Monday, March 23, 2009

মালাক্কায়..

মালাক্কা সম্ভবত মালেশিয়ার একমাত্র্য রাজ্য যার ছিটেফোঁটা কিছু ইতিহাস আছে। পর্তুগীজ, ব্রিটিশ, ডাচ এই তিনের শাসনে থেকে মালাক্কা অনেকটা আলাদা আর সব শহর থেকে। কেএল থেকে সেরেম্বানের রাস্তা ধরে সোজা দক্ষিনে দুঘন্টা গেলেই আয়ার কেরোহ, সেখান থেকে খানিকটা আগালেই মালাক্কা সিটি সেন্টার। এবার নিয়ে এ আমার ৪র্থবার মালাক্কা গমন। কিন্তু কোনবারই খারাপ লাগেনা।

মালাক্কার বাবাননিয়া বলে আলাদা একটা কৃষ্টি আছে। চীনেরা যখন মালাক্কায় এসে স্থানীয়দের বিয়ে করে থিতু হয় তখন তাদের বংশধরেরা এক সংকর কৃষ্টির জন্ম দেয়, যা কিনা পরে বাবাননিয়া নামে পরিচিত। ননিয়া খাবারের খ্যাতি পুরো মালেশিয়া জুড়ে। দ্বিমত করার সুযোগ নেই। এবার গিয়ে সুযোগ হয়েছিল সেরা রেঁস্তরাটায় যাবার, নাম রেস্তোরান ফামোসা। রেস্তোরান ফামোসার প্রধান খ্যাতি চিকেনরাইস বলের জন্য। আমরা যখন হাজির হলাম তখন বিশাল রেস্তোরা গিজগিজ করছে কাস্টমারে। কোনমতে একটা জায়গা দখল করে চিকেন রাইসের সাথে একটা আসাম ফিশ বলে দিলাম, সাথে চিকেন রাইস বল। খাবার চমৎকার ছিল, শুধু চমৎকারই না, কিঞ্চিত ভিন্ন ঘরানারও। তিনজনে পরম তৃপ্তিতে খেয়ে বের হলাম।

রেস্তোরাটার ইন্টিরিয়র সজ্জা ছিল দেখার মতো, খাবার সুযোগ না থাকলে অন্তত দেখার জন্য এখানে ঢুঁ মারতেই হবে।


ফামোসা রেস্তোরা


রেস্তোরার ভেতরে


মালাক্কার রাস্তা


পাহাড়চুড়ায় সেন্ট পলের গীর্জা

Sunday, March 22, 2009

মাইন্‌স সরোবরে

কুয়ালা লুমপুরের জন্ম হয়েছিল টিনের সন্ধানে। শ্রী কেম্বাঙ্গানের যে জায়গাটায় পৃথিবীর সবচে' বড় ওপেন কাস্ট টিনের খনি ছিল সেই জায়গাটা এখন পরিনত হয়েছে লেকে, আর এই লেক ঘিরে গড়ে উঠেছে মাইন্‌স রিসোর্ট সিটি

সাতাশ রিঙ্গিত দিলে এই লেকে নৌকা চেপে চল্লিশ মিনিট ঘোরা যায়। অতিথি সেবার কারনে সেদিন যেতে হল, সন্ধ্যায়। মাইন্‌স মল থেকে নৌকা ছাড়ে। লেক আসলে দুটো, দুটোর পানির আবার দুই উচ্চতা। তাই প্রথমে নৌকা যায় ওয়াটার লকে। ওয়াটার লকে ঢোকার পর মিনিট সাতেক লাগে পানি নামতে। পানামা কানালেও নাকি এমন করেই জাহাজ পার হয়। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার!

নৌকার কাপ্তান আমাদের এক ফাঁকে প্যালেস অফ গোল্ডেন হর্সেস দেখিয়ে আনলেন। দাবী করা হয় এটা নাকি সিক্স স্টার হোটেল। প্যালেস বললে ভুল হয় না। বেশ কবার গিয়েছি, পানাহারও চলেছে, কিন্তু ছয় তারকার ঘটনাটা স্পষ্ট হয়নি। কে জানে কি মার্কেটিং স্ট্যাটেজির চাল এটা!



নৌবিহারের নৌকা!


ওয়াটার লক


প্যালেস অফ গোল্ডেন হর্সেস


মাইন্‌স প্যানোরামা

কাদার শহর (১)

কুয়ালা লুমপুর মানে হল কাদাময় মোহনা। ১৮৫০ সালে ক্লাঙ নৃপতি রাজা আবদুল্লাহ কিছু চীনা শ্রমিক ভাড়া করেন টিনের খনি প্রতিষ্ঠা করতে। এই চীনারা গোম্বাক নদী আর ক্লাঙ নদীর মিলনস্থলে এসে হাজির হয়। গোম্বাক নদীর তখন নাম ছিল সুঙ্গাই লুমপুর, যার অর্থ কাদাময় নদী। সেই থেকে এই শহরের নাম হল পঙকালান লুমপুর। পরে এই নাম বদলে রাখা হয় কুয়ালা লুমপুর বা কাদার মোহনা। ইতিহাস অনুসারে চীনা কাপ্তান ইয়াপ আহ লয় হলেন এই শহরে প্রতিষ্ঠাতা।

আজকে কেএল গ্লোবাল সিটি হলেও, মালায়াতে শহর হিসেবে এর খুব বড় ভূমিকা ছিল না। প্রত্যেক প্রদেশের রাজধানী ছিল। আর জমজমাট শহর হিসেবে সিঙ্গাপুর আর পিনাঙ অনেক বেশী পরিচিত ছিল তখন। ১৮৯৬ সালে কেএল ফেডারেটেড মালায়ার রাজধানী হবার পর থেকে ইতিহাসে এর স্থানটা পোক্ত হওয়া শুরু করে। তাই কেএল এ এসে ইতিহাসের খোঁজ করতে গেলে হতাশ হবার সুযোগটা থেকেই যায়।

সেদিন খেয়াল করলাম পুরোনো কুয়ালা লুমপুরে সামান্য কিছু অংশ এখনও অবশিষ্ট আছে পুডুর দিকে। তাই কাল ক্যামেরা নিয়ে বের হলাম, মারদেকা স্কয়ার আর পুডু এলাকার ছবি তোলা। মারদেকা স্কোয়ারে ব্রিটিশ প্রশাসনিক দপ্তর থাকায় দু'তিনটে বাড়ি এখনও আছে। আর পুডুর দিকে (পেটালিং স্ট্রিট বলাই ভালো) আছে পুরোনো শপহাউস কিছু। খুব ভালো ছবি কিছু হয়নি, কিন্তু এলাকাটা এক্সপ্লোর করা গেছে। আর ক'বার গেলে ভালো কিছু তোলা যেতে পারে।


মারদেকা স্কয়ারের HDR
Merdeka Square, KL

তুন এইচ. এস. লী স্ট্রিট
IMG_4665 copy

নতুন কেএল
IMG_4467_5_6 copy

Saturday, March 21, 2009

শোপাঁর নকটার্ন Op. 9 No. 2

পাশ্চাত্য সঙ্গীতে রাত্রি যেসব কম্পোজিশনের অনুপ্রেরনা, তাদের বলে নকটার্ন। আমার একবার ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শোনার বাতিক হল। এটা শুনি সেটা শুনি। তারপর একদিন বাতিক মিলিয়ে গেল। শুধু মাথায় থেকে গেল প্রিয় কিছু কম্পোজিশন। তাদের একটা হল ফ্রেডেরিক শোপাঁর নকটার্ন Op. 9 No. 2। পোলিশ এই সঙ্গীতকার অসাধারন পিয়ানো বাজাতেন। শোপাঁর কম্পোজিশনগুলো মূলতঃ পিয়ানোনির্ভর, যা বাজাতে নাকি বেশ দক্ষ হাতের দরকার হয়। আমি শখ করে একবার পিয়ানো বাজানো শিখতে শুরু করেছিলাম, অর্থ আর সময়াভাবে ছেড়ে দিতে হয়েছে শেষে। সেই দুইদিনের বিদ্যা দিয়ে শোপাঁর কীর্তি এপ্রিশিয়েট করা সম্ভব নয়। তবে নকটার্ন Op. 9 No. 2 শুনবার জন্য মনে হয় এতো কিছু না জানলেও চলে। মনমেজাজ খারাপ থাকলে শুনতে ভালোই লাগে। মন্দার বাজারে যা দিনকাল, তাতে শোপাঁই এখন ত্রাতা.. অন্তত পৌনে পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও


ক্যামেরন হাইল্যান্ডের চা বাগান

মার্চের ১৪ তারিখে গিয়েছিলাম ক্যামেরন হাইল্যান্ডস্ এ। এই নিয়ে তৃতীয়বার গেলাম। ক্যামেরনের সবচে' আকর্ষনীয় জায়গাগুলোর একটা বোহ টি গার্ডেন। সরু পাহাড়ী রাস্তায় ড্রাইভ করা বিপজ্জনক, কিন্তু পৌছে গেলে শ্রম সার্থক! ক্যামেরনে গেলে র‌্যাফ্লেসিয়া আরনোলডি দেখা যায়। কিন্তু প্রতিবারই সহযাত্রীদের অ্যাডভেঞ্চার অপ্রীতির কারনে সেই শখ আর পূরন হয় না :(

আরেকটা সোনালী সূর্যাস্ত

Another Sunset

বিকালে বাসায় ফিরেই দেখি এই অদ্ভুত দৃশ্য! সোনালী, সব সোনালী! ভাবলাম তুলেই ফেলি.. আমার আবার সাবজেক্টের বড্ড অভাব :(

Friday, March 20, 2009

Raw ইমেজ থেকে সুডো HDR

ফোটোম্যাটিক্সের একটা ফীচার জেনে বেশ মজা পেলাম আজ। সাধারনত HDR করতে তিনটা শট নিতে হয় +২,০,-২ এক্সপোজারে। এক্সপোজার ঠিক থাকলে ফোটোম্যাটিক্স কিন্তু একটা Raw ফাইল থেকেই HDR মার্কা ইমেজ প্রডিউস করতে পারে! বিষয়টা মজার এই কারনে যে ট্রাইপড নিয়ে এখন না দৌড়ালেও চলবে..

Thursday, March 19, 2009

ফোটোব্লগ সংকলন "প্রতিদিনের গল্প"

সচলায়তনে ইবুক বের করার একটা প্র্যাকটিস আছে সেই শুরু থেকেই। ভাবলাম সবার তোলা ছবি নিয়ে ইবুক করলে কেমন হয়। নিজের তোলা ছবির সাথে নিজের লেখা ব্লগ/গল্প/কবিতা। ব্লগ লেখার চলটা উঠে যাচ্ছে, নেটে এখন সবাই সাহিত্য করতে চায়। প্রতিদিনের সাদামাটা গল্প যে কতোটা আগ্রহজাগানিয়া হতে পারে সেটা তুলে ধরার একটা গোপন ধান্দা মাথায় রেখে বইটা করতে গেছি। অনেক বলে কয়ে দুডজন লেখা পাওয়া গেছে। আমার ধারনা সত্যি করে সেগুলো আসলেই অনেক মনকাড়া হয়ে হাজির হয়েছে। আসলে সবাই ভালো ছবি তোলে, ভালো লেখে। শুধু কারোও উদ্যামটা নাই, কারো মনে কেবলই সংকোচ!
যাই হোক, শেষমেষ বইটা দেখতেপড়তে মন্দ হয়নি, থ্যাংক্স টু নজমুল আলবাব। তিনি লেখা আর গেটআপ না দেখে দিলে আমারও বড় সংকোচ হতো..

ডাউনলোড লিংক

পুনশ্চঃ অ্যাডোবি অ্যাক্রোব্যাট ছাড়া বই করা সম্ভব হচ্ছিল না, খোঁজ দেবার জন্য অমিত আহমদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা

লোকমানের বাইসাইকেল


লোকমানের গল্প শুনি হুমায়ূন আহমেদের "পাখি আমার একলা পাখি" পড়তে গিয়ে। উপন্যাসটা যে খুব ভালো ছিল তা নয়, কিন্তু লোকমানের বাইসাইকেল আর রূপার ফর্সা পা মাথায় ঢুকে গেল। সফিকের উপন্যাসের নায়ক লোকমান। রাতবিরেতে সে সাইকেল নিয়ে বের হয়ে যায়। প্রিয় সাইকেলের সাথে চলে তার নানা দার্শনিক আলোচনা। লোকমান জানতে চায়, "পথের শেষ কোথায়?"
টুনটুন ঘন্টা বাজিয়ে সাইকেল জবাব দেয়, "পথের শুরুতেই তার সমাপ্তি"।

আমার বাইসাইকেল নাই। বারোশ' সিসির প্রোটোন স্যাভি নীরবে চলতে থাকে মসৃন হাইওয়ে ধরে। স্টিয়ারিং ধরে আমার ভীষন লোকমান হতে ইচ্ছা করে। সামনে দিনকাল খারাপ, গাড়িটা বেচে দিতে হবে তাড়াতাড়ি..

প্রতিদিন ঘরে ফেরার আগে একবার তাকাই আমার "সাইকেল"টার দিকে
কতো অর্থহীন বিষয়ের জন্যই না আমরা ভালোবাসা পুষে রাখি..

Tuesday, March 17, 2009

HDR নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট

লোকজনের HDR দেখে বড় কষ্টে আছি! কোন একটা কারনে আমার করা HDR ছবিগুলো জাতের হচ্ছে না। আজকে অনেক ঘাটাঘাটি করে ইচ্ছা হল ফোটোশপ দিয়ে একটা "টেরাই" দেই। ফলাফল খারাপ হয়নি। ফোটোশপের চেয়ে ফোটোম্যাটিক্স প্রো ভালো হলেও নীচের HDR ছবিটা ফোটোশপেই ভালো হয়েছে মনে হচ্ছে..



হাত ভাঙ্গা সেন্ট জেভিয়ারের মূর্তি, তোলা মালাক্কার সেন্ট পলস্ চার্চে (১৫/০৩/০৯)