Wednesday, February 27, 2008

এলোমেলো কথা - ০৫

১.
ইদানিং মন মেজাজ ভালো থাকেনা। ক্যারিয়ার টিফিন ক্যারিয়ার হয়ে গেল এই ভয়টা মাথার ভিতরে ফুলে ওঠে, তারপর দুম করে একটা বিস্ফোরন! সেদিন মনে হল দুই গ্যালন পেট্রল কিনে জ্বালিয়ে দেই। আরসেনিস্ট কেন হয় লোকে সেটা হাড়েমজ্জায় টের পাচ্ছি। ভাগ্যিস গাড়িটা ছিল তাই মাঝে মাঝে হারিয়ে যাওয়া যায়। সেদিন হারিয়ে গেলাম হঠাৎ। জিপিএসটা বন্ধ করে যেদিকে দুচোখ যায় মার্কা টান! দুঘন্টা পরে একটা ডেডএন্ডে হাজির। সামনে অদ্ভুত একটা সাইনপোস্ট, তাতে আঁকা একজন বন্দুক তাক করে দাড়িয়ে আরেকজনের দিকে। প্রাইভেট এরিয়া, ট্রেসপাস করলে ফুটুস? আমি দুঃসাহসী না, জিপিএস অন করে ছটফট করি কখন ফিক্স পায়...
আমরা হারিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখি, সাহসটাই রাখিনা

২.
ক্যামেরন হাইল্যান্ডে গেলাম বেড়াতে এই চীনে নববর্ষের ছুটিতে। ঈদের ছুটিতে এই মুসলিম প্রধান দেশটা ঘুমায় না, কিন্তু গং সি ফাই চাই এর উৎসবকালে শহরটা দপ করে নিভে যায় কদিনের জন্য। টাকার নাম বাপজান, বাকি সব মায়ার খেলা...

চীনেদের আমার অদ্ভুত লাগে। নববর্ষে আমরা বলি শুভ নববর্ষ, এরা বলে গংসিফাচাই-"আপনি আরো সম্পদশালী হোন"! নববর্ষে এরা কমলালেবু বিলি করে, কথায় কথায় কে যেন বললো, কমলার রং সোনালী টাকার মতো, তাই এই ফল নিয়ে এতো বাহানা! বাহ! টাকাই ধর্ম টাকাই কর্ম টাকাই পরমেশ্বর-এই সত্যটাকে এতো আয়োজন করে আর কোন জাতি মনে হয় মাথায় তুলে রাখতে পারে না! উন্নতি কি এমনি এমনি হয়! বিয়েতে লাল খামে (আংপাও) ভরে টাকা দাও, জন্মদিনে মাস্তি করে খরচের টাকা দাও, নববর্ষে ছোটদের টাকা দাও... বাকি সব ফালতু..

যাই হোক, ক্যামেরন হাইল্যান্ড বিখ্যাত চা আর স্ট্রবেরী বাগানের জন্য। গরম দেশে এই মালভূমি খানিকটা শীতকে মনে করিয়ে দেয়। লোকে তাই ছুটিছাটায় দল বেঁধে বেড়াতে যায়। স্ট্রবেরী ক্ষেতে পয়সা দিলে ইচ্ছেমতো কোঁচর ভরে তুলে আনা যায়। মুগ্ধ জনতা পয়সা খরচ করে ঢুকে বিষম টক স্ট্রবেরী তুলে আনন্দে বাকবাকুম শুরু করে। আমাদের শখ থাকলেও সময় হল না। শখ ছিল দুনিয়ার সবচে' বড় ফুল রাফলেসিয়া আর্নোল্ডি দেখবার। ট্রেকিং করায় কিছু ফ্যাসাদ থাকায় সেটাও হল না!

৩.
বাংলাদেশের খেলা ছিল রোববার। বত্রিশ কিলো ড্রাইভ করে গেলাম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে- আমি আর রিস্কি হামিদ। ওডিআই তাই একটু ধীরে সুস্থ্যেই গেছি। গিয়ে দেখি মাঠ খালি, চল্লিশ রানে অলআউট শার্দুল শাবকেরা কাছাখুলে বাড়ি ফিরে গেছে। দুপুরের খটখটা রোদ গভীর বিশাদে আশাহত একদঙ্গল বাংলাদেশী শ্রমিক দাড়িয়ে অপেক্ষা করেছে বাহনের জন্য...

৪.
আবার হারিয়ে গেলাম সেদিন। খিদে লাগলো যখন তখন হাজিরা দিলাম জনি'স স্টীমবোটে। গায়ে নিত্যউপহারের বাংলাদেশ টিশার্ট।

-"হয়ার আর ইউ ফ্রম সার?"
-আপনে বাংলাদেশের?
-জ্বী, ভাইয়া কি এইখানেই থাকেন
-হু, কবে আসছেন? বাকিরা কই? ওই যে ফর্সা মতো?
-মামুন ভাই? ওই যে, ভাইয়া মনে হয় প্রায়ই আসেন
এইখানে দেশের মানুষ খুব কম আসে
-ওই আর কি, আমি যা পাই তাই খাই

ছেলেটা সিলেটের। বয়স হয়েছে, শুধু চেহারায় কৈশোর দুষ্টু ছেলের মতো আটকে আছে। গভীর মনোযোগে সে আমার স্টীমবোট সাজায়। স্টীমবোটে ব্যাপক আয়োজন, ট্রেইনি হিসাবে তাকে কাজটা নিখুঁতভাবে শেষ করতে হবে

-কয় দিন হল?
-জুন আসছি
-কেমন লাগে
-খুব চাপ ভাইয়া, ভাইয়া বললাম রাগ করেন নাই তো, এইখানে সার বলার নিয়ম
-ধূর

ছেলেটা হাসে।
-সামনে সেপ্টেম্বারে দেশে চলে যাবো
-কেন? আরে কয়দিন থাকলে ঠিক হয়ে যাবে, কতো পড়লো আসতে?
-দুই লাখ
-জমে কিছু
মলিন একটা হাসি দিয়ে ছেলেটা টমইয়াম সুপ ঢালে হটপটে, সেই ঝোলে আমি খানিক পরে টুকরো টুকরো জেলি ফিশ চুবিয়ে চুবিয়ে খাবো।
-আমি চলে যাবো, থাকবো না এইখানে, মামুন ভাইও যাবে

আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হই, কথা খুঁজে পাই না। উসখুশ করতে থাকি জেলি ফিশের টুকরো গুলোর জন্য। যতো তাড়াতাড়ি খেয়ে পালাতে হবে... পালাতে হবে

৫.
কোরিয়ান খাবার খেতে গিয়ে কিমচি জিনিসটা ভালো লেগেছিল। তার পয়সা খরচ করে সেবার ইসেতান থেকে দুবাটি কিমচি এনেছিলাম। রসুনমরিচ দিয়ে মাখানো বাঁধা কপি আধাপচা হয়ে গেলে তাকে বলে কিমচি, কোরিয়ার জাতীয় খাবার। সেদিন দেখি মিলিয়ন ডলার খরচ করে স্পেস কিমচি বানানো হয়েছে, স্পেস স্টেশনে কোরিয় নভোচারীর রসনা বিলাসার্থে। কিমচিতে ফার্মেন্টেড বলে প্রচুর ব্যাকটিরিয়া থাকে। বিজ্ঞানীদের ভয় ছিল মহাশূন্যের কসমিক রের প্রভাবে মিউটেট করে এরা বিপজ্জনক দানব টানব হয়ে যাবে। ব্যাকটিরিয়ার কারনে কিমচির গন্ধও বেশ খারাপ। তাই গন্ধদূরীকরনও আরেকটা লক্ষ্য ছিল। কোরিয়ান গবেষকরা সফলভাবে এই সমস্যার সমাধান করেছেন। কোরিয় নভোচারী মহাশূন্যে ডিগবাজী দিয়ে কিমচি খাবেন, আমরা পৃথিবীতে বসে হাততালি দেব! লা জওয়াব!!

৬.
সচলায়তন সংকলন বের হয়েছে। এই নিয়ে বেশকিছু অনেক হৈচৈ করেছি আমরা। বইটা বের হয়েছে শুনে ভীষন রাগ হল। ঘরের প্রথম শিশু, তাকে কোলে তুলে দেখতে পারবো না, এটা কেমন কথা। দুর্জনে কানাখোড়া বলে, তাই বলে কি মা তাকে ত্যাজ্য করে? আমার খুব লুকিয়ে দেখার শখ হিমু বইটা হাতে পেয়ে কি করে। আবলুশ কালো এই জংলীটার চোখ চিকচিক করে ওঠার দৃশ্যটা দেখতে আমার বড় ইচ্ছা করছে... বয়স কম হলে বইটা বালিশের নীচে রেখে ঘুমিয়ে পড়া যেত-বুকে জড়িয়ে ধরে সবাইকে দেখিয়ে বলা যেত এটা আমাদের বই, আমাদের বই.. একদম আমাদের বই..
কপাল, বড় হয়ে গেলে আমরা কতো ছেলেমানুষীই আর করতে পারি না...

Friday, February 15, 2008

এলোমেলো কথা - ০৪



কদিন আগে অফিস থেকে সবাইকে একটা করে "চাচামিয়া" ছাতা দিয়েছে। চাচামিয়া ছাতাকে অবহেলা করা ঠিক্না। মাথায় স্টিলের কাঁটা থাকায় মারপিট করার জন্য ভালো অস্ত্র, আবার পাহাড়ী রাস্তায় ভর দিয়ে চলতে গেলেও মন্দ না। কিন্তু এটা দিয়ে "গল্ফ ক্লাব" বানাবার ধান্দাটা অভিনব বলতেই হয়।

লাঞ্চ থেকে ফিরে দেখি মার্কেটিং আইটির ওপেন স্পেস-এ হৈচৈকান্ড! উর্দ্ধতন ব্যবস্থাপকরা ছাতা হাতে putting-এ মগ্ন। সাথে যে যেমন বাজী ধরে নিচ্ছে। প্রত্যেক দিন অফিসে ঢুকেই মনে মনে বলি, আই হেইট দিস জব..

অফিসে কাজ ফেলে সারাদিন পাটিং করতে পারলে মন্দ হতো না। শালার কেলভিন টং আর জ্যাসপার স্টিল!!!

Tuesday, January 15, 2008

ঢাকার যে চিঠিটা আর লেখা হল না...

ঢাকায় গিয়ে পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতাম আর ছবি তুলতাম সুযোগমতো। তারই খানিকটা প্রকাশ হতো ঢাকার চিঠি সিরিজে। ঢাকা ছাড়ার আগে মন ভার হয়ে গেল, দিলাম লেখা বন্ধ করে। ফলে অনেকগুলো গল্প আর করা হল না..

এতোদিন পরে আর ঢাকার চিঠি লেখার মানে হয় না। তারচে' বরং শুনাই ছবির গল্প

নীলক্ষেতের পুরোনো বই এর বাজার
নীলক্ষেতের পুরোনো বই এর বাজার

নীলক্ষেতের তেহারীর দোকান (ইনসেটে বিখ্যাত সেই তেহারী)
নীলক্ষেতের তেহারীর দোকান (ইনসেটে বিখ্যাত সেই তেহারী)

এই তেহারী একসময় ১২টাকা ছিল, ছাত্রজীবন গেছে এসব খেয়ে। এখন ৩০টাকা প্লেট!

গুলশানে রাস্তার পাশে গরমাগরম সিঙ্গারার দোকান
গুলশানে রাস্তার পাশে গরমাগরম সিঙ্গারার দোকান

গুলশান ভ্রমন শেষে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, অন্ধকার কেবল নামছে। নরম করে শীত পড়তে শুরু করেছে। বেঞ্চিতে বসে দু'কাপ চা আর পাঁচটা সিঙ্গারা খেতে খেতে মনটা বিষন্ন হয়ে গেল

ধানমন্ডীর চটপটিওয়ালা
ধানমন্ডীর চটপটিওয়ালা

আগে ধানমন্ডীর যেখানে গ্রিনলেজ ব্যাংক ছিলো (৫ নম্বরের উল্টোদিকে) সেখানে হলেই দুনিয়ার সেরা চটপটির মেলা বসতো। এবার গিয়ে মহুয়া চটপটি ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি...

ইসলামিক টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর আগে যে নোটিশটা দেওয়া হয়...
ইসলামিক টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর আগে যে নোটিশটা দেওয়া হয়...


গুলশানে জায়ান্ট ডিসপ্লে স্ক্রীনে জঙ্গিদের সন্ধান চেয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন
গুলশানে জায়ান্ট ডিসপ্লে স্ক্রীনে জঙ্গিদের সন্ধান চেয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন


বেনজীর ভুট্টো হত্যা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান
বেনজীর ভুট্টো হত্যা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান
বায়ের ভদ্রলোক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাবেক কর্মী, ডানের ভদ্রলোক বহুজাতিক ব্যাংকের শীর্ষকর্তা। কে যে কখন সুশীল হয়ে যায় বলা কঠিন!


জনৈকা সংবাদপাঠিকা
জনৈকা সংবাদপাঠিকা
খবরবিষয়ক অনুষ্ঠান দেশে ব্যপক জনপ্রিয় চোখ টিপি


সাইন্সল্যাবের কোনায় বড়ইওয়ালা
সাইন্সল্যাবের কোনায় বড়ইওয়ালা


মাসকোসুজ সিগন্যালে (হাতিরপুল) জ্যামিতিক পশুর (ঈদ) বাজার
মাসকোসুজ সিগন্যালে (হাতিরপুল) জ্যামিতিক পশুর (ঈদ) বাজার

মানিক স্যারেরা এখনও বেঁচে আছেন!
মানিক স্যারেরা এখনও বেঁচে আছেন!

পুনশ্চ: আমাদের গাড়িতে আর যৌথবাহিনী টাস্কফোর্সের গাড়িতে গুঁতো লেগে আমার কঠিন ছ্যাচা খাবার গল্পটাও বলা হল না মন খারাপ

Monday, January 14, 2008

একটি যৌনকেলেংকারীর পর...(৪)

এবার ইলেকশন মার্চে হবে", যাওয়ার আগে বলে রাও।
"কেন? হয়াই ইন মার্চ?" আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে শুধাই
"আনওয়ার", রাও এর সংক্ষিপ্ত উত্তর আর খানিকটা "বুঝে নাও" টাইপ হাসি



আনোয়ার নামটা বললে মালেশিয়ায় আরেক যৌনকেলেংকারীর নায়কের (আসলেই কি??) কথাই প্রথমে ভাবে সবাই। পুরো নাম আনোয়ার ইব্রাহীম, একদা ডক্টর এম এর ডানহাত ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী বলে যার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। কিন্তু এশিয়ান ক্রাইসিসের সময় কিছু পদক্ষেপের জন্য আনোয়ারের সাথে মাহাথির এবং অন্যান্য পাতিনেতাদের বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধ এক পর্যায়ে এমন রূপ নেয় যে সংসদে "আনোয়ার কেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না তার পক্ষে ৫০টি কারন" নামে একটি বই বিলি-বিতরন করা হয় (অবশ্য ২০০৫-এ বইটির লেখক, মৃত্যূর আগে কোর্টের আদেশে কয়েক লাখ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরন দিয়েছিলেন আনোয়ারকে)।

ডক্টর এম খুব ভালো জানতেন আনোয়ারের জনপ্রিয়তা খারাপ না। ইলেকশনে দাঁড়ালে জিতে যাবার সম্ভাবনাটাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ডক্টর এম কিছুই করলেন না চোখ টিপি

কিন্তু খেলা শুরু হয়ে গেছে তলে তলে। ১৯৯৮ সালে ২রা সেপ্টেম্বর ভদ্রলোকের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা হয়। আর পরদিন বহিস্কার করা হয় সরকারী দল UMNO থেকে। কদিন পরই আনোয়ারে স্পীচরাইটার ও আরো একজনকে আটক করা হয় আনোয়ারের সাথে অবৈধ যৌনকর্মের দায়ে!

২০শে সেপ্টেম্বর কুয়ালালুমপুরে প্রায় লাখ খানেক লোকের সমাবেশের নেতৃত্ব দেন আনোয়ার। মালেশিয়ায় মতো দেশে ঘটনাটা আসলেই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ। সমাবেশে তিনি দাবী তুললেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের, প্রতিবাদ করলেন মাহাথিরের স্বজনপ্রীতির, দাবী জানালেন পদত্যাগের । কেউ তাকে দেখলেন নতুন নেতা হিসাবে, কেউ তকমা দিলেন হালুয়ারুটির ভাগে নাখোশ সুবিধাবাদী হিসেবে।

সেই রাতে সশস্ত্র মুখোশধারী SWAT টিমের লোকজন আনোয়ার ইব্রাহীমের বাড়ি ঘিরে ফেলে, গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

কিছুদিন বাদে আনোয়ারের একটি ছবি প্রকাশ পায়, কালসিটে পড়া চোখে থাম্বস আপ দেখাচ্ছেন তিনি। বলা হয়, তৎকালীন আইজিপি রাহীম নূর ঘুষিয়ে পেঁদিয়ে তারচোখে কালসিটে ফেলে দিয়েছিলেন!

আনোয়ারেরর বিরুদ্ধে মামলা হয় দুটি, একটি Sodomy জনিত, আরেকটি দুর্নীতিঘটিত। ১৯৯৯ এর এপ্রিলে দুর্নীতির মামলায় ৬বছর ও Sodomy-র মামলায় ৯বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়। যদিও কয়েকবছর পর ফেডারেল কোর্টে Sodomy-র মামলার রায় বাতিল করা হয়। কিন্তু দুর্নীতির রায় বহাল থাকে।

মালেশিয়ার দন্ড প্রাপ্তরা পাঁচবছর রাজনীতিতে আসতে পারেন না। দুর্জনেরা বলে আনোয়ারের মতো একজন শক্ত প্রতিপক্ষকে আটকাতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেন ডাক্তার সাহেব। হিসেব মতে ২০০৮ এর ১৪ই এপ্রিলের আগে আনোয়ার ইব্রাহীম মালেশিয়ার রাজনীতিতে পা দিতে পারবেন না। দুইয়ে দুইয়ে চার করি। এবার আমার কাছে সব স্পষ্ট হয়ে যায়, কেন রাও বলেছিল সরকার মার্চেই ইলেকশন করবে।

সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে আমি কিউবিকলের দিকে পা বাড়াতে উঠি। সবকিছু কেমন চেনা চেনা লাগতে থাকে।

(কিস্তিখতম!)

সূত্রঃ
উইকিপিডিয়া
বিবিসি

ফাও ভিডিও: ডেমোক্রেসী মালেশিয়ান স্টাইল! ২০০৭ এর ১০ই ডিসেম্বর কেমিকেল ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হচ্ছে জনসমাবেশ

Saturday, January 12, 2008

হার্ভি ক্রাম্পেটের গল্প

এয়ার ক্যানাডায় সিনেমার স্টক ভালো না। কিছু দেখতে হলে বহু ক্যাচাল করতে হয়। তাই সাত ঘন্টার ফ্লাইটের বিরক্তি কাটাতে তখন ভরসা শুধু বদখত স্বাদের ক্যালিফর্নিয়ান মের্লোর গেলাস। তন্দ্রা যখন কেবল ধরিধরি করছে, তখন দেখি সামনের ঝোলানো টিভিটা চালু হয়ে গেল। প্লেনে বসে সিবিসির খবর দেখার শখ নেই বলে কান থেকে ইয়ারফোনটা খুলে ফেললাম। কিন্তু একটু অবাক করে দিয়ে খবরের বদলে মুভি শুরু হল। মের্লোর গেলাশে চুমুক দিয়ে চোখ তুলতেই আবার পর্দায় চোখে পড়ল, Narrated by Geoffrey Rush । রাশ সাহেবের সিনেমা দেখতে ভালোই লাগে, তিনি ধারা বিবরনী দেবেন দেখে কিছু কৌতুহল জাগলো। ইয়ারফোনটা কানে চড়াই আবার...

"Some are born great
Some achieve greatness
Some have greatness thrust upon them...

... and then... there are others.."

এইভাবেই শুরু হয় হার্ভি ক্রাম্পেটের গল্প। অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক অ্যাডাম এলিয়টের তেইশ মিনিটের এই ছবিটি ২০০৩ সালে অস্কার পায় পায় সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ক্যাটেগরীতে।

আমার দেখা অসম্ভব চমৎকার মুভির একটা। সহজ কাহিনী আর সহজ দর্শন, তারপরেও বুকের ভেতরে নাড়া দিয়ে যাবে.... হার্ভেক মিলোশ ক্রাম্পেটস্কির বেঁচে থাকার কাহিনী..

বহুদিন পরে ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে পুরোটা। দেখে ফেলুন যারা দেখেননি....

"Life is like a cigarette..
Smoke it to the butt.."

প্রথম খন্ড

দ্বিতীয় খন্ড

শেষ খন্ড

Thursday, January 10, 2008

একটি যৌনকেলেংকারীর পর...(৩)

আমার ধারনা ছিল আমাদেশ মতো গরীব দেশেই মানবাধিকার বেশী বেশী অবহেলিত হয়। সরস একটা যৌনকেলেংকারীর গল্প শুনতে গিয়ে মালেশিয়ার যে কাহিনী শুনলাম তা শুনে হজম করাটা বিশেষ রকমের কঠিন কাজ। মালেশিয়ায় রাস্তাঘাটে রাজনীতির কথা শোনা যায় না কেন, কেন পথে পথে মিটিং মিছিল হয় না বিষয় গুলো এক পলকে আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল, কারন একটাই, ১৯৬০ সালের "অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা আইন" (Internal Security Act)

জিনিসটার পয়দাকারী মহান ব্রিটিশ প্রশাসক স্যার এডওয়ার্ড জেন্ট। ১৯৪৮ সালে মালেশিয়ান কমিউনিস্ট কমিউনিস্ট পার্টির সসস্ত্র তৎপরতা বন্ধ করতে জেন্ট সাহেব এমার্জেন্সী অর্ডন্যান্স জারি করেন। স্বাধীনতার পর (১৯৬০) এমার্জেন্সী লুপ্ত হলেও মালেশিয়ার সংবিধানের আর্টক্যাল ১৪৯-এ এই অর্ডন্যান্স চিরস্থায়ী হয়ে জেঁকে বসে ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নাম নিয়ে।

আইএসএ-এর সেকশন ৮(১) অনুসারে, স্বরাস্ট্রমন্ত্রী যদি মনে করেন কোন ব্যক্তি দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা, জরুরী সেবা বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি হুমকি স্বরূপ তাহলে বিনা অভিযোগে ও বিচারে তাকে ফাটকে পুরে ফেলা যাবে!!! এবং ফাটকে ঢুকাবার প্রথম ৬০দিন থাকতে হবে incommunicado অবস্থায়!!!! অর্থাৎ এই সময়ে তাকে পুরো জগৎ থেকে আলাদা রাখা হবে, কোন উকিল বা পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার কোন সুযোগ থাকবে না তার।

এই ধরনের আইনকে বলে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন। পৃথিবীর হাতে গোনা যে কয়েকটা দেশের সংবিধান প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন নামক ভয়াবহ ধারনাটিকে লালন করে সোনার মালেশিয়া তাদের একটি।

ডক্টর এম (মাহাথিরকে আদর করে ডাকা হয়) এর শাসনামলে মালেশিয়া খুব ঠান্ডা থাকতো, কারন ভদ্রলোক ঝামেলার গন্ধ পেলেই দুদিন আগে সবাইকে ISA নামক জাদুর কাঠি দিয়ে বশ করতেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাদাওয়ী সাহেব লোক ভালো, তবে কদিন আগে যখন মালেশিয়ান ইন্ডিয়ানরা UMNO সরকারের রেসিস্ট (?) নীতি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন, তখন পটাপট শীর্ষ নেতাদের দুই বছরের ফাটকাদেশে স্বাক্ষর করে কামুন্টিং এর ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেন

মালেশিয়ায় তাই হরতাল হয়না, ভাঙচুর হয়না, হয়না পিকেটিং। চারদিকে শুধু শান্তি আর শান্তি। আসলেই কি তাই? সদাহাস্যোজ্জ্বল রাও এর হঠাৎ হঠাৎ মলিন হয়ে যাওয়া মুখ দেখলে সন্দেহ হয়।

মাঝে মাঝে ভাবতে বসি, কেমন হতো যদি আমাদের সবার মুখ এমন করেই বাঁধা হতো....

(চলবে)

Tuesday, January 8, 2008

একটি যৌনকেলেংকারীর পর...(২)

এরকম একটা সুরসুরি দেওয়া ঘটনার পরে বাংলাদেশের হাটে-মাঠে-ঘাটে প্রচুর রাজনৈতিক গালগল্প চলে, ঝড় ওঠে চায়ের কাপে। কিন্তু KLএর পথেঘাটে এই গসিপ নিয়ে একটা টু শব্দও শুনতে পেলাম না। খটকা লাগলো, ভালো খটকা...

বহুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি এখানে খোলাখুলি কেউ রাজনীতির আলাপ করেনা, প্রসঙ্গ উঠলেও চেপে যায়। বিদেশী তাই কাউকে ফট করে কিছু জিজ্ঞাসাও করতে পারি না। এদিকে কৌতুহলে পেট ফেঁপে যেতে থাকে..

স্মোকিং রুমে তাই ধরে বসলাম রডনীকে। ব্যাটার পূর্বপুরুষ গোয়া থেকে মালেশিয়ায় এসেছিল। চান্স পেলেই মস্করা করতে বসে। এরকম কাউকে জিজ্ঞাসা করলে ধরা খাবার চান্স কম, তাই বলেই বসলাম,
"চুয়া সাহেবের ঘটনা কিরে ভাই?"
রডনী হাসে, আমার পাশে অংচিনের দিকে তাকায় তারপর, বলে, "এমসিএ-র বাচ্চা নেতাকেই জিজ্ঞেস করো না কেন?"

অংচিন পুরোনো দোস্ত, জাতে চাইনিজ, চরিত্রে সাপ। চট করে তার ফর্সা মুখ কালো হয়ে যায়, "হি ওয়াজ ফ্রেইমড.."। অংচিন এর সংক্ষিপ্ত উত্তর। সব মিলিয়ে ছয় বাক্যে এরকম জুসি কাহিনীর ব্যাখ্যা শুনবো সেটা আশা করিনি, তবে অবস্থা সুবিধার না দেখে চেপে যাই।

পুরো বিষয়টা আরো খানিকটা পরিস্কার হল, কিন্তু সেজন্য লাঞ্চের পর আমাকে আরেকবার পেরেন্থিয়ান রুমে যেতে হল বিড়ি খেতে...

অফিসের সব মিটিং রুমগুলো সেরা সব সৈকতের নামে। মার্কেটিং আইটির দখলে যে দুটো ঘর থাকে পেরেন্থিয়ান তাদের একটা। বদমাশ পোলাপান এখানে বিড়ি ফুকে ফুকে একটা অল্টারনেটিভ স্মোকিং রুম বানিয়ে ফেলেছে। সবার সাথে আমিও বসে সেখানে, এমন সময় রাও এসে হাজির। মুরুগেশ রাও জাতে দক্ষিন ভারতীয় মালেশিয়ান, চরিত্রে ফর্সা।

দেখা হলেই সেও খানিকটা তামাশা করার চেষ্টা করে। তামাশা পর্ব শেষ হতেই আমি একবারে বলি,
-"ঘটনা কি রাও? ড. চুয়াকে নিয়ে এতো হাশহাশ কেন?"
-"ইউ বেটার নট টকাবাউট দ্যাট... এন্ড ডোন্ট লুক ফর দ্য ভিডিও..."
-"কেন? এসব নিয়ে কথা বললে সমস্যা কি?"
রাও আমার দিকে চেয়ে হাসে... শুরু হয় ড. চুয়ার গল্প, সেখান আইএসএ আইন, ভোটাধিকার, আনোয়ার ইব্রাহিম...

আমি বিস্ময় নিয়ে শুনতে থাকি! তারপর ভাঙ্গা গলায় নিজের অজান্তে বলি, "হোয়াট দ্যা ফাক!"

(চলবে)

Saturday, January 5, 2008

একটি যৌনকেলেংকারীর পর... (১)

মাত্র দু' সপ্তাহের জন্য দেশে গিয়েছিলাম। যখন ফিরলাম তখন মালেশিয়ায় বহুকিছু ঘটে গেছে! KLIA থেকে বাড়ি ফিরতে এখন মাত্র ২৫মিনিট লাগে, কারন নতুন এক্সপ্রেসওয়েটা তৈরি হয়েছে একদম আমার কন্ডো'র সামনে। সামনের একমাস কোন টোলও দিতে হবে না। তবে এই ঘটনায় তেমন আশ্চর্যান্বিত হবার কিছু নেই, কারন মালেশিয়া সরকারের হাইওয়ে ফেটিশ বেশ পুরোনো, এরা চান্স পেলেই ফ্লাইওভার না হয় এক্সপ্রেসওয়ে বানিয়ে ফেলে..

যাই হোক, নতুন রাস্তা দেখে যতো না মুগ্ধ হয়েছি তার চাইতে অনেক বেশী বিস্মিত হতে হল আমাদের স্বাস্হ্যমন্ত্রীর কেচ্ছা শুনে! ভদ্রলোকের নাম ড. চুয়া সোই লেক। বহুদিন আগে ডাক্তারী ছেড়ে রাজনীতিতে ঢুকেছেন, ৬১ বছর বয়স, জাতে চাইনিজ, দলের নাম MCA। যারা খবর রাখেন, তাদের জানার কথা MCA বা Malaysian Chinese Association মালেশিয়ার ২য় বৃহত্তম দল। বর্তমান সরকার এদের সাথে কোয়ালিশন করে শাসন করছে। ড. চুয়া আবার MCA এর ভাইস প্রেসিডেন্টও!!

এখন ঘটনা হল সবাই যখন নববর্ষের আনন্দে ব্যস্ত, মিডিয়া তখন বোমটা ফাটালো, ড. চুয়ার যৌনকীর্তি নিয়ে নির্মিত পাওয়া যাচ্ছে তারই নির্বাচনী এলাকায়!! একটা নয়, দুটো ডিভিডি, এবং কাহিনী পুরো এক ঘন্টার (হয় জিনসেং টি নাহয় তোংকাত আলী - এর কোন একটা হবেই এই শক্তির উৎস) !

প্রথম প্রথম এই প্রভাবশালী নেতা স্বীকার করলেনই না যে ছবি দেখা ভদ্রলোকটি তিনি। কিন্তু ২রা জানুয়ারী ডাকলেন প্রেস কনফারেন্স। বেশ শান্ত স্বরেই স্বীকার করলেন এই কম্মটি তার। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী আর পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন (তার পরিবার নাকি ক্ষমা করেও দিয়েছে ইতোমধ্যে!)। বললেন তার সঙ্গিনীটি একজন ব্যক্তিগত বন্ধু এবং ঘটনাটি একান্তই ব্যক্তিগত। এবং সবশেষে বললেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদটি তিনি ছাড়বেন না!

ড. চুয়ার ধারনা ছিল প্রধানমন্ত্রী তাকে হয়তো সমর্থন দেবেন। নাহ, হল না মন খারাপ বেচারাকে শেষ পর্যন্ত গদি ছাড়তেই হল। দুর্জনেরা বলে মালেরা এতে বিশেষ খুশি। মালেরা খুশি হোক আর না হোক, এই ডিভিডি বা ভিডিও নিয়ে সরকার বিশেষ তৎপর। কারও কাছে পাওয়া গেলে পিনাল কোডের ২৯২ ধারায় গ্রেপ্তার করে সোজা ফাটকে পুরে দেবার আদেশ আছে!

(তাড়াহুড়ো করে লেখা বলে পোস্টটা ঠিক জাতের হল না, কি আর করা)

Wednesday, December 26, 2007

ঢাকার চিঠি - ০৪

ঢাকায় এখন ভালো মিষ্টি মানেই প্রিমিয়াম সুইটস। আলাউদ্দীন আর বনফুলকে এখন সেকেন্ড গ্রেড বলে ধরা হয়। ঈদের আগের দিন টাকা তুলতে গেছি চার নম্বরে (ধানমন্ডি)। পাশেই দেখি প্রিমিয়ামের দোকান। ভাবলাম শ্বশুরবাড়ির জন্য এক প্যাকেট নেই। একটু পরে মনে হল, স্পঞ্জ রসগোল্লা খাওয়া হয়না বহুদিন, সেটাও নিয়ে ফেলি। হঠাৎ চোখ পড়ল শোকেসে সাজিয়ে রাখা ঘি এর বয়ামগুলোর উপর। শেষে কি মনে করে, এক বয়াম ঘি-ও কিনে ফেললাম।

আমি ঢাকায় তিনবেলাই আলুভর্তা আর ভাত খাই। তো ঘি কেনার পর, এখন ধোঁয়াওঠা ভাতে এক চামচ করে ঘি ঢেলে দেই। এর কি স্বাদ, তা ব্যাখ্যার ধৃষ্টতায় গেলাম না। বাঙালীর এই অমৃতের কথা ফরাসীরা জানলে হয়তো ড্রাম ড্রাম ঘি এয়ার ফ্রান্সের খালি কার্গো বিমানে ভরে নিয়ে পালাতো (বিষ্ণুমুর্তি চুরির পর বেহুদা খালি প্লেন নিয়ে কি লাভ)। ঘি এর বয়ামের দিকে হাত বাড়ালে অবশ্য বাবা কেমন ঘোঁৎ করে আওয়াজ করেন। আমি হাসি আর সুমন চৌধুরীর সিগনেচার আউরে যাই,
"ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ (ঋণ করে হলেও ঘি খাবি, যদ্দিন বাঁচবি সুখে বাঁচবি)"

ঈদের পর দিন বোরিং গেল। হাটতে বেরুলাম। পথে প্রকৃতির ডাক পেয়ে কঠিন বিপদে পড়লাম। বাইরে এ জাতীয় সমস্যার ভালো সমাধান হল ম্যাকডোনল্ডসে ঢুকে পড়া। ঈদের ছুটিতে দোকানপাট বন্ধ। ফলে বাঁচতে হলে জীপার খুলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমার জায়গায় একটা মেয়ে হলে কি হতো কল্পনা করার চেষ্টা করি! ২৭ নম্বরে ন্যান্দোস (Nando's) খুলেছে নতুন। দাঁতে দাঁত চেপে দৌড় দেই সেদিকে।


ন্যান্ডোজ (ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড)
ন্যান্ডোজ (ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড)

নান্দোস আমার পছন্দের জায়গা। ঢাকায় খুলেছে শুনে ভীষন ভালো লেগেছিল। দিলাম অর্ডার করে, কোয়ার্টার চিকেন মিল! খাবার ভালো, কিন্তু দামটা আরও ভালো ৩১০টাকা! মালেশিয়াতেও ঠিক এই দাম। ঢাকার মানুষের পকেট ভারি নাহলে কি করে এমন দাম রাখতে পারে এরা? ভালো লাগলো ওয়েটারদের, সবাই ছাত্র। কেউ পার্ট টাইম, কেউ ফুল টাইম। ভালো ইংরেজী বলে সবাই। কথা হল রমেনের সাথে। জানা গেল একাজে পয়সা আসে ভালোই। তাকে চাকরী পেতে রীতিমতো কয়েকধাপ ইন্টারভিউ নাকি দিতে হয়েছে।

নান্দেসোর ঠিক উল্টো দিকেই এটসেটেরা। আর এটসেটেরার দোতলায় হল দেশের বনেদী কফি শপ, "কফি ওয়ার্ল্ড"। মাসুদ ভাই বলেছিলেন, আমাকে কফিওয়ার্ল্ড আর কজমোতে মানাবে না... কথা ভুল না। নানাবয়সি যুগলের ভীড়ে খানিকটা অস্বস্তিতেই পড়তে হল। তারউপরে বনেদী দোকান, ওয়েটাররা সহজে পাত্তাও দিতে চায় না। দুটো লা'তে খেতে আমার ২৯৯টাকা বের হয়ে গেল।

দেশ যখন এদিকে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে তখন স্টার কাবাবে গিয়ে একটু শান্তি লাগলো। তবে পেটপুরে খেতে গিয়ে (২টা খিরি, ১টা শিক, ১টা ঝাল ফ্রাই, ১টা ব্রেন, ১টা স্প্রাইট, ১টা চা, ২টা বাটার নান) লাগলো ৪০১টাকা। কি বুঝলেন?


দেশে এসে ছবি তোলার অনেক শখ ছিল। পরশু গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। টিএসসিতে হালকা পাতলা কিছু স্ন্যাপ নিয়ে ঢুকলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কেমন বিরান হয়েগেছে। সেই সবুজও নেই, সেই পরিচ্ছন্নভাবটাও উধাও। ঘাসওঠা মাঠে শুয়ে আছে বাস্তুহারা মানুষেরা। একটু এগুতেই চোখে পড়ল বিশাল জলাধার, যার পিছনে এক অসমাপ্ত স্থাপনা। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে যখন পৌছালাম তখন পথ আগলে দাড়াল দুই আনসার।
- "এইটা কি ভাই? কি বানায় এইখানে"
- "এইডা স্বাধীনতা ইস্তমভো.."
- "ঢুকা যাবে না?"
- "না । কাজ শ্যাষ হলে খুলে দেওয়া হবি"
- "কবে শুরু হইছে এইটা বানানো?"
- "আট বচ্ছর, এক পাট্টি শুরু করে, আরেক পাট্টি বোন্দো করে.. এখন কাজ বোন্দো আছে.. ভাই এইডা কি ভিডো ক্যামেরা?"

অযত্ন অবহেলায় অর্ধসমাপ্ত স্বাধীনতা স্তম্ভের টেরাকোটা খচিত দেওয়াল
অযত্ন অবহেলায় অর্ধসমাপ্ত স্বাধীনতা স্তম্ভের টেরাকোটা খচিত দেওয়াল

আমি কথা না বলি খালি চোখে একটু দেখার চেষ্টা করি। এখানে নাকি আন্ডারগ্রাউন্ড জাদুঘর হবে। বিশাল স্তম্ভ হবে, চারপাশ ঘিরে থাকবে জলাশয়.. । টেরোকোটা সজ্জিত উচু দেওয়ালে অলসভাবে বসে আছে কয়েকটা চিল। জলায়শের পানিতে কাপর ধুতে ব্যস্ত গৃহহীণ মানুষেরা। আমাদের প্রাণের গৌরবের প্রতীক সেই স্বাধীনতা স্তম্ভকে এমন পটভূমিতে কল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবেশদ্বারের পাশেই আলু চাষ হচ্ছে। স্বাধীনতায় তো আর পেট ভরে না।
স্বাধীনতায় পেট ভরে না, আলুচাষে ভরে (সোহরাওয়াদী উদ্যান, ২৪/১২/০৭)
স্বাধীনতায় পেট ভরে না, আলুচাষে ভরে (সোহরাওয়াদী উদ্যান, ২৪/১২/০৭)

জলপাই এর পাহারা বাঁচিয়ে ছুঁয়ে ফেলা এক চিলতে শিখা চিরন্তনের আঁচ
জলপাই এর পাহারা বাঁচিয়ে ছুঁয়ে ফেলা এক চিলতে শিখা চিরন্তনের আঁচ


হঠাৎ দূরে দেখি এক চিলতে আগুন, শিখা চিরন্তন। ক্যামেরা নিয়ে ছুটে যাই ছবি তুলতে। পথ আটকায় জলপাই ভ্রাতারা। ঢোকা যাবে না, ছবি তোলা যাবে না। তর্কে যাই না, কি দর্কার প্রকাশ্যে চড়থাপ্পর খেয়ে। শিখা চিরন্তন এর চেয়ে আমার "সম্মান" যে এখন অনেক বেশী জরুরী। এই দেশটাকে মাঝে মাঝে ব্যাখ্যা করা বড় কঠিন হয়ে যায়..


"এই লেইন অতিক্রম সর্ব সাধারনের জন্য নিষিদ্ধ" কেন?
"এই লেইন অতিক্রম সর্ব সাধারনের জন্য নিষিদ্ধ" কেন?

আপনিই বরং সুখে আছেন (অপরাজেয় বাংলা)
আপনিই বরং সুখে আছেন (অপরাজেয় বাংলা)

মনে পড়ে, ভাঁপা পিঠা?
মনে পড়ে, ভাঁপা পিঠা?

শহীদ স্মৃতিসৌধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়শহীদ স্মৃতিসৌধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ব্রিটিশ কাউন্সিল
ব্রিটিশ কাউন্সিল

ছবি তুলতে তুলতে একসময় হাজির হই শহীদ মিনারে। ছোটবেলায় মামার সাথে ছবি তুলতে আসতাম। দুপুর ১টার পর যখন পুলিশ পাহারা উঠে যেত, তখন দেখতাম ববর্র সব যুবক আর কিশোরেরা বেদীমূল থেকে ফুল ছিনিয়ে নিয়ে কি তান্ডবই না চালাতো। এবার গিয়ে প্রথমেই ধাক্কা খেলাম, মিনারের সমানে কিশোরেরা ব্যস্ত সাইকেল রেসিং নিয়ে। প্রচুর মানুষ বেদীমূলে বসে আড্ডারত, জুতো খুলবার বিষয়টা মাথা মনে হয় আসেই না এদের। অনেক হাটায় ক্লান্ত ছিলাম। তাই সিড়িকোনায় বসলাম। এর পরবর্তী ঘটনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কোথা থেকে হাজির হতে শুরু করলো নানা রং এর, নানা মাপের সব ছাগল। দেশের পবিত্রতম সৌধের পাদদেশে চতুষ্পদী এই নির্বোধ প্রাণীদের কি অবাধ বিচরন! কি লজ্জা! কি লজ্জা!

সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য যাচ্ছে কাদের দখলে?
সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য যাচ্ছে কাদের দখলে?

দুর্ভাগা প্রজন্ম
দুর্ভাগা প্রজন্ম

ক্ষমতা আর বিত্তের সিড়ি কারা বেয়ে ওঠে আজ
ক্ষমতা আর বিত্তের সিড়ি কারা বেয়ে ওঠে আজ

মাঝে মাঝে বড় অসহায় লাগে, কি অদ্ভুত ভাবেই না আমাদের চেনা শহরটা ধীরে ধীরে অচেনা হয়ে যায়..

Sunday, December 23, 2007

ঢাকার চিঠি - ০৩

পাখি আমার একলা পাখি - চিল (২১/১২/০৭)
পাখি আমার একলা পাখি - চিল (২১/১২/০৭)

বাংলা মা তার প্রবাসী সন্তানদের দেশে স্বাগত জানানোর ঐতিহ্যবাহী রীতি কোনদিন ভুলবে না। আমার ক্ষেত্রে গতবার ব্যতিক্রম হয়নি, এবারো হল না। আসার ২য় দিনে পেট নেমে গেল, ৩য় দিনে সর্দি, ৪র্থ দিনে কাশি আর শ্বাসকষ্ট। আমার জন্মদাত্রী মা অবশ্য এই ভালোবাসাটা টের পান না, বরং যথাসম্ভব বিচলিত হয়ে যন্ত্রনার সৃষ্টি করেন। মালেশিয়া থেকে প্যানাডল অ্যাক্টিফাস্ট পাঠিয়ে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত যে সেটা আমারই খেতে হবে ধারনা ছিল না।

ঈদের আগের দিন এক কাজিনের সাথে সাথে গভীর রাত পর্যন্ত গালগল্প হল। ভোর ৫টায় ঘুমাতে গেলাম। বাবার হয়তো ক্ষীন আশা ছেলে অন্তত ঈদের নামাজ পড়তে সঙ্গী হবে, কিন্তু যে ছেলে শেষ কবে ঈদের নামাজে গেছে মনে করতে পারে না তার কাছে এমন আশা না করাই শ্রেয়।

ঈদের দিন, অ্যাজ ইউসুয়াল, বোরিং গেল। লম্বা সময় লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমালাম, ইত্যবসরে শরীর ঐতিহ্য মেনে খারাপ হওয়া শুরু করলো।

কেএল-এ থাকলে ঈদের নাটক দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। এবারে ঢাকায় এসে ধাক্কাই খেলাম। BDBangla তে বিজ্ঞাপন ছাড়া দেখে অভ্যেস হয়ে গেছে। কার সহ্য হয় ৩০ মিনিটের নাটকের মাঝে ছয় ছয়টা ৫ মিনিটের কমার্শিয়াল ব্রেক হজম করার! হুমায়ূন ভাই এর নাটকে সবগুলো চ্যানেল সয়লাব। আঙ্কেলের দিন শেষ। উনি বোধহয় SMC এর মতো কম্পিউটারে নাটকের ফর্মূলা ঢুকিয়েছেন, পারমুটেশন কম্বিনেশন করে ছাড়েন কদিন পর পর..

হুআ দাদুর নাটকের চেয়ে মোসা ফারুকীর নাটকগুলো কিঞ্চিৎ উন্নততর, তবে তার কারন নাটকের নাট্যমান নয়, বরং শ্রেফ নির্মানশৈলী। "কবিবলেছেন" দেখে খারাপ লাগেনি। ওয়েল মেড পর্নো দেখেও ভালো লাগে। ফারুকী এ পথে হাটলে কাক্কুর মতো অবস্থা হতে দেরী নাই।

আজকে দুটি অনুষ্ঠান দেখে আমি সোফা থেকে পড়ে গেছি। একটি হল গানের ম্যাগজিন অনুষ্ঠান, দেখাচ্ছিল ইসালামিক টিভিতে। ইসলামী গানে বাদ্যযন্ত্রের ভূমিকা থাকার নিয়ম নেই মনে হয়, এখানেও ব্যতিক্রম নয়। তবে দন্ডায়মান এক ভদ্রলোক (কবি মুজিব মেহেদী দেখলে বিপদ আছে!) যখন পান্দারিক (আরবী পার্কাশন ইন্সট্রুমেন্ট) বাজাতে শুরু করলেন আমি তখন হতবাক, "সাব্বাশ! বাঙ্গালী এখন ড্রামস কিবোর্ড ফেলে পান্দারিক ধরেছে!!"
দি পান্দারিক প্লেয়ার
দি পান্দারিক প্লেয়ার

দ্বিতীয় ঘটনাটা ঘটেছে ঘন্টা তিনেক আগে। চ্যানেল আই-তে হুমায়ূন মামার নাটক হবে, কিন্তু তার পরিচালক কোন এক সময়ের নায়িকা রোজিনা। ভদ্রমহিলা বয়সে আমার খালার সমান। তবে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পরিচালনার কোন গল্প আমার জানা ছিল না। নাটকের নাম "সম্পর্ক"। নাটকটা পুরো দেখতে পারলাম না, ভুদাই ঘুড়া আর সমন্বিত বাঘের ডায়েটে যেতে বাধ্য করলেও পারতাম না। কেন? কি দর্কার বলার। আপনাদের জন্য কিছু অংশ YouTube এ তুলে দিয়েছি। বুঝে নিন কি মাল চলে এখন..





এসব কারনে ঈদের নাটক দেখা বন্ধ করেছি। কেএল গিয়ে সময় নিয়ে দেখা যাবে। না হলে তো সিডি/ডিভিডি আছেই।

মইনুদ্দীনকে নিয়ে মেজাজ খারাপ। সে আমাদের পাইলট। ঢাকায় এসেই লক্ষ্য করলাম সে ৪০ উপরে গাড়ি চালায় না, সেই রহস্য যখন সমাধান হল ততক্ষনে আমার প্রায় হাজার পনের টাকা খরচ হয়ে গেছে গাড়িটার জন্য। গাড়িটাকে যখন একটু সাইজে আনলাম, তখন কাল রাতে গ্যারেজের পিলারের সাথে ধাক্কা মেরে ব্যাটা পিছনের একটা দরজা বসিয়ে দিল (কঠিন ইচ্ছাশক্তি আর গাঁজা না খেলে কাজটা করা খুবই কঠিন)। কারো চাকরী খেতে ভালো লাগেনা, এরটা খেতে হবে। কারন এর আগেও একাধিক ঘটনার নায়ক সে। বাসার গাড়িটার অবস্থা বেশ খারাপ। গাড়ি বদলানো জরুরী। এর হাতে নতুন গাড়ি দেওয়া আর পাশের বাসার বিড়ালটাকে ড্রাইভ করতে বলার মধ্যে তেমন ফারাক নাই। পৃথিবীতে কতো নিষ্ঠুর কাজই না করতে হয়..

যাওযার আগে দুটা পলিটিকাল গসিপ শেয়ার করি। যদিও এখন ঢাকার রাস্তায় গসিপ শোনা খুব কঠিন, (জানের মায়া তো সবারই আছে) তারপরেও সিগারেট কেনার সময় কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করি। যেহেতু গসিপ তাই কান না দেওয়াই ভালো।

১. দৈনিক সংগ্রামের ১৯৭১ সালের সকল আর্কাইভড কপি ধ্বংস করতে নেমেছে একটি রাজনৈতিক দল। যে হারে সব পত্রিকায় সংগ্রাম থেকে রেফারেন্স টানা হচ্ছে তাতে কিছু মানুষ বড় গ্যাঞ্জামে পড়ে গেছেন

২. থাক, এইটা কমু না। কইয়া হুদাই ছ্যাচা খাই আর কি!