকরি করতে আইছি টেকনিক্যালি তারাও পড়ি। পার্থক্য হইল আমরা গুছানো আখের নিয়া আসি নাই সেইসব বিদগ্ধজনের মতো। কিন্তু অভিযোগ করতে গেলে সেই তালিকায় পড়ে যারা সেই সময় নির্মুল কমিটির নেতা ছিল, যারা ২০০১ সালের অক্টোবরের পরে সুড়সুড় কইরা টিএসসি থিকা পলাইয়া আইলো তারা। তাদের নিয়া বা তাদের নেতৃত্বে কিছু করা না করা নিয়া অন্তত আমি ০% ও আশাবাদী না।

এখন ঘটনা হইল জনগণের মধ্যে কিন্তু ঠিকই গণহত্যার স্মৃতি রইয়া গেছে, বিশেষ কইরা যেই জনগণের দেশত্যাগের উপায় নাই তাগো মধ্যেই। সেই প্রক্রিয়াটা কিভাবে করা যায়, সেই প্রশ্নটা এখন সামনে আসে। প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের নখদাঁত রাবীন্দ্রীক আলু চাষ করতে করতে চমৎকার কইরা কাটতে মধ্য আশি-নব্বই দশকে এঞ্জিওরা কৃত্রিম জবমার্কেট তৈরী করছিল। সেই বাজার একটু একটু কইরা ইচিংবিচিং কইরা হাওয়া হইতেছে। পেটিবুর্জোয়াদের নিম্নপর্যায়ের মধ্যে একধরণের কৃত্রিম স্ট্র্যাটিফিকেশন তৈরী হইছে, অন্য দিকে বাংলাদেশের বাজারমান অনুসারে যাদেরকে আমরা উচ্চমধ্যবিত্ত বলি তাঁরা নিজের ঘরে ছাগুরাম চাষ করতেছে। অর্থাৎ সাংস্কৃতিক হেজিমনি বলতে যে বর্গটা নব্বুই দশকের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রকমান্ডের নামে রাস্তায় নামছিল, তারা অনেকগুলি পরস্পর সংযোগহীন পকেটে বিভক্ত হইয়া গেছে। কৃষকদের সংগঠণগুলি একদিকে ছত্রভঙ্গ আরেকদিকে এঞ্জিওদের মুঠায়, শ্রমিক আন্দোলন গত দশ বছরে যা দেখছি সবই স্বত:স্ফুর্ত, কোন দল সেগুলি সংগঠিত করা দুরে থাক দলীয় যোগাযোগ সৃষ্টি হওয়া মাত্র পিঠে ছুরি মারা মধ্যস্থতা শুরু হইয়া যায়। সব মিলাইয়া পরিস্থিতিটা জটিলতর। কোন সমাধান নাই এই কথা বলার অধিকার আমারে কেউ দেয় নাই, আর এত বড় কথা কইতে ল্যাজ যত মোটা হইতে হয় তত মোটাও এখনো হয় নাই। রাস্তা নিশ্চয়ই আছে। না থাকলে ফুলবাড়ি-কানসাটের প্রতিরোধ হইতো না।



৩৫ |
আহমেদুর রশীদ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ১৭:২১

আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি
আর
আস্ফালন করি।

ওরা ঘরে ঘরে যায়-ছলে বলে কৌশলে করায়ত্ব করে মানুষ।


৩৬ |
অচল আনি (একজন নপুংশক) (যাচাই করা হয়নি) | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২০:০১

কি আর কমু?? মুখ দিয়া কথা বাইর হইতাছে না...
নপুংশক আস্ফালনেরও কোন মানে দেখতাছি না... ...
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে গেছে...আর আমরাও হালায় নষ্ট হইয়া গেছি... মুক্তিযোদ্ধা মাইর খায় আর আমরা বগলে বোতল নিয়া... সুবর্ণা-সৌদ এর বিয়ার খবর পড়ি আর বগল বাঁজাই, হাত তালি মারি...


৩৭ | শেখ জলিল | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২০:০৯

সবকিছু নষ্টের অধিকারে চলে গেছে! এখন দরকার প্রতিরোধ। জনগণকে নিজের হাতে এদের বিচার ছাড়া গত্যন্তর নেই। এইদিনে মনে পড়ছে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও কবি হুমায়ুন আজাদকে।


খেকশিয়াল এর ছবি
৩৮ | খেকশিয়াল | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:২৯

মন্তব্য নিষ্প্রোয়জন ।
অরূপদাকে ধন্যবাদ ।


৩৯ |
সৌরভ | রবি, ২০০৮-০৭-১৩ ২২:৪২

সবার বিক্ষুব্ধ চেহারা দেখে হাসি পাচ্ছে।
কারণ, এই সময়ের আগমন কি খুবই অপ্রত্যাশিত ছিলো?

বছর সাতেক আগে, ওদেরকে সংসদে বসানোর সময়ই কি আমরাই কি এই সময়ের বীজ বপন করি নি? এই সময়ের দায়িত্ব আমার, আপনার, এই সময়কে যাপন করা প্রতিটি বাঙালির।
ধিক আমার জন্ম।

আনিসুল হক বছর পনের আগে একটা কল্পকাহিনী লিখেছিলেন, হাজার বছরের অন্ধকার। মুক্তিযোদ্ধা আর মননের দাবিদার বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষগুলোকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, আর ক্ষমতায় এসেছে একদল ঘাতক। এটাই প্রেক্ষাপট।
এই কল্পকাহিনী কি বাস্তব থেকে দূরে ?


৩৯.১ |
নজমুল আলবাব | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১২:৪৬

অন্ধকারে একশ বছর


৪০ | প্রকৃতিপ্রেমিক | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০২:৪১

বাহ বাহ, বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে এসে ধন্য বোধ করেছেন। সত্যই অন্যন্য বিচারপতি। কে জানে আরো কতদূর পৌঁছেছে ঘাতকের দল।

৪১ | থার্ড আই | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ০৪:৪৪

নষ্টদের দখলে চলে গেছে মানলাম স্বীকার করলাম। ১৯৭১ সনে আমাদের যে চেতনা ছিলো এখন তো আমরা আরো শক্তিশালী, সে সময় রাজাকারদের আমরা কিছু করতে পারতাম না এখণতো রাজাকার গুলো চিহ্নিত। তাদেরকে আমরা কেন সনাক্ত করিনা। সবকিছু নষ্টদের দখল থেকে চেতণার রঙে রাঙাতে হলে ব্লগের বিকল্পনেই । দেশে বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদের তালিকা থেকে তাদের বর্তমান অবস্থানগুলো আমাদের খুঁজে বের করে তাদের কুকৃর্তীগুলোর ধারাবাহিক সিরিজ করে আমরা অন্তর্জালে ছড়িয়ে দিব। নির্বাচনে যদি এই সব কুলাঙ্গার গুলো অংশ নিতে চায় তবে তার প্রতিটি ব্যনার পোস্টারের নিচে যেন তার ৭১ এর কুকৃর্তীগুলোও শোভা পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যত বেশী আমরা এই কুলাঙ্গার গুলোর কুকৃর্তী বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পারবো , ততই মুক্তিযুদ্ধের চেতণা দীর্ঘস্থায়ী হবে। আমাদের আন্দোলনটা করতে হবে সবাই মিলে । যাতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটা চেতণার বিজ ঢুকে । একজন মুক্তিযোদ্ধার এমন লাঞ্ছনার সংবাদে আমাদের যেমন বুকটা হু হু করে কেঁপে উঠে, নতুন প্রজন্সের একজন তরুনের কি এমনটা কাপন ধরে??

ধর্মের নামে যারা রাজনৈতিক ব্যবসায় নেমেছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম বিভ্রান্ত না হয়।
---------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে


৪২ | নজমুল আলবাব | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১২:৫০

মেজাজটা খারাপ করারও ক্ষমতা নাই।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল


সুরভি এর ছবি
৪৩ | সুরভি [অতিথি] | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৭:৫২

গতকাল দুটো বড় মন্তব্য লিখে পাঠানো হয়নি,সব ভুলে থাকতে চাই,কেন নাড়া দেন এমনি করে? কি লাভ?মনে মনে জপছি,কোন
মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, হয়েছিল গৃহযুদ্ধ (!) রাজাকার ,আলবদর, বলে
কিছু ছিল না ,ওরা ছিল ধার্মিক(!),এখনও তাই ৎ
এসব ভেবেও শান্তি পাচ্ছি না ৎছোটখাট নাড়াতে আর কাজ হবেনা ,
ভূমিকম্প চাই ,
আলী আমানের ঘটনায় মন খারাপ, এ লেখাটা সামনে তুলে আরো
মন খারাপ করে দিয়েছেন,তারপরেও সাধুবাদ না দিয়ে পারছিনা
অরুপ আপনাকে ৎ

৪৪ | বিপ্লব রহমান | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ১৯:৫৮

সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যাচ্ছে...



৪৫ |
অয়ন | সোম, ২০০৮-০৭-১৪ ২১:২০

ভাগ্য ভালো ৭১এ মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানীদের মারার জন্য হিটম্যান খোজেন নি। নয়তো আজকের মন্তব্যটা উর্দুতেই লিখতে হতো।

Tuesday, July 8, 2008

ধনেশ পাখির দ্বীপে

শনিবার ঘুম থেকে উঠে মনে হল অনেকদিন পাগলামী করে বেরুনো হয় না। কিন্তু যাই কোথায়? ধারেকাছে আছে পাঙ্কোর দ্বীপ। যায়গাটা খারাপ না, সৈকতটা কেমন ছিল ভুলে গেছি। শুধু মনে আছে গেলবার আমাদের কাঠের শ্যালেটার সামনে একটা বিশাল ধনেশ পাখি বসে ছিল। ছোটবেলায় ছবির বইতে দেখেছিলাম, পড়ে দেখি চিড়িয়াখানায়। কি রাজসিক ভঙ্গিতেই না বসেছিল নোংরা খাঁচাটায়! সেই পাখিটা যখন চোখের সামনে বসে বসে গায়ের পালক ঠিক করে তখন অবাক হয়ে দেখতেই হয়।

মাশীদ গেছে সিঙ্গাপুর, পাঙ্কোর এখান থেকে দু'শ কিলো দূরে। কি আছে দুনিয়ায় বলে তাই ভর দুপুরেই বের হই। লুমুত জেটিতে পৌছাতে পৌছাতে সাড়ে পাঁচটা, ফেরী ধরে যখন পাঙ্কোরের মাটিতে পা দিলাম তখন ছটা বেজে গেছে।

ধারনা ছিল লাঙকাওয়ির মতো জমজমাট হবে জেটির কাছে। ধারনা ভুল ছিল। সবাই যার যার বাহনে যে যার মতো চলে গেল, বেকুবের মতো পড়ে রইলাম শুধু আমি। কি আর করা, ব্যাকপ্যাকটা ঘাড়ে নিয়ে হেঁটে হেঁটেই ঘুরবো ঠিক করলাম। পরিকল্পনাটা ভালো ছিল না। পাহাড়ী দ্বীপে কেউ হাঁটে না, বাইকে না হয় গাড়িতে চড়ে চলাচল করে সবাই। বোকার মতো আমিই কেবল বাঁকাতেড়া পাহাড়ী রাস্তা ধরে হাটছি। নিজেকে একবার রামছাগল বলে গালি দিলাম। একবার ভাবলাম ফিরে যাই।

সন্ধ্যে ছটার সময় এই জঙলা দ্বীপে ধনেশপাখি দেখার চেষ্টা করার চেয়ে প্যাভিলয়নের গোল্ডেন ক্লাসে রগরগে মুভি দেখা অনেক অনেক ভালো পরিকল্পনা হতে পারতো। চড়াই বেড়ে উঠেছি, দম প্রায় শেষ। মন খারাপ করে আবার পা বাড়াই।

আমাকে খানিকটা অবাক করে দিয়ে মহাজনদের দেখা পাওয়া গেল। একের পর এক! সব মিলিয়ে পাঁছ/ছ'টা ধনেশ! আলো কম থাকায় ছবি আর ভালো হলনা। আটটায় ফেরী সময়ও কম। তবুও শান্ত্বনা, পাখি তো দেখা হল!

পাঙ্কোর দ্বীপ নিয়ে বিশদ না লিখে এবারে শর্টকাটে কিছু ছবি দিয়ে যাই। লিখতে হলে সামনে আবার যেতে হবে।

দোকলা ধনেশ (১)
দোকলা ধনেশ (১)

দোকলা ধনেশ (২)
দোকলা ধনেশ (২)

প্যাঙ্কোর সিলুয়েট
প্যাঙ্কোর সিলুয়েট

পাঙ্কোর জেটি
পাঙ্কোর জেটি

একলা নৌকা
একলা নৌকা

পাঙ্কোরের বাড়ি
পাঙ্কোরের বাড়ি

Tuesday, July 1, 2008

নব্বই টাকা অকটেন, আনোয়ারের সডোমী কেইস আর সচলায়তনের বর্ষপূর্তি...

"কালকে থেকে তেলের দাম হবে নব্বই টাকা", টেলিফোনে কিছুটা চিন্তিত গলায় বললেন বাবা।
"এখানেও তো বাড়ল ক'দিন আগে এক নব্বই থেকে দুই সত্তর!.. কি আর করবা, ছোট গাড়ি তেল মনে হয় বেশী খাবে না.."
আমি এবং বাবা দুজনেই জানি এগুলো শান্ত্বনার কথা।

আমরা যখন গাড়ি কিনি তখন অকটেন বিক্রি হতো বিশ টাকায়, ঠিক দশ বছর আগে। আজকে থেকে সাড়ে চারগুন দামে এই জ্বালানী কিনতে হবে। এমনিতেই দেশের মানুষ খাদ্য সংকটে বিপর্যস্ত, এবার তেলের দাম বাড়ায় আক্ষরিক অর্থেই নাভিশ্বাস উঠবে। এসব চিন্তা করলে মেজাজ ভালো থাকে না। তাই দ্য স্টার খুলে সরস সংবাদ খুঁজতে বসি।
"খাইসে!", ডাংকে চৌধুরী স্টাইলে আমি চাপা চিৎকার দেই!

বেচারা আনোয়ার ইব্রাহিমকে আবার সডোমির কেসে ফাঁসানো হচ্ছে, গত শনিবার তারই এক এসিস্ট্যান্ট মামলা ঠুকে দিয়েছে। আনোয়ার সাহেব ভয়ের চোটে লুকিয়েছেন তুর্কি দুতাবাসের ভেতরে। মালয় সরকার এতে বড়উ নাখোশ!

আনোয়ার ছিলেন মাহাথিরের সাক্সেসর, কোন একটা কারনে মাহাথির এর উপর ক্ষেপে গিয়ে ফাঁসিয়ে দেন মিথ্যা সডোমির মামলায়। এখানে ফৌজদারী ঝামেলায় পড়লে অনেক দিন নির্বাচনে যাওয়া যায় না। আনোয়ার ভাই গেল এপ্রিলে ঝামেলামুক্ত হয়েছে, নির্বাচনে যেতে তার কোন বাধা নেই, আর এমনই সময় আবার এই ক্যারা! কেউ বলছে নির্বাচনে কঠিন বাড়ি খেয়ে সরকার মহা চটে গেছে তাই এই শাস্তি, কেউ বলছে আবার আনোয়ারকে নির্বাচনে অযোগ্য করার জন্য এই প্রয়াস। আসল ঘটনা যাই হোক, মিসেস ইব্রাহীম সেদিন জনসমক্ষে একটা ফোটো দেখিয়ে দিলেন, যাতে দেখা যায় অভিযোগকারী পোজ দিচ্ছেন বর্তমান ডেপুটি পিএম-এর সাথে। প্রেসও লুফে নিল। এখন পানি ঘোলা হচ্ছে... এনিয়ে বেশী উৎসাহ দেখালেও বিপদ, আর সব মালেশিয়ানদের মতো আমিও রাজনৈতিক কেচ্ছাগুলো ভুলে যাবার চেষ্টা করি মিনিট পাঁচেক পড়েই..

আজকে সচলায়তনের জন্মদিন। সকালের প্রথম পোস্টটা হয়তো আমার দেওয়া উচিত ছিল, নজমুল আলবাবের পোস্ট দেখে মনে হয়েছে না দিয়ে ভালোই করেছি। সচল প্রজেক্ট যখন কিছুটা আটকে ছিল তখন এই মানুষটা একটু গুঁতো না দিলে সচলের জন্ম আরেকটু পিছিয়ে যেত।

প্রথমেই একটা বিশাল ধন্যবাদ সবার জন্য


আমাদের সবার শিশুটাকে আপনারা সবাই কোলেপিঠে নিয়ে বড় করলেন, সেই কৃতজ্ঞতা আমি কিভাবে প্রকাশ করি!!!

অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই শিশুর জন্ম। হিসেব করতে গেলে লাভ-ক্ষতি দুটোই দেখতে হয়। আমাদের ব্যর্থতা অনেক। সচল হবার কথা ছিল মুক্তচিন্তা আর স্বাধীন মতপ্রকাশের কেন্দ্র। মডারেশন ও সদস্যপদ প্রদানের জটিলতায় অনেক কিছু আশানুরূপভাবে হয়নি। মুস্কিল হল, বিকল্প পথও আমরা এখনও খুঁজে পাইনি। তবে যদি একটু তুলনা করে দেখা হয় অন্যান্য সাইটের সাথে তাহলে কিছুটা পার্থক্য আমার বিশ্বাস নজরে পড়বেই।

আমার বড় আক্ষেপ সচলের অধিকাংশই সাহিত্য নিয়ে মগ্ন থাকেন। ব্লগ লেখার উৎসাহটা কোথায় হারিয়ে গেল? গতবাঁধা গল্পকবিতার চেয়ে একটা ওয়েব লগ আমাকে অনেক বেশী টানে..

বিতর্ক নিয়ে আক্ষেপ ছিল, অভিজিৎদা, ফারুক ওয়াসিফ আর সুবিনয় ট্রায়োকে ধন্যবাদ যে এরা মাঝে মাঝেই ঝাঁকি দিয়ে সবাইকে সজাগ করার চেষ্টা করেন।

সচলের দ্বিতীয় জেনারেশনের (মানে যারা কিনা সচলেই ব্লগিং শুরু করেছেন) জন্য আমার ভালোবাসা রইল। প্রথম জেনারেশনের মধ্যে যে বিভক্তি ছিল, দ্বিতীয় জেনারেশনে তা একদমই নেই। এরা সচলকে ভালোবেসেই লিখে যান, সচলায়তনের কালচারের ধারক বাহকও বলতে গেলে এরাই।

গেল একবছরে আমরা বহু উদ্যোগ নিয়েছি। তাতে আপনাদের সাড়া ও সহযোগিতা ছিল অবিভূত করার মতো। এই উৎসাহ বেঁচে থাকুক... জেগে থাকুক সবাই..

সচলায়তন কখনই খুব আহামরি মিশন নিয়ে মাঠে নামেনি। আমরা বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সাইট হবার খায়েশ পুষে রাখি না। আমরা মিডিয়া হিসাবে তোলপাড় করার ধান্দাও করি না। দিনের শেষে ছোট্ট একটা চেষ্টা, পাঠকের কল্যাণ, অন্তত একটা সাইটে গেলে যেন প্রতিদিন পড়বার মতো কিছু পাওয়া যায়। তাই কজন সচল হল তা না ভেবে সচলায়তন সচল লেখা আর সচল ভাবনায় পূর্ণ কিনা সেই চিন্তায় বেশী কাতর আমরা।

ভালোবাসা একটা অদ্ভুত জিনিস। আমি কোন দিন এর ব্যাখ্যা করতে পারিনা। সচলায়তনকে এই অদ্ভুত জিনিসটা লেপ্টে আছে দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে, আমি দেখি আর আশ্চর্য হই.. পৃথিবীতে আশ্চর্য হবার জিনিসের শেষ হয়না...

Sunday, June 15, 2008

ভালো থেকো বাবা

১.
ইমিগ্রেশন পার হয়ে গ্রীন চ্যানেল দিয়ে বের হবার নিয়ম, আমি খানিকটা থমকে দাড়াই, কাঁচের দেওয়ালের ওপাশে কারা দেখবার জন্য। বয়স কম হয়নি, দূরে তাকালে সব কেমন ঘোলা ঘোলা লাগে। পেছন থেকে কেউ যেন তাড়া দেয়, হ্যান্ডক্যারিটা নিয়ে আমাকে এগুতেই হয়। হঠাৎ একটা হাত দেখে থামি, এটাই বাবা। আমি জানি এরপর আমাকে কোথায় যেতে হবে। খাকি শর্টস আর লাল পোলো শার্ট পড়া বছর ত্রিশের "ছোটছেলে"টা বাবার দিকে দৌড় দেয়।

একটা শিশু বিশালতা জিনিসটা শেখে সম্ভবত বাবার কাছ থেকে - সাহসের বিশালতা, জ্ঞানের বিশালতা, ব্যক্তিত্বের বিশালতা কিংবা ক্ষমতার। বাবার কাছে গিয়ে আমি তাই ধাক্কা খাই, ডায়াবিটিসের কল্যাণে আমার বিশাল বাবাটা কেমন ছোটছোট হয়ে গেছে, কপালটা আরও বড় হয়েছে, আরেকটু পাতলা হয়ে গেছে সাদা চুলগুলো। শরীর ক্ষয়ে যেতে পারে, মন কি দুর্বল? আমি জানি বাবা সেটা প্রকাশ করবেন না, বাবাদের বইয়ে দুর্বল হওয়াটা নিষেধ, এই আইনটা ভদ্রলোক নিয়ম করে মেনে চলেন।

"কেমন আছ কামাল সাহেব?"
"হাফপ্যান্ট দেখেই বুঝছি তুই", খানিকটা গর্বের সাথে বলে ওঠে বাবা। বেচারা ভোর ছটায় এসেছে, থাকতে হবে আরো ঘন্টা দুয়েক, ওদিকে জেষ্ঠ্যপুত্র আসছেন প্রায় বছর আটেক পর।

দুটো কফি নিয়ে আমরা দুজন বসি আরেকজনার অপেক্ষায়। ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়তে পড়তে আমি বিস্ময়ে দেখতে থাকি কি গভীর আগ্রহেই না সত্তর ছুইছুই লোকটা গ্রীন চ্যানেলের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। ভালোবাসা, স্নেহ এই অনুভূতিগুলো কতোই না অদ্ভুত!!!

২.
ছোটবেলায় মার খেয়েছি প্রচুর, তবে দীর্ঘ সময় বিদেশ থাকায় বাবার কোটাগুলো মা সার্থক ব্যবহার করেছেন।
কেমন মানুষ ছিলেন? অদ্ভুত..
নিউ মার্কেটে যাবার আগে প্রতিজ্ঞা করাতেন খেলনার জন্য বায়না করা যাবেনা, যদিও প্রতিবারই বাড়ি ফেরা হতো নতুন একটা কিছু হাতে নিয়ে, তা গল্পের বইই হোক আর গেইমএন্ডওয়াচই হোক।

মেঝমামাকে একবার কঠিন ধমক দিয়েছিলেন আমাকে ছোটবেলা ফোটোগ্রাফি কেন শেখানো হচ্ছে বলে! নিজে বয়স্কাউটে থাকলেও আমার বেলায় বড় বাগড়া দিতেন!! আমার ভাইকে কম্পিউটার কিনে দেবার জন্য পাগল ছিলেন, আমি প্রোগ্রাম লিখলে তেমন গা করতেন না

এই নিষ্ঠুর লোকটাই আবার আমার বন্ধু, আমার সাহস, আমার সমস্ত ভরসা। মনে আছে মাশীদের সাথে দেখা করার জন্য চুপি চুপি পালাতে গেলেই জিজ্ঞেস করতেন পয়সা লাগবে কিনা। একটা সময় ছিল যা চাইতাম তাই কিনে দিতেন (যদিও বেশী চাওয়া যেত না কারন মা বিবেক হিসেবে দৃশ্যপটে হাজির হতেন)

জীবন সবসময় সুখের ছিলনা। ধাক্কা খেতে হয়েছে অনেকবার। পিছলে পড়ছি, বাবা হাত ধরেছেন।

এমন কিছুই করিনি জীবনে, তারপরও বাবা অসম্ভব গর্বভরে বলেন তার পুত্রদ্ধয়ের কথা। মাশীদ খানিকটা অবাকই হয়, আমি ভাবি, আমিও কি একই গর্বাপ্লুত স্বরে সন্তানগাঁথা গেয়ে যাব কিনা..

৩.
ঢাকায় গেলেই বাবা এটা সেটা কিনে দেবার কথা বলেন। আমি বিনা বাক্যব্যয়ে সাথে যাই। জুতো লাগবে না, তারপরও একজোড়া কেনা হয়ে যায়, আমি জানি, বাবাকে এই সুযোগটা দিতে হবে। বায়না ধরে বড় হওয়া ছেলেটা যখন আর বায়না ধরেনা তখন বাবাদের কেমন লাগে আমি অনুভব করার চেষ্টা করি। ভীষন অস্বস্তিকর সেই ভাবনা...

৪.
বাবার কাছ থেকে ছেলেরা অনেক কিছু পায়। আমি লোকটার সততার কিছুই পাইনি, পাইনি সাহস কিংবা কঠিন ব্যক্তিত্ব। ডাঁকসাইটে খেলোয়ারের ছেলে হয়ে আমি স্পোর্টস চ্যানেলে ঢুকিনা কখনই (খেলা তো দূরের কথা)

কিন্তু লোকটার কাছে আমার অপরিসীম কৃতজ্ঞতা। আরজ আলী মাতুব্বরকে চিনেছি বাবার কাছ থেকে। নিয়মকে প্রশ্নকরা কিংবা নতুনকে গ্রহন করার যে সামান্য প্রবনতা সেটাও তারই দান। তবে সবচে বড় প্রাপ্তি মনে হয় বিশাল নাকটা আর মেজাজ। বাবাকে কখনও প্রশ্ন করা হয়নি, কেমন লাগে যখন সে দেখে আমরা তাকে দেহমনআচরনে বহন করে করে বড় হচ্ছি।

৫.
ঢাকায় ফোন করলাম কয়েকবার, লাইন পাওয়াটা কঠিন। পোস্টটা করে হয়তো আবার চেষ্টা করবো। সেই আলাপে অনেক কথাই হয়তো হবে। কোন একটা কারনে বাড়তি আবেগটুকু মুছে আমরা কথা বলি। আজকে ভীষন বলতে ইচ্ছা করছে "ভালো থেকো বাবা, আমার বড় ভয় করে"। আমি জানি আমি কথাগুলো বলবো না..

কতো সহজ কথাই এই জীবনে আমাদের বলা হয় না আর..

Sunday, March 23, 2008

পিনাং দ্বীপে আরেকবার

প্রফেট'স বার্থডে-র জন্য বৃহস্পতিবার বন্ধ, শুক্রবার ছুটি নিলে উইকএন্ডটা ভালোই লম্বা হয়। ছুটির জন্য অ্যাপ্লাই করতেই বস রাজী হয়ে গেল। ভাবলাম রেদাং দ্বীপে যাবো, রেদাং আর পেরহেন্থিয়ান দ্বীপে না গেলে জীবন বৃথা টাইপের ডায়ালগ শুনতে হয় মালেশিয়াতে। ওয়েবসাইট দেখে ফোন করে জানা গেল এদের কোনটাতেই হোটেল খালি নেই। তিওমান দ্বীপটাও ভালো ছিল। শেষ ভরসায় সেখানে ফোন করলাম। নেই, একদম খালি নেই!

মুখ কালো করে বসে আছি, হঠাৎ মনে হল পেনাং দ্বীপে গেলে কেমন হয়? আগে একবার গেছি। আহামরি কিছু না, সোনালী সৈকত ছাড়া দেখার বেশীকিছু দেখার নেই। কিন্তু পেনাং থেকে পায়ার দ্বীপের ফেরি ছাড়ে। পায়ার দ্বীপ (পুলাও পায়ার) হল প্রবাল দ্বীপ, ফটিক স্বচ্ছ পানি আর হরেকরকম মাছের জন্য একে ধান্দাবাজী করে মেরিন পার্ক বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এই মেরিন পার্কে স্নোরক্লিং করার আনন্দ অতুলনীয় হবার কথা। পেনাং-এ হোটেল পেলে চামে পায়ার দ্বীপ ঘুরে আসা যাবে। সাথে সাথে ফোন করলাম, সমস্যা হবে না জানালেন ভদ্রমহিলা। আমাকে আর পায় কে! বৃহস্পতিবার দুপুরে রওনা হলাম আমি আর মাশীদ। পেনাং (মালেতে বলে পুলাও পিনাং) এর আগেও গেছি, বাসে। এবার নিজের গাড়িতে। ছোট্ট এই দ্বীপটা মালেশিয়ার মাথার কাছে অবস্থিত। পিনাং মানে সুপারী গাছ, পুলাও পিনাং মানে সুপারী গাছের দ্বীপ। প্রাচীনকালে পেনাং ছিল কেদাহ-র অংশ। ১৭৮৬ সালে বার্মিজ আর থাইদের কাছ থেকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ইস্ট ইনডিয়া কাম্পানীর কাছে দ্বীপটি ধার দেন কেদাহ-র সুলতান। পরে দেখা গেল সব ক্যাপ্টেন ফ্রান্সিস লাইটের ধাপ্পা। সুলতান দ্বীপের দখল ফেরত চাইলেন, বিগড়ে গেল কাম্পানী! শেষে রফা হল ইস্ট ইন্ডিয়া কাম্পানী বছরে ১০ হাজার মুদ্রা ভাড়া দেবে সুলতানকে। এর ধারাবাহিকতায় আজও কেদাহ-র সুলতানকে ফেডারল সরকার ১০ হাজার রিঙ্গিত করে ভাড়া দেয়!!!

পেনাং আমার শ্বশুরবাড়ির মতো, মাশীদের জন্ম পেনাং এর গেলুগর শহরে। মেরিন পার্কে যাবার চেয়ে সস্তায় জুতো কেনা যাবে ভেবে তার ব্যাপক উত্তেজনা।

গাড়িতে ১২০কিলো টানলে ঘন্টা চারেকেই পৌছে যাওয়া যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পেনাং ব্রীজ নজরে পড়ল (রওনা দিয়েছিলাম দেড়টায়)। এই ব্রীজ নিয়ে মালেশিয়ানদের বিশেষ গর্ব, ১৩কিলোমিটার দীর্ঘ হওয়াতে বিশ্বের লম্বা ব্রীজের তালিকায় বেশ উপরে এর নাম (যমুনা ব্রীজের দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিমি)।

পেনাং যেমন দ্বীপ, তেমনি একটা মালেশিয়ার একটা রাজ্যও বটে। রাজধানী জর্জটাউন। আমি গাড়ি ঘুরালাম বাটু ফিরিঙ্গির দিকে। বাটু ফিরিঙ্গি হল সৈকত। আমার টুর অপারেটর থাকেন বাটু ফিরিঙ্গির ধারেপাশেই, লোকে জায়গাটাকে ডাকে তুনজুং বুঙ্গা বলে।

এইখানে ডানের লেনে থাকা যন্ত্রনা, কারন ডানের লেনে একটু পর পর ইউটার্নের গ্যাপ। বহুযন্ত্রনা করে টুর গাইডের দেখা মিলল। পুলাও পায়ার যেতে একেক জনের পড়বে ২৮০ রিঙ্গিত (প্রায় ৮৭ মার্কিন ডলার!)। শখের দাম লাখটাকা, বের হয়ে গেল ৫৬০ রিঙ্গিত! সকাল সাড়ে সাতটায় হলিডে ইন এর লবি থেকে তুলে নিয়ে যাবে। সকালে ওঠার ইচ্ছা ছিল না! কি আর করা!!!

ক্ষিদে পেয়েছিল ভীষন, মাশীদের কথায় গাড়ি হাঁকালাম গার্নি ড্রাইভের দিকে। সাগড়পারে হাজারো খাবারে দোকান নিয়ে গার্নি ড্রাইভ। পেনাং-এ পার্কিং নিয়ে বেশ গ্যাঞ্জাম হয়। ধুমধাম ফাইন করে দেয়। তাই পার্কিং লট ওয়ালা রেস্তোরায় ঢোকাই ভালো। বালি হাই এর চেহারা দেখে লোভ সামলানো গেল না। সীফুডের দোকান, জ্যান্ত মাছ সব একোরিয়ামে রাখা। দেখালেই কেটেছেঁটেরান্না করে দেবে। লবস্টার খাবার শখ ছিল, পয়সাতে কুলালো না। ওদিকে মাশীদ বান্দরের মতো লাফাচ্ছে, কারন একটা একোরিয়ামে দুটো মোরে ঈল রাখা। চাইলে সে দুটোও হয়তো রেঁধে খেতে দেবে!!


বালি হাই সী ফুড রেঁস্তোরা (ছবিঃ মাশীদ)
বালি হাই সী ফুড রেঁস্তোরা (ছবিঃ মাশীদ)


অয়স্টার ভক্ষন (ছবিঃ মাশীদ)
অয়স্টার ভক্ষন (ছবিঃ মাশীদ)

লেবুর রস দিয়ে ফ্রেশ অয়স্টার খেতে গভীর আনন্দ, তবে বাঙ্গালী কেউ সাথে থাকলে একাজটা পরিহার করাই ভালো। কি দরকার লোকজনকে বমিটমি করার যন্ত্রনায় ঠেলে দেবার!

সন্ধ্যা হতেই রওনা দিলাম সেই বাটু ফিরিঙ্গির দিকে। সব ভালো হোটেলগুলো এখানে সোনালী সৈকতের কারনে। আমরা অবশ্য গেলাম নাইট মার্কেট দেখতে। নাইট মার্কেট বসে হলিডে ইন-এর কাছে। বহু মানুষে গমগম করছিল, ঘুরে ঘুরে দেখতে ভালোই লাগে। পথে দেশী ভাই একজনের সাথে দেখা হল, স্মল ওয়ার্ল্ড!!

রাত দশটার দিকে মনে হল হোটেল ঠিক করা হয়নি। সস্তা হওয়াতে (১২০ রিঙ্গিত) ডি'ফিরিঙ্গি হোটেলে চেক-ইন করে ফেললাম। হোটেলটা চমৎকার, শুধু টয়লেটটা বড় কার্পন্যে তৈরি! লবি-তে ফ্রি ওয়াইফাই আছে, টয়লেটের দুঃখ তাতে খানিকটা ভোলাই যায়।

কিন্তু চ্যালেঞ্জ হল সকাল ৬:৩০ এ উঠে ৭:৩০ এর বাস ধরা। কপাল ভালো, ঝামেলা ছাড়াই পরদিন বাস ধরে ফেললাম।

পায়ার দ্বীপ(বামে), ডাইনে ডাইভিং প্লাটফর্ম (ছবিঃ মাশীদ)
পায়ার দ্বীপ(বামে), ডাইনে ডাইভিং প্লাটফর্ম (ছবিঃ মাশীদ)

পুলাও পায়ার লাংকাওয়ি দ্বীপের কাছে। পেনাং থেকে যেতে হয় ফেরীতে, দুঘন্টা লাগে। দুঘন্টা পরে যখন পৌছালাম তখন আমার বত্রিশ পাটি বের হয়ে গেছে। স্বচ্ছ সবুজ পানির উপরে ভাসমান প্ল্যাটফর্ম। গাইড ব্রিফিং করেই মাস্ক, লাইফভেস্ট আর ফ্লিপার দিয়ে গেল। মাস্ক পরে স্নরক্লিং করেছি আগের বার, ফ্লিপার পড়িনি। প্রথমবার ফ্লিপার বলে বিশেষ অস্বস্তি হতে লাগলো। থপ থপ আওয়াজ তুলে গেলাম পানিতে নামতে। পানির কাছে গিয়ে আর সাহস হয়না। ৬-৮ মিটার গভীর পানি। সৈকত প্রায় ১০০ মিটার দূরে। সেফটি লাইন বা নেট নেই। আর সাহস হয় না। একহাতে সিড়ি ধরে খানিক চেষ্টা করি কিন্তু ভরসা হয়না। এদিকে হাজারো মাছে ছেয়ে গেছে চারপাশ। অসাধারন!


ডাইভিং প্লাটফর্মের সিড়িতে জনগন (ছবিঃ মাশীদ)
ডাইভিং প্লাটফর্মের সিড়িতে জনগন (ছবিঃ মাশীদ)


অবজারভেশন ডেক থেকে (ছবিঃ মাশীদ)
অবজারভেশন ডেক থেকে (ছবিঃ মাশীদ)

মাছের ঝাঁক (ছবিঃ মাশীদ)
মাছের ঝাঁক (ছবিঃ মাশীদ)


ফটিকস্বচ্ছ জল (ছবিঃ মাশীদ)
ফটিকস্বচ্ছ জল (ছবিঃ মাশীদ)


প্রায় ঘন্টাখানেক ভীতুর ডিমের মতো বসে থাকলাম, পানিতে নামা হল না। প্লাটফর্মের নীচে অবজারভেশন এরিয়া আছে, মনখারাপ করে সেখানে গিয়ে এক জাপানি মেয়ের জলকেলি দেখতে লাগলাম। উপরে উঠে দেখি প্রায় সবাই দাপাদাপিতে ব্যস্ত। তিওমানে সেফটি লাইন ধরে ছিলাম হাতে, সাবাহ-তে পানি ছিল অগভীর। এখানে কোনটাই নেই! হঠাৎ ১০ বছরের একটা বাচ্চাকে দেখে রোখ চেপে গেল, দিলাম ঝাঁপ। হাত দিয়ে সাঁতরে সুবিধা করা কঠিন। ফ্লিপার দিয়ে পা ছোড়াছুড়ি করতে করতে এক পর্যায়ে আবিস্কার করলাম আমি সামনে এগুচ্ছি! মিনিট পাঁচেক পর খেয়াল করলাম ডান হাতটা সুপারম্যান স্টাইলে ধরে রাখলে ডানে-বামে করাটা সহজ হয়ে যায়। ইনিশিয়াল শক কেটে গেল! মাছ দেখা বাদ দিয়ে সাঁতার কাটা শুরু করলাম। হঠাৎ খায়েশ হল সৈকত পর্যন্ত যাবার। অর্ধেক পথ যাবার পর দেখি ডান পা ব্যথায় অবশ হয়ে যাবার যোগাড়। তাহলে কি মাঝ পথে আটকে যাবো? না, শেষ পর্যন্ত তীরে পৌছালাম, কিন্তু ততক্ষনে দুপায়ে প্রচন্ত যন্ত্রনা! কোন একটা ভুল হচ্ছে! দম নিয়ে আবার শুরু করলাম, এবার সৈকত থেকে প্লাটফর্মে। পা ছোড়ার প্যাটার্ন খানিকটা বদল করলাম, খানিকটা ধীর লয়ে, এইবার আর ব্যথা নেই। সিড়িতে উঠতে গিয়ে দেখি মাশীদ।
"তোমার তো মহা বাড় বাড়সে!" চিন্তিত মুখে তেড়ে আসে সে! আমি হাসি!!! এই হাসি ব্রজেন দাসের ইংলিশ চ্যানেল জয়ের পরবর্তী হাসির চাইতে কম কিছু না।

বাচ্চা হাঙর (ছবিঃ মাশীদ)
বাচ্চা হাঙর (ছবিঃ মাশীদ)

দুপুরে বুফে ছিল, কিন্তু খেয়ে সুবিধা হল না। ক্ষুধা নিয়েই গেলাম শার্ক ফিডিং দেখতে। গাইড মাছ ছিড়ে ছিড়ে ফেলছে পানিতে, রক্তের গন্ধে অনেক মাছের সাথে হাজির হল তিনেট বাচ্চা ব্ল্যাকটিপ হাঙর আর একটা ব্যারাকুডা! একটু আগেই এই জায়গা থেকে মাত্র ২০০মিটার দূরে সাঁতরে বেড়িয়েছি। নিজেকে বীরপুরুষ ভেবে শান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করে লাভ হলনা।

শার্ক ফিডিং এর পরে প্রায় ঘন্টা খানেক স্নরক্লিং করেছি। ফাইন্ডিং নিমোর কল্যানে ক্লাউন ফিশ বা অ্যানেমোন ফিশ এখন সবাই চেনে। নানারং এর প্রবালের মাঝে ক্লাউন ফিশ দেখে মজাই লাগলো। সাথে বিকিনি পড়া উর্বশীদের কথা নাই বা বললাম!

------

তামান রামা রামার প্রজাপতি
তামান রামা রামার প্রজাপতি

পুলাও পায়ার দেখবার পর আজ গিয়েছিলাম তামান রামা রামা বা প্রজাপতি উদ্যানে। অসংখ্য প্রজাপতি আর কিছু বেমানান প্রাণী নিয়ে গড়া তামান রামা রামা। এরা প্রজাপতির চাষ করে ভালো পয়সা বানায়। ভাবছি ঢাকায় এরকম করলে কেমন হয়।


কাঠি পোকা
কাঠি পোকা

আলট্রাভায়োলেট আলোর নীচে কাঁকড়াবিছে
আলট্রাভায়োলেট আলোর নীচে কাঁকড়াবিছে

মাশীদের হাতে বসা প্রজাপতি
মাশীদের হাতে বসা প্রজাপতি

বিকেলে ফিরে এলাম জর্জ টাউনে। মাশীদের কেনাকাটা শেষ হয় না আর। শপিং শেষে ডিনার হল হাংরি ডাক-এ। পুরোনো শপ হাউজ গুলোকে রেনোভেট করে ক্লাব এরিয়া বানিয়েছে এরা। রাতের আড্ডার জন্য অসাধারন!

মালেশিয়া দেশটায় ঐতিহ্যের বড় অভাব। সেই দিক থেকে পেনাং আর মালাক্কা কিছুটা বিট্রিশ কলোনিয়াল স্মৃতি ধরে আছে। তবে যেভাবে এদিকায় নগরায়ন শুরু হয়েছে তাতে আর ৩/৪ বছরে সবকিছু সাফ করে হাইরাইজ উঠতে থাকবে সিঙ্গাপুরের মতো। লোকজন বড় আশা করে আছে নতুন সরকার এই বিষয়গুলো অনুভব করবে।
মালেশিয়ানদের জন্য আমার মাঝে মাঝে বড় করুনা হয়.. একটা জাতি কিভাবে এতোটা ঐতিহ্যহীন হতে পারে!... হইনা যতোই ক্লিনার কিংবা পেট্রোল পাম্পের ওয়ার্কার, সাড়ে তিনহাজার বছরের ইতিহাসের দেশ থেকে এসে আমরা এখনও কিছুটা গর্ব করতেই পারি

Saturday, March 22, 2008

ওব্রিগাদো সাও পাওলো - শেষ

(লেখাটা বহুদিন হল ঝুলে আছে, ব্রঙ্কিয়াল ইনফেকশনে পড়ে সব চুলোয় উঠেছিল, আজকে তাই হিসেব চুকিয়ে ফেলা যাক)

ব্রাজিল, লাতিন আমেরিকা নিয়ে আমার অনেক রকম ধারনা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ধারনাকে চারআনার পাত্তা দেয়না। পেলের দেশে গিয়ে রাস্তাঘাটে সাদাচামড়ার মানুষ দেখতে বেমানান লাগছিল। ইতিহাস পড়ে জানলাম আদিবাসী বা মাটির মানুষ যারা ছিল তাদের পর্তুগীজ শাসকেরা মেরে কেটে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছেন! প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল ওয়াইমিরা বলে একটা আদিবাসী গোত্র। ব্রাজিলের জেনারেলরা তখন আমাজনের মাঝ বরাবর রাস্তা বানাতে ব্যস্ত। আদিবাসী গোত্রের ঝামেলা তাদের বিরক্ত করল, মশামাছি মারার মতো তাই একরাতে হাজার দুয়েক মানুষকে মেরে এরা রাস্তা তৈরির পথে আর কোন বাঁধা অবশিষ্ট রাখলেন না।

যাই হোক, মূল গল্পে ফিরি। শনিবার সকালে ক্রিসের সাথে রওনা দিলাম MASP বা Museu de Arte de Sao Paulo এর দিকে। এই মিউজিয়ামকে নিয়ে আমার ব্যপক আগ্রহ। এই প্রথম সামনাসামনি বড় শিল্পীদের ছবি দেখার সুযোগ হবে। ছবি সামনাসামনি দেখলে আদৌ বেশী কিছু দেখা যায় কিনা আমার জানা নেই, তারপরেও দাপাদাপি উত্তেজনা।

IMG_0608
সাও পাওলো আর্ট মিউজিয়াম

১৯৪৭ এর তৈরি এই মিউজিয়ামটা অ্যাভেনিউ পলিস্তার একপাশে। বাইরে থেকে দেখলে বোঝবার জো নেই! দুটো লেভেল, লেভেল টুতে স্থায়ী প্রদর্শনী, আর লেভেল ওয়ানে সাময়িক প্রদর্শনী। লিফ্ট নিয়ে গেল লেভেল টুতে। লিফ্টে থেকে নেমে প্রথমেই অবাক হবার পালা, দালির একটা স্কেচ, ক্যাভালিয়ের। এলোমেলো দ্বিধাহীন কিছু রেখায় আঁকা সেই ঘোড়সওয়ার, ভদ্রলোকের বিখ্যাত কোন ছবি নয়, আমি অবাক হয়ে দেখতে থাকি সেই বলিষ্ঠ রেখাগুলো..

এই জীবনে আর্ট মিউজিয়াম দেখিনি আগে, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে যাবার শখ থাকলেও কাজের চাপে আর যাওয়া হয়নি। সাও পাওলো মিউজিয়াম চট করে ভালো লেগে গেল একটা কারনে, ছবি গুলো সময় ও স্টাইল অনুযায়ী আলাদা করে রাখা, সাথে নোট। নোট পড়ে নিলে চিত্রকলার জগৎ ও দর্শন কিভাবে পরিবর্তিত/বিবর্তিত হয় সেই বিষয়টা পরিস্কার হয়, ফলে ছবি উপভোগ করাটা অনেক সহজ হয়।

উদাহরন দেওয়া যাক, একদম শুরুতে ছবির মানুষরা সটান শক্তপোক্ত দাড়িয়ে থাকতেন। ক্রমেই এতে পারস্পেকটিভ যুক্ত হল, সটান শক্ত মানুষগুলো আরেকটু সহজ হয়ে বেঁকে বা হেলে দুলে পোজ দিতে শুরু করলেন। ছবির সাথে যখন এরকম চমৎকার বিশ্লেষন থাকে তখন ছবি দেখা অনেক উপভোগ্য হয়ে ওঠে, নিঃসন্দেহে!


অনেক বিখ্যাত শিল্পীর ছবি ছিল যাদুঘরে, এদের মধ্যে পিকাসো, ভানগোহ, রাফায়েল, রেমব্রান্ড, রেনোয়া, মনে, মানে, সেজান, দেলাক্রোয়া উল্লেখযোগ্য। তবে এটাও বলতে হবে যে, যাদুঘরের কীর্তিগুলো সেরা শিল্পীদের সেরা কর্ম নয়। দুজন শিল্পীর ছবি একটু আলাদা করে টেনেছে, প্রথম জন হলে সান্দ্রো বত্তিচেল্লী। বত্তিচেল্লীর নারীদের নিয়ে কবিতা পর্যন্ত লেখা হয়েছে। বার্থ অফ ভিনাস বহুদিন ওয়ালপেপার ছিল আমার কম্পিউটারে। বত্তিচেল্লীর কন্যাদের সামনা সামনি দেখার সুযোগ কি হারানো চলে?


ছবিটার নাম শিশুসন্ত জন বাপ্টিস্টের সাথে কুমারী মেরি।

দ্বিতীয় ছবিটা দেখলে আমার ধারনা আরো অনেক সচল একটু হলেও পুলকিত হতেন, শিল্পীর নাম জাকাপো তিনতোরেত্তো, মৃত্যূপথযাত্রী যিশুর ছবি। মনে পড়ে সত্যজিতের "টিনটোরেটোর যিশু"? এই সেই শিল্পী..

যাই হোক, আরেকটা ছবির গল্প না বললে মিউজিয়াম কাহিনী অসম্পূর্ন থেকে যায়। ছবিটা পিকাসোর, নাম Portrait of Suzanne Bloch, ১৯০৪ এ আঁকা। পিকাসোর "ব্লু পিরিয়ড" এর অন্যতম কীর্তি।

২০০৭ এর ২০শে ডিসেম্বর আরেকটি ছবির সাথে এই ছবিটাও চুরি যায়। চোরেরা মাত্র তিন মিনিট সময় নেন চুরি করতে। মাস খানেক পর এই ছবিটি আবার উদ্ধার করা হয়। ছবিটার দাম খুব বেশী ছিল না, মাত্র ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার...


ঘরের কোনায় দাড়িয়ে যখন রঁদ্যার একটা ভাস্কর্য দেখছি, তখন ইয়ের ভাই ক্রিস এসে হাজির। শালার চীনেটা বহুক্ষন ধরে ঘ্যানঘ্যান করছে, আর্ট মিউজিয়াম তোর সয় না, তো আসিস ক্যান সাথে? বললাম লেভেল ওয়ান দেখে নীচে নামবো। ব্যাটা বিরস বদনে নীচে গেল। লেভেল ওয়ানে নতুন চীনে শিল্পীদের এক্সিবিশন চলছিল। চট করে দেখে নামলাম ছাগলটার খোঁজ নিতে। ছাগলের শখ হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ম্যাক খাবে, তার ধারনা ব্রাজিলের মাংসের ম্যাকের স্বাদ আলাদা। কি যন্ত্রনা! শেষে টেনে নিয়ে গেলাম আগের দিনের রেস্তরায়।

খেয়েদেয়ে ক্রিসকে বলি, কই যাবে হে?
ইবিরাপুয়েরা পার্ক, সে বলে। পার্ক প্রায় দু মাইল দুরে, শালা হেটে হেটে যাবার ধান্দা করছে। বললাম ট্যাক্সি নিতে। সে মানবে না। মহা যন্ত্রনা, ভরদুপুরে ভরাপেটে এই বান্দরের সাথে আমি হাটতে রাজী না। "আমি তাহলে জু-তে যাই, তুমি পার্কে যাও গে", আমি বলে ফেলি
বদমাশটা ছোট চোখ আরো ছোট করে তাকায়। তারপর ওকে বলে হাটা দেয়। ট্যাক্সি নেব নিচ্ছি করছি, এমন সময় ক্রিসের দেখা আবার।
"কি চাস বাবা?"
"আমি রাস্তায় জিজ্ঞেস করলাম জু-তে যেতে কতোক্ষন লাগে, বলল ৪০ মিনিট তাই ব্যাক করলাম, আমার ধারনা ছিল জু-তে যেতে ২০০/৩০০ রিয়াইস লাগবে"
"চল চান্দু চল", দাঁত কিড়মিড় করে বলি আমি।

সাও পাওলো জু বিশাল, ট্র্যাভেল গাইডেও সুনাম করা। কিন্তু কিছুক্ষন ঘোরাঘুরির পর আমরা কিছুটা বিরক্ত হয়েগেলাম। আমাজনের পশুপাখি দেখার জন্যই আসা, সেখানে সাইবেরিয়ান টাইগার আর হাতি দেখলে ভালো লাগে না। ধারনা ছিল ভালো অ্যাভিয়ারি থাকবে, তাও নেই।
বিকেল ৫টার দিকে কিঞ্চিত বিরক্তি নিয়ে ফিরে এলাম আমরা দুজন।

An Eye to die for
টাউকান পাখি

The Cat from Amazonia
জাগুয়ার

IMG_0650
চিড়িয়াখানার খেলনাওয়ালা


আসার পথে রাস্তা দেখতে দেখতে আসি। সিগনালে গাড়ি থামে, এগিয়ে আসে ভিখারী কিশোর। দেখি ঠেলাগাড়ি ওয়ালা, আইল্যান্ডের উপরে বস্তি, তাতে হামাগুড়ি খাওয়া শিশু। সীমানা বদল হয়, ভাষা বদল হয়, দারিদ্রের চেহারা সেই একই থাকে। মুর্শেদের চিকিতা বিষয়ক কৌতুহলে ক্যামেরা বাগিয়ে থাকি। কিটিস কিটিস করে শাটার পরে, নারীমুখের ভান্ডার তৈরি হয় এসডি কার্ডে। ফিরে এসে যখন সেই ছবি দেখি তাতে মোহনীয় জেল্লার চেয়ে রোদেপোড়া পরিশ্রমী কিছু মুখ ভেসে আসে, মুর্শেদের চিকিতাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

রোববার কি করা যায়? দেখা গেল সাধ্যের মধ্যে করার তেমন কিছু নেই এক সমুদ্র সৈকত দেখা ছাড়া। সকালে উঠে মুড়িওয়ালার আসার বসে রইলাম। ব্যাটা শেষ মুহুর্তে বলে সে যাবে না, বুঝলাম অনেক দিন পর আয়েস করে ঘুমাবার সুযোগ সে ছাড়তে চায় না। কনসিয়ার্জকে জিজ্ঞেস করলাম সৈকত দেখার তরিকা। সে ম্যাপট্যাপ এঁকে দিয়ে সব বুঝিয়ে দিল। মেট্রো ধরে আমার গেলাম সাও পাওলো শেষ প্রান্তে জাবাকুয়ারা স্টেশনে। সেখান থেকে বাসে ৮৫ কিলো যাবার পর পৌছালাম গুয়ারুজা শহরে। তারপর ট্যাক্সি নিয়ে এনসিয়েদা সৈকতে। এনসিয়েদা জনপ্রিয় সৈকত, প্রচুর ঢেউ, কিন্তু পানি স্বচ্ছ না। না, এখানে টপলেস সুন্দরী ছিল না। ব্রাজিলের খুব সীমিত সৈকতে টপলেস সুন্দরীদের দেখা যাবে, তার সবই রিও-তে। তাই যারা ভাবছিলেন অরূপ কঠিন দাও মেরেছে, তাদের আশার গুড়ে বালি।

এনসিয়েদা সৈকত খুব সুন্দর না হলেও এর আকর্ষন প্রাণ চাঞ্চল্যে। সৈকত ভর্তি এতো মানুষ দেখলে কেমন মেলা মেলা ভাব চলে আসে।
সাধারন কাপড়েই সৈকত ধরে হাটতে থাকি, হাতে কায়দা করে ক্যামেরা ধরা যেন অলক্ষ্যে শাটার টেপা যায়।

এমন সময় একটা 'সাদা' শিশু দৌড়ে আসে, পর্তুগীজে কি যেন বলে হাসি মুখে। প্রথম খানিকটা ভয় পাই! ফকির নাকি? মাথা ঝাকাই, তোদের ভাষা পারি না রে পিচ্চি। একটু পরে একঝাঁক বাচ্চা মেয়ে এসে ঘিরে ধরে। খিলখিল করে কি যেন বলে। আমি লাজুক হাসি দিয়ে আগে বাড়ি। কিছুদূর যেতেই আবার সেই বালক.. এবার মনযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি, আই ভিনসেন্জো। তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করে, হোয়াট ইজ "মাই" নেম? একটু আগে সম্ভবত সে শিখে এসেছে কারো কাছ থেকে। "ইওর" এর জায়গায় "মাই" বসিয়ে ফেলেছে ভুল করে।
আমি হ্যান্ডশেক করে নাম বলি। ছেলেটা বিপুল আনন্দে খুশি হয়ে ফিরে যায়।

ধীরে ধীরে বিষয়টা পরিস্কার হয়। মুড়িওয়ালা বলেছিল ব্রাজিলে ইন্ডিয়ান (বাংলাদেশও এতে পড়ে কিনা) চেহারার মানুষের আলাদা কদর। আমরা যেমন সাদা চামড়া দেখে টাসকি খাই এরা ভারতীয় উপমহাদেশের শুনলে আরো টাসকি খায়। কি অবিশ্বাস্য!!!! দুনিয়ায় তাহলে একটা দেশ আছে যেখানে আমার চামড়া কোন সমস্যা না??

আবেগ তাড়িয়ে আবার মন দেই, মুর্শেদের চিকিতা খোঁজায়। ইশপের শিক্ষা, চিকিতারা শুধু টেলিভিশনেই থাকে, বাস্তবে না

কিছু ছবি দেই। মন ভরে দেখে নেন যা দেখার
For Adults n' For Kids
যে যেটায় খুশি

Garota Guaruja
গুয়ারুজার মেয়ে


গুয়ারুজার মেয়ে


ভালোবাসা ভারী!

Guys n' Girls
আরাম!

Fun in the Sun
ফান ইন দ্য সান

Garota Guaruja
গুয়ারুজার মেয়ে

Fun in the Sun
খেলা

IMG_0893
খেলা

IMG_0894
খেলা



যুগল

IMG_0880
ঘুড়ি উড়ানো


মারমেইড বানাতে ব্যস্ত যুবকের দল

IMG_0869
সৈকতে খেলা


Siesta on the Beach
সৈকতে সিয়েস্তা!

Swing in the Sea
দোল দোল হুস!

Businesss on the Beach
হকার

Nights of Guaruja
গুয়ারুজার ঠোলা

Serpentine Roads
সর্পিল রাস্তা


উল্টো সাইনবোর্ডের রাস্তা, এই রাস্তায় সব সাইনবোর্ড উল্টো!

IMG_0798
ফাভেলা (নোংরা শহর)

IMG_0788
জাবাকুয়ারা বাস স্টেশন

-------------------------------

ফেরার পথে রাস্তায় প্রচুর ফাভেলা দেখলাম। ফাভেলা অনেকটা বস্তির মতো, ঢাকায় যেভাবে চুরি করে বিদ্যূৎ নেয়, ফাভেলাতেও তেমন করে। কি অদ্ভুত! এতো বিশাল দেশেও মানুষের আশ্রয়ের সমস্যা!

দেখতে দেখতে ফেরার দিন চলে এলো। তিন তারিখ রাত একটায় ফ্লাইট, মুড়িওয়ালা এলো এয়ারপোর্ট পর্যন্ত। মন খানিকটা খারাপই। মুড়িওয়ালার সাথে একটা আলাদা সম্পর্ক। বেচারার বাড়িতে যাওয়া হল না, শখ ছিল রেঁধে খাওয়াবো। কাজের চাপে আর হয়নি। মুড়িওয়ালায় খুব আশায় আছে আমাদের প্রজেক্টে ঢোকা নিয়ে। বেচারা একা পড়ে গেছে এই জঙ্গলে। শেষ একটা সিগারেট ফুঁকে আমি বোঁচকা হাতে ঢুকে যাই। ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে মুড়িওয়ালার চেহারাটা। এমিরাতসের মিষ্টি মেয়েটা সবঠিকঠাক করে দেয়।
বোর্ডিং পাস হাতে নিয়ে বলি, "ওব্রিগাদো.."
না নাজানা মেয়েটাও কিছুবলে প্রত্যুত্তরে। আমি হাসি, সেও হাসে। পা বাড়াই, সিকিউরিটি পার হই, ইমিগ্রেশন পার হই। ঝকঝকে একটা বোয়িং ৭৭৭ অপেক্ষা করে আছে। গুয়ারুলঅস এয়ারপোর্টের দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে মনে মনে বলি, "থ্যাংক ইউ সাও পাওলো! কতোই না দেখার ছিল এ জীবনে!"।